এক দিনে আরও ২৫ মৃত্যু, শনাক্ত ১৩১৮

আগের সংবাদ

২০২২ সালে পদ্মা সেতু দিয়ে যান চলবে: কাদের

পরের সংবাদ

সিংগাইরে গ্রাহকদের ১০ লক্ষাধিক টাকা নিয়ে হায় হায় কোম্পানি উধাও

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৮, ২০২০ , ৪:১১ অপরাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ১৮, ২০২০ , ৪:১১ অপরাহ্ণ

মানিকগঞ্জের সিংগাইর পৌর এলাকার গোবিন্দল নতুন বাজার বাসস্ট্যান্ড মহল্লা হতে গ্রাহকের প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়েছে একটি হায় হায় কোম্পানি। ওই কোম্পানীর নাম ব্যবসায়ী সঞ্চয় সমিতি গাজী গ্রুপ।

জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা পরিচয়ে দু’ব্যক্তি চলতি মাসের শুরুতে ওই মহল্লার আব্দুস ছাত্তারের বাড়ির দ্বিতীয় তলা ভাড়া নেয়। এরপর একটি জরুরী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ছাত্তারের কলেজ পড়ুয়া বোন ঝর্না আক্তারকে সাথে নিয়ে প্রাইভেটকার যোগে (ঢাকা মেট্রো-গ-২৯-০৭৮৩) ঋন কার্যক্রমের প্রচারণা চালায়। পাশাপাশি জরুরী ভিত্তিতে মোটা অংকের ঋন দেয়ার নাম করে প্রায় ৫০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে জনপ্রতি ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেয়। ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, বাড়ির মালিক আব্দুস ছাত্তার ও তার বোন ঝর্না আক্তারের যোগসাজশে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সদস্য সংগ্রহ করেন । সঞ্চয় জমা ও ঋণ বিতরণের তারিখ ১১ ডিসেম্বর নির্ধারণ করে তারা আগের দিন উধাও হয়। গ্রাহকরা নির্ধারিত তারিখে ঋন নেয়ার জন্য অফিসে গেলে তালাবদ্ধ দেখতে পায়। এ সময় বাড়ির মালিকপক্ষ থেকে জানানো হয় তারা আগের দিন পালিয়ে গেছে।

গোবিন্দল ভোর বাজার এলাকার ভুক্তভোগী গ্রাহক কুলসুম জানান, তাদের স্বামী-স্ত্রীর কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা ঋণ দেয়ার কথা বলে ঝর্না আক্তারের উপস্থিতিতে ৫০ হাজার টাকা সঞ্চয় হাতিয়ে নেয়। অনুরুপ অভিযোগ করেন, ধল্লা ইউনিয়নের বাস্তা গ্রামের মনোয়ার হোসেন , দলিল উদ্দিন, গোবিন্দল গ্রামের আল আমীন, ইফাজুদ্দিন, সাহানা ও ছালমাসহ অনেকেই। এ ঘটনায় গ্রাহকদের পক্ষ থেকে জয়মন্টপ ইউনিয়নের পশ্চিম ভাকুম গ্রামের কাশেম মোল্লার পুত্র মহিউদ্দিন মোল্লা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগকারী মহিউদ্দিন জানান, আমি ও আমার গ্রামের ৪ জনের কাছ থেকে ঝর্না আক্তার কোম্পানীর দু’কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ১ লাখ টাকা নেন। তিনি আরো জানান, এ রকম অনেকের কাছ থেকেই ঋণ দেয়ার নাম করে টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) হায় হায় কোম্পানীর অফিসে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। সাংবাদিক এসেছে এমন খবরে ২০ জনের অধিক গ্রাহক তাদের পাশ বই নিয়ে উপস্থিত হন। ভুক্তভোগীরা বাড়ির মালিকের যোগসাজশ আছে বলে অভিযোগ করেন গ্রাহকরা। কিন্তু তা প্রত্যাখ্যান করেন ছাত্তারের বোন অভিযুক্ত ক্যাশিয়ার পদধারী ঝর্না আক্তার।

তিনি একজন পুলিশ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মোবাইল ফোন ধরিয়ে দিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করতে অনুরোধ জানান। ঝর্ণা আক্তার বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়াই ১ সপ্তাহ আগে বাড়ি ভাড়া নিয়ে তারা ১০ ডিসেম্বর পালিয়ে যান।

এ ব্যাপারে সিংগাইর থানার ওসি রকিবুজ্জামান বলেন, দলবদ্ধভাবে থানায় লোকজন এসেছিল, তাদেরকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এমআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়