বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের প্রতিবাদে সুদানে ফর্মড পুলিশের র‌্যালি

আগের সংবাদ

পারমিতার জগৎ

পরের সংবাদ

জিসান খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৯

ধরা পড়লেই মুরুব্বী বেশে ভিড়ে ঢুকে তারা

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৭, ২০২০ , ৮:৫৬ অপরাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ১৭, ২০২০ , ৮:৫৬ অপরাহ্ণ

এ চক্রের সদস্যরা দুটি ভাগে ভাগ হয়ে ছিনতাই কাজ সম্পন্ন করে। একদল মূল কাজটি করে। টার্গেটের কাছ থেকে মালামাল ছিনিয়ে নেয়। অন্য দলটি আশ-পাশেই অবস্থান করে লক্ষ্য রাখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোন সদস্যরা আশপাশে আসছে কিনা।। তবে এর মধ্যেই দলের কেউ যদি ছিনতাই করতে গিয়ে জনতার হাতে ধরা পড়ে তাদের রক্ষায় মুরব্বী সেজে ঘটনাস্থলে প্রবেশ করে ছাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টাও করে তারা। এ চক্রের সদস্যরা একত্রে টঙ্গী ও আব্দুল্লাহপুর এলাকায় ছিনতাই করে থাকে। গ্রেপ্তার সবার বিরুদ্ধেই ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন থানায় চুরি, মাদক ও ছিনতাইসহ একাধিক মামলা রয়েছে। রাজধানীর উত্তরা আব্দুল্লাহপুর এলাকায় ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে কলেজছাত্র জিসান হাবিব (১৮) হত্যা মামলার ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বৃহস্পতিবার এসব তথ্য জানান উত্তরা জোনের উপকমিশনার (ডিসি) মো: শহিদুল্লাহ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- সুন্দরী সুমন, স্বপন, মো. বিপ্লব, তৈয়ব আলী ওরফে উজ্জল ওরফে তবলা ওরফে বাবলা, মো. জাহাঙ্গীর ব্যাপারী ওরফে হৃদয়, মো. তানভীর রহমান নেহাল, মো. জিহাদ, নূরুল ইসলাম রাব্বি ও মো. রাকিব।

এর আগে গত ৯ ডিসেম্বর রুহুল আমিন নামের এক আত্মীয়ের সঙ্গে ক্লাসিক পরিবহনের একটি বাসে করে নবীনগর ফিরছিলেন নোয়াখালী সোনাইমুড়ী খলিলুর রহমান ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র জিসান হাবিব। বাসটি আবদুল্লাহপুর এলাকায় পৌঁছালে জানালা দিয়ে এক ছিনতাইকারী ভিকটিমের মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় দ্রুত বাস থেকে নেমে দৌড়ে ছিনতাইকারীকে ধরে ফেলেন তিনি। তখন আত্মীয় রুহুলও বাস থেকে নেমে সেখানে যান। এরপর তারা দুজন ছিনতাইকারীর কাছ থেকে মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করতে গেলে পেছন থেকে অপর দুইজন ছিনতাইকারী এসে জিসান ও রুহুলকে এলোপাতাড়ি চুরিকাঘাত ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে আহত দুজনকে চিকিৎসার জন্য শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জিসানকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি রুজু হয়।

ডিসি মো: শহিদুল্লাহ বলেন, মামলা হওয়ার পর থেকেই গুরুত্বসহকারে বিষয়টি আমরা তদন্ত শুরু করি। এরই ধারাবাহিকতায় তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় গত ১২ ডিসেম্বর উত্তরা ও টঙ্গী এলাকা থেকে সুন্দরী সুমন ও স্বপনকে আটক করে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়। তাদের রিমাণ্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নরসিংদীর রায়পুরা থানার বাঘাইকান্দী চর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত মো. বিপ্লব ও তৈয়ব আলীকে ও উত্তরা এবং টঙ্গী এলাকা থেকে ঘটনায় জড়িত মো. জাহাঙ্গীর ব্যাপারী, মো. তানভীর রহমান নেহাল, মো. জিহাদ, নূরুল ইসলাম রাব্বি ও মো. রাকিবকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কবির ও নাতি সোহাগ পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এমআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়