জামিন পেয়েও কারাগারেই থাকতে হচ্ছে সাবরিনাকে

আগের সংবাদ

মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রয়ের দায়ে ৬ দোকানকে জরিমানা

পরের সংবাদ

‘আমরা দেখলাম ভয়াবহ সব গণহত্যা’

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৩, ২০২০ , ৯:০৪ অপরাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ১৩, ২০২০ , ৯:০৭ অপরাহ্ণ

প্রচলিত গণ্ডির বাইরে গিয়ে ভিন্ন ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন এমন নির্মাতাদের একজন তানভীর মোকাম্মেল। গতকাল মুক্তি পেয়েছে তার পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘রূপসা নদীর বাঁকে’। এ চলচ্চিত্রে তিনি তুলে ধরেছেন একজন আদর্শ বামপন্থি রাজনীতিবিদের সংগ্রামী জীবন। ঢাকার বেশকিছু প্রেক্ষাগৃহে চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনী চলছে। ব্যক্তি জীবনের অভিজ্ঞতা ও চলচ্চিত্র সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে মেলা’র সঙ্গে কথা বলেছেন এ নির্মাতা। সাক্ষাৎকার রাব্বানী রাব্বি

ধন্যবাদ।
এই সিনেমায় একজন বামপন্থি নেতার জীবন-কাহিনী তুলে ধরেছেন, যাকে একাত্তরে হত্যা করা হয়েছিল। কেন মনে হলো এ ধরনের বিষয়বস্তু সিনেমায় তুলে ধরা প্রয়োজন?
এ দেশে সামাজিক ন্যায়বিচার, সাম্যের ধারণা, গণতন্ত্র ও বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশে বামপন্থিদের বিশাল অবদান ছিল। কিন্তু যেহেতু বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতার বলয়ে ও কর্পোরেট মিডিয়ায় বামপন্থিদের তেমন অবস্থান নেই, ফলে তাদের কথা তেমন বলা হয় না। সে কারণেই আমি একজন ত্যাগী কমরেডের জীবনের মাধ্যমে বাংলাদেশের বামপন্থিদের অবদানের কথাটা তুলে ধরতে চেয়েছি।
বর্তমান সময়ে আমাদের দেশে সিনেমা নির্মাণ করতে গেলে আপনার কাছে যে বিষয়গুলো প্রতিবন্ধক বলে মনে হয় সেগুলো নিয়ে যদি কিছু বলেন?
প্রতিবন্ধক তো অনেক। বাংলাদেশে যারা সিনেমা শিল্পের চর্চার সঙ্গে জড়িত তাদের আধুনিক চলচ্চিত্রের ভাষা সম্পর্কে জ্ঞানের অভাব রয়েছে, বিশেষ করে বাণিজ্যিক ঘরানায় যারা ছবি করেন। এছাড়া বাংলাদেশ প্রযুক্তিতেও বেশ পিছিয়ে আছে। অভিনেতা-অভিনেত্রীরা হয়তো ভালো, যিনি আধুনিক চলচ্চিত্রের ভাষাটি জানেন, এমন সৃজনশীল পরিচালকের সংখ্যা বেশ কম। তাছাড়া অভাব আছে ভালো প্রযোজকের যারা শিল্পসম্মত চলচ্চিত্রকে পৃষ্ঠপোষকতা করবেন। নেই-ই বলা চলে। আর এখন তো চলচ্চিত্র প্রদর্শনও এক সমস্যা। শত শত সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সিনেমা শিল্পটা এখন সত্যিকারের এক সংকটের মধ্যেই রয়েছে।
একটু অন্য প্রসঙ্গে যাই, মুক্তিযুদ্ধের সময়ে আপনার বয়স কত ছিল? সে সময়কার যে স্মৃতিগুলো এখনো চোখে ভেসে ওঠে সেগুলো নিয়ে কিছু বলেন?
আমি তখন সদ্য কৈশোরোত্তীর্ণ এক তরুণ যে বয়সে মানুষের মন সবচেয়ে তীক্ষèভাবে সংবেদনশীল থাকে। সে বয়সেই আমরা দেখলাম ভয়াবহ সব গণহত্যা, নারী নিপীড়ন, সংখ্যালঘুদের প্রতি অত্যাচার, শরণার্থীদের কষ্টকর জীবন, পাকিস্তানি সৈন্য ও রাজাকার-আলবদরদের জঘন্যতম সব নৃশংসতা এবং একই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ, তিতিক্ষা ও দেশপ্রেম। এসবই আমার তরুণ মনে খুবই বড় রকম অভিঘাত ফেলেছিল। একাত্তরের সেই করাল দিনগুলো নিয়ে আমার অনেক স্মৃতিই আছে। আর সেসব স্মৃতিই খুব দুঃখ ও বেদনার। তবে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশ মুক্ত হওয়া পর্যন্ত স্মৃতিগুলো আবার খুবই রোমাঞ্চকর ও আনন্দের।
কখন মনে হয়েছিল যে, ‘হ্যাঁ, আমি সিনেমা নির্মাণ করব’?
এখন শুনলে হয়তো অদ্ভুত মনে হবে যে আমি যখন এগারো-বারো বছরের বালক, ক্লাস সিক্সের ছাত্র, তখনই আমি ভেবেছিলাম যে পূর্ববঙ্গের হিন্দুদের দেশত্যাগের বেদনা নিয়ে আমি একটা ছবি তৈরি করব আর সে ছবিটার নাম দেব ‘চিত্রা নদীর পারে’। তবে বাস্তবসম্মতভাবে সিনেমা তৈরি করার কথা ভাবি যখন আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং ফিল্ম সোসাইটি আন্দোলন করি।
‘লালসালু’ সিনেমায় কুসংস্কার ও গোঁড়ামির মতো বিষয় উঠে এসেছে। সিনেমাটি নির্মাণের আজ প্রায় উনিশ বছর হয়ে গেল। আমাদের সমাজব্যবস্থা এ ধরনের গোঁড়ামি-কুসংস্কার থেকে কতটা বেরিয়ে আসতে পেরেছে বলে আপনার মনে হয়?
খুব একটা পারেনি। এটা খুবই দুঃখজনক। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘লালসালু’ উপন্যাসটি লেখা হয়েছিল ১৯৪৮ সালে। আমি ‘লালসালু’ ছবিটি করেছি ২০০১ সালে। কিন্তু আজ এত বছর ধরেও বাঙালি মুসলমান সমাজ থেকে ধর্মীয় কুসংস্কার ও অদৃষ্টবাদ তেমন দূর হয়নি। বরং বেড়েছে। আর এর জন্য দায়ী আমাদের শাসকশ্রেণিগুলো। তারা রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে ও থাকতে খুব আগ্রহী, কারণ ওখানে অনেক মধু আছে। কিন্তু সমাজটাকে তারা আবার ছেড়ে দিয়েছে অশিক্ষিত ও কুশিক্ষিত মোল্লাদের হাতে। এ যুগের মজিদদের হাতে। আর ওয়াজের নামে তারা নারী জাতির বিরুদ্ধে, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে যা-তা বলে সমাজটাকে ক্রমশই কলুষিত করছে, পিছিয়ে দিচ্ছে। না, ‘লালসালু’র যুগ থেকে বাঙালি মুসলমান সমাজ, বিশেষ করে গ্রামীণ সমাজ খুব বেশি এগোতে পারেনি।
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ডকুমেন্টারি নির্মাণ প্রক্রিয়া কতদূর এগিয়েছে?
অনেকটাই। শুটিং প্রায় শেষ হয়েছে। ঢাকা সেনানিবাসের ভেতরে যেখানে বঙ্গবন্ধুকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সময় ও পঁচিশে মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করার পর আটকে রাখা হয়েছিল, এ দুই জায়গার শুটিং করলে ছবিটির শুটিং শেষ হবে। এরপর আমরা ছবিটার চ‚ড়ান্ত সম্পাদনার কাজে বসব।
কোনো একটি গল্প বা ভাবনাকে যখন সিনেমার বদলে ডকুমেন্টারি আকারে দেখাতে চান, তা কীভাবে নির্ধারণ করেন যে এ বিষয়টি নিয়ে আমি সিনেমা নির্মাণ না করে ডকুমেন্টারি নির্মাণ করব?
যখন কোনো বিষয়বস্তু নিয়ে ছবি করার কথা ভাবি তখন আমি বুঝতে পারি কোন বিষয়টা কাহিনীচিত্রের জন্য ভালো হবে, আর কোন বিষয়টা ডকুমেন্টারি ছবির জন্য ভালো হবে। ডকুমেন্টারি ছবির জন্য প্রচুর গবেষণা করতে হয়। যত ভালো গবেষণা, তত ভালো ছবি।
আবার এমনো হয়েছে যে একই বিষয় নিয়ে আমি একটা ডকুমেন্টারি ছবিও করেছি, আবার কাহিনীচিত্রও করেছি। যেমন লালন ফকিরকে নিয়ে আমি ‘অচিন পাখী’ নামে একটা প্রামাণ্যচিত্র করেছিলাম, পরে লালনকে নিয়ে ‘লালন’ নামে আমি একটা পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনীচিত্রও তৈরি করি। আর ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তো আমার একাধিক প্রামাণ্যচিত্র রয়েছেÑ ‘১৯৭১’, ‘স্মৃতি ’৭১’।
আবার কাহিনীচিত্রও রয়েছে বেশ কয়েকটা ‘নদীর নাম মধুমতী’, ‘রাবেয়া’, ‘জীবনঢুলী’ ও কিছুটা ‘রূপসা নদীর বাঁকে’ও। এটা নির্ধারিত হয় একেবারেই ওই বিশেষ বিষয়বস্তুটি অনুযায়ী।

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়