অনার্স শিক্ষার্থীরাও বিসিএসে অংশ নিতে পারবেন, তবে...

আগের সংবাদ

দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আড়াইশ আসামির বিরুদ্ধে দুই মামলা

পরের সংবাদ

পাহাড় ডিঙিয়ে বরিশালকে জেতালেন ইমন

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৮, ২০২০ , ৬:০৭ অপরাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ৮, ২০২০ , ১০:২২ অপরাহ্ণ

মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার টি- টোয়েন্টি ক্রিকেটের প্রকৃত রুপ উপভোগ করার সুযোগ পেয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীরা। নাজমুল হোসেন শান্ত ও পারভেজ হোসেন ইমন যে ব্যাটিংটা করলেন তা অনেক দিন দর্শকদের স্মরণে থাকবে। ৫৫ বলে ১০৯ রান করে মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহীকে ২২০ রানের পাহাড়সম ইনিংস এনে দিয়েছিলেন শান্ত। চ্যালেঞ্জের জবার দিতে নেমে ১১ বল হাতে রেখেই সেই রান তাড়া করে জিতেছে ফরচুন বরিশাল। ইমন দলটির হয়ে ওপেনিংয়ে নেমে মাত্র ৪২ বলে করেছেন সেঞ্চুরি।

একই ম্যাচে দুই তরুণের নান্দনিক দুই সেঞ্চুরি। এর চেয়ে ভালো ব্যাটিং বিনোদন আর কি হতে পারে। রাজশাহী প্রথমে ব্যাটিং করে ২২০ রান তুললে মনে হচ্ছিল ম্যাচটা সেখানেই শেষ। মিরপুরের উইকেটে টি-টোয়েন্টিতে এতো রান তাড়া করে জেতা সম্ভব নাকি! তাছাড়া বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের পুরোটা জুড়েই রান তুলতে সংগ্রাম করতে হচ্ছে ব্যাটসম্যানদের। এর আগে দু’শর আশেপাশেও যেতে পারেনি কোনো দল।

ইমনের তারুণ্য কিছু সুন্দরভাবেই না সেই ভাবনাকে মিথ্যা প্রমাণ করল। শুরুটা করেছিলেন তামিম ইকবাল। সাইফ হাসানকে নিয়ে ওপেনিংয়ে ভালো একটা শুরু এনে দেন বরিশালের অধিনায়ক। সাইফ ১৫ বলে ২টি করে চার-ছয়ে ২৭ রান করে ফিরলে উইকেটে আসেন ইমন।

এলেন, খেললেন এবং পাহাড় ডিঙিয়ে বরিশালকে জেতালেন। তামিমও চালিয়ে খেলছিলেন, কিন্তু পুরো ইনিংসজুড়ে ইমন ছাড়িয়ে গেছেন সবাইকে। হাফ সেঞ্চুরি ছুয়েছেন মাত্র ২৫ বলে। পরের ৫০ রান করতে লেগেছে মাত্র ১৭ বল। তামিম ৩৭ বলে ৫৩ করে ফেরার পর আফিফ হোসেন ধ্রুব শেষ দিকে যেভাবে খেলছিলেন মনে হচ্ছিল ইমনের সেঞ্চুরি বুঝি আর হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত সেঞ্চুরিও করেছেন ১৮ বছর বয়সী তরুণ। নান্দনিক সেঞ্চুরির সুবাদে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন ইমন।

তার ৪২ বলে ১০০ রানের ইনিংসটিতে চার ৯টি, ছক্কা ৭টি। অপর দিকে ১৬ বলে ২৬ রানে অপরাজিত ছিলেন আফিফ। বরিশাল জয়ের জন্য ২২১ রান তুলে ফেলেছে ১৮.১ ওভারেই। এর আগে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে হঠাৎ অশান্ত হয়ে উঠে নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাট। মাঠের চারদিকে দৃষ্টিনন্দন সব ছক্কাবৃষ্টি করে সেঞ্চুরি পূরণ করেছেন রাজশাহীর এই অধিনায়ক। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের প্রথম সেঞ্চুরিটা আসে তার ব্যাট থেকে। ৫২ বলে ৪ চার ও ১০ ছক্কায় নাজমুল নিজের টি- টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন।

নাজমুল সেঞ্চুরি উদযাপন করার মুহূর্তেও ছিলেন আগ্রাসী ভঙ্গিমায়। ডিপ মিড উইকেটে তাসকিন আহমেদকে বিশাল ছক্কা মারার পর ড্রেসিংরুমের দিকে ফিরে পেশীবহুল হাত দেখাতে দেখা যায় রাজশাহীর অধিনায়ককে। যদিও সেঞ্চুরির পর খুব বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি। ৫৫ বলে ১১ ছক্কা ও ৪ চারে নাজমুল শেষ পর্যন্ত থামেন ১০৯ রানে। কামরুল ইসলামের একটি বল কভারে খেলতে গিয়ে তামিমের হাতে তালুবন্দি হন তিনি।

আউট হওয়ার আগে অবশ্য ছক্কা বৃষ্টিতে তামিম ইকবালকে ছুঁয়েছেন নাজমুল। ২০১৯ সালের বিপিএলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে ১৪১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে চ্যাম্পিয়ন করিয়েছিলেন তামিম। ওই সেঞ্চুরি করতে মেরেছিলেন ১১টি ছক্কা। মঙ্গলবার নাজমুলও অভিজ্ঞ এই ওপেনারকে ছুঁয়েছেন সমান ১১টি ছক্কা মেরে। সম সংখ্যক ছক্কায় সাজিয়েছেন নিজের ১০৯ রানের ইনিংসটি। শুধু তাই নয়, কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে এতোদিন একাধিক সেঞ্চুরি ছিল কেবল তামিমের। মঙ্গলবার সেখানেও তামিমের সঙ্গী হয়েছেন নাজমুল।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়