আমদানি লাইসেন্স দিলেও থামেনি স্বর্ণ চোরাচালান

আগের সংবাদ

সনদ আছে, স্বীকৃতি নেই

পরের সংবাদ

রাজশাহীতে বিপিসির কারসাজি

অপর্যাপ্ত তেলে হুমকির মুখে লাখো কৃষক

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৭, ২০২০ , ৯:৪০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ৭, ২০২০ , ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ

রাজশাহী ও নাটোরে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল সরবরাহ না হওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছেন লক্ষাধিক কৃষক। আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন এখানকার এজেন্ট, ডিলার ও ডিস্ট্রিবিউটররা। রাজশাহীর জন্য বরাদ্দ করা ডিজেল রহস্যজনকভাবে অন্যত্র পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তেল সরবরাহকারী তিন প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল করপোরেশনের বিরুদ্ধে। ফলে বাধ্য হয়ে অন্য জায়গা থেকে তেল এনে চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে বেশ জটিলতায় পড়ছেন ডিলাররা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীর মোট ৪ লাখ ৭ হাজার কৃষকের বিপরীতে গভীর ও অগভীর নলক‚প সংখ্যা ৩৬ হাজার ১৫৪টি। এর মধ্যে চালু রয়েছে ২৬ হাজার ৯৭৫টি নলকূপ। জেলায় মোট ২০ হাজার ৯২৮টি শ্যালো ইঞ্জিনচালিত সেচযন্ত্রের মধ্যে ডিজেলচালিত সেচযন্ত্র ১৯ হাজার ৭৫৭টি। সূত্র জানায়, গত বছর অগভীর নলক‚পের আওতায় রাজশাহীর ৪৬ হাজার ১৪৭ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করা হয়। এতে প্রায় ৫৯ হাজার ২৭১ জন কৃষক কাক্সিক্ষত ফসল ফলাতে সক্ষম হন। সূত্র আরো জানায়, জেলার প্রায় ৩ হাজার গভীর নলক‚পের মধ্যে ডিজেলচালিত ২৪৬টি নলক‚প থেকে ৭৩০ জন কৃষক চাষাবাদ করে থাকেন। তবে এ বছর তেল সরবরাহ না থাকায় এসব নলক‚প বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে শীত মৌসুমে হুমকির মুখে পড়েছেন রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁসহ বরেন্দ্র অঞ্চলের সবজি চাষিসহ লক্ষাধিক কৃষক।
জানা গেছে, প্রতি সপ্তাহে খুলনা থেকে রাজশাহী ও নাটোর ডিপোতে ১ রেকে (৩০ ওয়াগন) ১০ লাখ লিটার তেল সরবরাহ করা হতো। কিন্তু বর্তমানে সেটি ঠিকমতো সরবরাহ না করে পার্বতীপুর ডিপোতে পাঠানো হচ্ছে। অথচ পার্বতীপুরের জন্য ৪টি রেক (১২০ ওয়াগন) বরাদ্দ রয়েছে। তবুও গত ২ মাস ধরে বিপিসি এখানকার তেল অন্যত্র পাঠিয়ে দিচ্ছে। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন এখানকার জ্বালানি ব্যবসায়ী ও শ্যালো ইঞ্জিননির্ভর চাষিরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী ও নাটোরে প্রতি সপ্তাহে ১০ লাখ লিটার ডিজেল সরবরাহ হয়। পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান ১০ লাখ লিটার করে এ জ্বালানি সরবরাহ করে থাকে।

একবার রাজশাহীতে, পরেরবার নাটোরে। এভাবে সমন্বয় করে ডিজেল সরবরাহ করা হলেও এখন তা ঠিকমতো সাপ্লাই দেয়া হচ্ছে না।
এজেন্ট, ডিলার ও ডিস্ট্রিবিউটররা জানান, রহস্যজনক কারণে বিপিসি তাদের সঙ্গে প্রতারণামূলক আচরণ করছেন। এ অঞ্চলে চাহিদা থাকার পরও ঠিকমতো সরবরাহ না হওয়ায় চরম জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তারা জানান, ৩০ ওয়াগন তেলই তাদের জন্য অপর্যাপ্ত। তেল সরবরাহের পরিমাণ না বাড়িয়ে উল্টো এই তেল অন্য ডিপোতে চলে যাচ্ছে। এতে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা। তবে তেলের ঘাটতিজনিত কারণে পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল সরবরাহ করা যাচ্ছে না বলে প্রতিষ্ঠানগুলো দাবি করেছে। যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের কর্মকর্তা আবুল বাশার বলেন, রাজশাহীর তেলবাহী ওয়াগন পার্বতীপুর যায় এটা সঠিক। তবে বিপিসি যেভাবে তেল সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, সেভাবেই সরবরাহ করতে হচ্ছে। এখানে আমাদের কিছু করার নেই।
এ বিষয়ে উত্তরাঞ্চল বিপিসির সাপ্লাই এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন বিভাগের এজিএম আনোয়ার হোসেন জানান, তেলের ঘাটতি থাকায় ঠিকমতো সরবরাহ করা যাচ্ছে না। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও এটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখভাল করছে। তেলের সংকট কাটিয়ে শিগগিরই চাহিদা মতো ডিজেল সরবরাহ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়