ফের ব্যর্থ সাকিব

আগের সংবাদ

পরিষদের নামে ফেসবুকে মিথ্যাচার করা হচ্ছে

পরের সংবাদ

মেঘনায় ৫ বছরে দেড় শতাধিক জেলে নিখোঁজ

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৬, ২০২০ , ১০:১৬ অপরাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ৬, ২০২০ , ১০:২২ অপরাহ্ণ

নিখোজ হওয়া জেলেদের বেশির ভাগ পরিবার কাটাচ্ছে মানবেতর জীবন। দু:চিন্তায় দিন কাটায় জেলে পরিবারের সদস্যরা। স্বজনদের দাবি, এতদিনেও খোঁজ দিতে পারেনি প্রশাসন। পাননি কোন ক্ষতিপূরণ। তবে জেলেদের সঠিক কোন তথ্য না থাকলেও বিষয়টি খতিয়ে দেখে তালিকা তৈরির কার্যক্রম হাতে নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। গেল ৫ বছরে প্রায় দেড় শতাধিক জেলে মেঘনায় মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, লক্ষ্মীপুরের রামগতির সোনালী গ্রামের আমির হোসেন। একটি জরাজীর্ণ ঘরের মধ্যে ছেলে শরীফ হোসেনের ছবি নিয়ে কাঁদছে। পরিবারের ১৮ সদস্যকে হারিয়ে পরিবারের অন্য সদস্যরাও পাগল প্রায়। কি করবে, কোথায় যাবে। এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোন সহায়তা পাননি।

আমির হোসেন জানান, পরিবারের ১৮ জন সদস্যকে হারিয়েছে মেঘনায়। ২০১৮ সালের ২১ জুলাই মাছ ধরতে গিয়ে ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকাসহ নিখোঁজ হন তারা। এক সঙ্গে এতজন উপার্জনক্ষমকে হারিয়ে দুবছরেও উঠে দাঁড়াতে পারেননি।

এদিকে ২০১৯ সালের ৩ মার্চ মাছ শিকারে গিয়ে ঝড়ের কবলে পড়ে নিখোঁজ হন একই এলাকার আলমগীর মাঝি। স্বামীকে হারিয়ে তিন সন্তান নিয়ে অনাহারে দিন কাটান স্ত্রী লাকি বেগম। একই অবস্থায় সদর উপজেলার চররমনী মোহন এলাকার মেজর আলী ও আবুল কাশেমসহ শতাধিক জেলে নিখোঁজ। প্রতি বছরই প্রাকৃতিক দুর্যোগে লক্ষ্মীপুরের জেলে পরিবারগুলো হারাচ্ছে স্বজন। জেলের তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুযোর্গে মারা যাওয়া জেলেদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা থাকলেও তা দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুল গনি, হুমায়ন কবির,জসিম উদ্দিন, মোসলেহ উদ্দিন ও পারভেজ খাঁনসহ অনেকেই জানান, জীবিকার টানে প্রাকৃতিক দুযোর্গের মধ্যে মাছ শিকার গিয়ে প্রতিবছর নিখোঁজ হন একের পর এক জেলে।

জেলা মৎস্যজীবী সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু ইউসুফ ছৈয়াল জানান, গেল পাঁচ বছরে নিখোঁজ জেলের সংখ্যা দেড়শতরেও বেশি। পরিবারগুলো এখনো প্রিয়জনের অপেক্ষায় আছে।

রামগতি উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মোমিন জানান, নিখোঁজদের কোনো তথ্য। তবে তালিকা তৈরি কাজ শুরু হবে। তালিকা পেলে দেয়া হবে ক্ষতিপূরণ।

মৎস্য কর্মকর্তাদের হিসাবে, জেলার সদর, রামগতি, কমলনগর ও রায়পুর মিলিয়ে মোট জেলের সংখ্যা ৫২ হাজার।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়