দিনাজপুরে আল্লাহর দলের আঞ্চলিক প্রধান গ্রেপ্তার

আগের সংবাদ

ঈশ্বরদীতে পিস্তল-গুলিসহ যুবক গ্রেপ্তার

পরের সংবাদ

ম্যারাডোনার জন্য পেলের প্রার্থনা

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৪, ২০২০ , ৬:৫৯ অপরাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ৪, ২০২০ , ৬:৫৯ অপরাহ্ণ

সাতদিনের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে ফুটবলের কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর। গত সপ্তাহের বুধবার (২৫ নভেম্বর) রাতে হার্ট-অ্যাটাক করে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের মহানায়ক ম্যারাডোনা। তার মৃত্যুর শোক এখনো ভুলতে পারছেন না চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পেলে। সারাবিশে^ ঘুরে-ফিরে এই একই আলোচনা চলত এই সেদিনও পেলে সেরা না ম্যারাডোনা।

মেসি ও রোনালদো এসে সেই আলোচনাটা একটু থামিয়েছেন। কিন্তু পেলে বুধবার রাতে তার ইনস্টাগ্রাম পোস্টে লিখেছেন, ম্যারাডোনাই সেরা, এই আর্জেন্টাইন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ‘এই পৃথিবীটাকে আরো সুন্দর লাগত যদি আমরা নিজেদের মধ্যে তুলনাটা কম করে পরস্পরের প্রশংসা করতাম বেশি। সুতরাং আমি বলতে চাই তোমার কোনো তুলনা হয় না’Ñ ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন তিনবারের বিশ্বকাপ বিজয়ী। ব্রাজিলে ক্যাথলিক ধর্মবিশ^াস অনুযায়ী ৭ দিন পর পারলৌকিক কৃত্য হয় মৃতের, জানানো হয় শ্রদ্ধা। আচারনিষ্ঠ ক্যাথলিক পেলে তাই ম্যারাডোনার প্রয়াণের ৭ দিন পর তাকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ইনস্টাগ্রামে।

একটা সময় মনে হতো পেলে ও ম্যারাডোনার পরস্পরের প্রতি কোনো শ্রদ্ধাবোধ নেই। সর্বকালের ২ ফুটবল শ্রেষ্ঠের মধ্যে আছে শুধু ঈর্ষা আর বিদ্বেষ। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলো দুজনের জীবনের পৃষ্ঠাগুলো খুলে যাওয়ায় দেখা গেল অশেষ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসাই ছিল পরস্পরের প্রতি। গত ২৩ অক্টোবর পেলের ৮০তম জন্মদিনের এক সপ্তাহ পর ৩০ অক্টোবর ৬০তম জন্মদিনের কেক কাটা হয়েছে ডিয়েগো ম্যারাডোনার। দুজন পরস্পরকে জানিয়েছেন শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। কিন্তু ৬০তম জন্মদিনের এক মাসের মধ্যে ২৫ নভেম্বর আকস্মিকভাবে চির বিদায় নেন ম্যারাডোনা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে ম্যারাডোনার সঙ্গে বেশ কয়েকটি ছবি আপলোড করে পেলে লিখেছেন, ‘আজ ৭ দিন হলো তুমি চলে গেছ। অনেক মানুষ সারাজীবন শুধু আমাদের মধ্যে তুলনা করতে ভালোবাসে। তুমি এমন একজন ছিলে, যে নিজের প্রতিভা দিয়ে সারা বিশ^কে জয় করেছে। বল পায়ে তুমি একজন জাদুকর। একজন সত্যিকারের কিংবদন্তি।

‘সর্বোপরি, আমার জন্য তুমি সব সময় একজন মহান বন্ধু হয়ে থাকবে, একটি আরো বড় হৃদয় নিয়ে। আজ আমি জানি, পৃথিবী আরো অনেক সুন্দর হতো যদি আমরা একে অপরকে কম তুলনা করে বেশি শ্রদ্ধা করতে পারতাম। তাই আমি আজ বলতে চাই, তুমি অতুলনীয়। ‘সততা দ্বারা তোমার জীবনের গতিপথ নির্ধারিত হয়েছে। তোমার অনন্য এবং বিশেষ উপায়ে আমাদের শিখিয়েছ যে, সবাইকে ভালোবাসতে হবে এবং বলতে হবেÑ আমি তোমাকে অনেক বেশি ভালোবাসি। তুমি দ্রুত চলে যাওয়ায় আমি বলতে পারিনি। তাই আমি শুধু লিখে যাব, আমি তোমাকে ভালোবাসি, দিয়াগো।’

পেলে-ম্যারাডোনা দুজন ছিলেন ভিন্ন সময়ের প্রতিনিধি। তবু একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল তাদের মধ্যে। দ্বিতীয় সহস্রাব্দে ফিফা তাই শ্রেষ্ঠ ফুটবলারকে বেছে নিতে প্রথমে আয়োজন করে অনলাইন ভোট। তাতে বিপুল ব্যবধানে জেতেন ১৯৮৬ বিশ^কাপজয়ী ম্যারাডোনা। কিন্তু ফিফার পরে উপলব্ধি হয় যে অনলাইনে স্বাভাবিকভাবেই বেশি ভোট পাবেন ম্যারাডোনা, কারণ বর্তমান সময়ের প্রতিনিধি তিনি। এরপর আরেকটি ভোটের ব্যবস্থা করা হয় যাতে ভোট দেন ক্রীড়া সাংবাদিক ও কোচরা। এবার বিজয়ী পেলে। পরে অবশ্য বিংশ শতাব্দীর সেরার মুকুট দেয়া হয় দুজনকেই যুগ্মভাবে। পেলে লিখেছেন, ‘তুমি বল পায়ে এক জাদুকর। সত্যিকারের কিংবদন্তি। সব কিছুর ওপর আমার কাছে তুমি হলে সব সময়ের অসাধারণ এক বন্ধু, যার হৃদয়টা আরো বড়।’

তারায় ভরা অনন্ত আকাশে ম্যারাডোনাকে প্রকৃত বন্ধু হিসেবেই খুঁজে নেবেন পেলে, ‘একদিন স্বর্গে আমরা একই দলের হয়ে ফুটবল খেলব এবং তখনই প্রথমবারের মতো আকাশে আমি মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে গোল উদযাপন করব না বরং সেটা করব অবশেষে তোমাকে আলিঙ্গন করতে পারার আনন্দে। এর আগে ম্যারাডোনার মৃত্যুর দিন সংক্ষিপ্ত বার্তায় পেলে লিখেছিলেন, ‘কী দুঃখের একটা খবর! আমি সত্যিকারের একটা বন্ধু হারালাম, বিশ^ হারাল এক কিংবদন্তিকে। তার ব্যাপারে বলার শেষ নেই। তবে এখন শুধু বলব, ঈশ^র তার পরিবারকে শক্তি ও সাহস জোগায়। আশা করি, একদিন আমরা ওপারে একসঙ্গে ফুটবল খেলব।’

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়