মধ্যবয়সী অক্ষয়কে পেয়ে উচ্ছ্বসিত সারা

আগের সংবাদ

সংবাদের জেরে সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসীদের হামলা

পরের সংবাদ

দায়ীদের কোনোভাবেই ছাড় নয়

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৪, ২০২০ , ৯:২২ অপরাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ৪, ২০২০ , ৯:৩৫ অপরাহ্ণ

সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণীকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের আলোচিত মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্রলীগের ৮ কর্মীকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। ঘটনার ৬৫ দিন পর গত বৃহস্পতিবার সিলেটের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। ধর্ষণের অভিযোগের বৃত্ত থেকে যেন ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বের হয়ে আসতে পারছেন না। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের বিভিন্ন স্থানে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের নামে ধর্ষণ মামলার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সিলেটের এমসি কলেজে গৃহবধূ গণধর্ষণের ঘটনাটি সারাদেশে আলোচিত হচ্ছে। সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করছে। এমন বর্বর ঘটনা খুবই দুঃখজনক। এমন অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আমাদের গভীর সংকটে পতিত হতে হবে। অভিযোগপত্রে তরুণীকে ছাত্রাবাসে তুলে নিয়ে সরাসরি ধর্ষণের সঙ্গে অভিযুক্ত করা হয়েছে চারজনকে। তারা হলেন- সাইফুর রহমান, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, শাহ মো. মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি ও অর্জুন লস্কর। তরুণীকে ছাত্রাবাসে তুলে নিয়ে যাওয়ার আগে একটি বাসায় এক দফা ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয় দুজনকে। কোনো পদে না থাকলেও গ্রেপ্তার হওয়া সবাই এমসি কলেজ ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন এক তরুণী (২১)। করোনার কারণে বন্ধ থাকা ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করা হয়। ওই রাতেই ধর্ষণের শিকার তরুণীর স্বামী বাদী হয়ে মহানগরের শাহপরাণ থানায় মামলা করেন। এ ঘটনার পর দেশজুড়ে ধর্ষণবিরোধী তীব্র আন্দোলন শুরু হয়। মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে ধর্ষণবিরোধী আইনও সংশোধন করে সরকার। ছাত্রলীগ মূলত এখন আলোচনায় আসছে হত্যা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই কিংবা টেন্ডারবাজির কারণে। ইদানীং ধর্ষণের ঘটনাও শুনতে হচ্ছে। শিক্ষা, শান্তি, প্রগতি এই তিনটি হলো ছাত্রলীগের মূলনীতি। দেশের ঐতিহ্যবাহী সংগঠনটি আজ নানা অপকর্মে জড়িয়ে বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে। মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের বেপরোয়া দৌরাত্ম্যের রাশ টানতে পারছে না ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও অভিভাবক রাজনৈতিক দল। সরকারের অনেক ইতিবাচক অর্জন ও সাফল্যকে ম্লান করে দিচ্ছে ছাত্রলীগের দুষ্কর্ম। এটা ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকরা বুঝেন না তা নিশ্চয়ই নয়। বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগ ও আওয়ামী নেতৃত্বের পক্ষ থেকে শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি নেয়ার কথা বলা হয়েছে। অপরাধী যে দলের পরিচয়ধারীই হোক তাকে ছাড় না দেয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এসবের কোনো প্রতিফলন নেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতীয় রাজনীতি দূষিত হয়ে পড়া এবং স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক নেতাদের পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েই ধর্ষণের মতো ঘৃণিত অপরাধে জড়ানোর সাহস পাচ্ছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। স্বামীর কাছ থেকে স্ত্রীকে কেড়ে নিয়ে ধর্ষণের মতো অকল্পনীয় অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে তারা। আমরা দেখতে চাই, সিলেট এমসি কলেজে সংঘটিত ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হোক। অভিযুক্তরা উপযুক্ত শাস্তি পাক।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়