রাজধানীতে দেয়াল চাপায় এক যুবকের মৃত্যু

আগের সংবাদ

নিউজ ফ্ল্যাশ

পরের সংবাদ

ডিবি পরিচয়ে টাকা ছিনিয়ে নেয় তারা

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৪, ২০২০ , ৭:৫০ অপরাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ৪, ২০২০ , ৭:৫১ অপরাহ্ণ

দুটি ভাগে কাজ করে এ চক্রের সদস্যরা। রাজধানীসহ ঢাকার আশপাশের এলাকায় কখনও রিক্সাচালক কখনও ফেরিওয়ালা সেজে সহজ সরল প্রকৃতির লোকজনদেরকে বিদেশি মুদ্রা বিক্রির নামে টার্গেট বানায় এক দল। অপরদল ডিবি সেজে বিদেশি মুদ্রা কিনতে আসা টার্গেটদের গাড়িতে তুলে নেয়। পরে মামলা ও মিডিয়া প্রচারের ভয় দেখিয়ে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিস ছিনিয়ে নেয় তারা। এ ধরনের আরো কয়েকটি চক্রের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ডিবি পুলিশের পরিচয়ে ভিকটিমকে মামলা ও মিডিয়া প্রচারের ভয় দেখিয়ে নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য মূল্যবান জিনিস ছিনিয়ে নেয়া একটি চক্রের দলনেতাসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে শুক্রবার এসব তথ্য জানান ডিএমপি গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক নিয়ন্ত্রণ টিমের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. ফজলুর রহমান।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মহসিন শেখ (৩০), আনিছুর রহমান (৫০), সেন্টু মুন্সি (৪০), জুয়েল মিয়া (৩০), শাহিন শেখ (২৫), মহব্বত শেখ (৩২), আবুল কালাম (৫০), সুলতান মোল্লা (৩৪), হেমায়েত শেখ (৫৫) ও কাইয়ুম শেখ (৪৫)।

অভিযানের নেতৃত্ব দেয়া এ পুলিশ কর্মকর্তা জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ি এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১টি প্রাইভেটকার, ডিবির জ্যাকেট, ওয়ারলেস সেট, ১ জোড়া হ্যান্ডকাপ ও পুলিশ লেখা স্টিকার উদ্ধার করা হয়। এ চক্রের সদস্যদের সবার বিরুদ্ধেই বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

সহকারি পুলিশ কমিশনার আরো জানান, রাজধানীসহ ঢাকার আশপাশের এলাকায় কখনও রিক্সাচালক কখনও ফেরিওয়ালা সেজে সহজ সরল প্রকৃতির লোকজনদেরকে টার্গেট বানায় এ চক্রের সদস্যরা। টার্গেটকে তারা বলে রাস্তায় বিদেশি রিয়েল পেয়েছে। সে অশিক্ষিত মানুষ,কীভাবে এটা ভাঙাতে হয় জানা নেই। রিয়েল ভাঙিয়ে দিলে সহজ সরল মানুষকে সে কিছু টাকা দিবে বলে প্রস্তাব দেয়। উপকার হবে ভেবে ওই লোকটি রিয়েল ভাঙিয়ে দিলে রিক্সাচালক বা ফেরিওয়ালা লোকটিকে ফোন নম্বর নেয়। পরবর্তী সময়ে ফোনে তারা যোগাযোগ করে জানায় যে তার কাছে আরো রিয়েল আছে। সেগুলি সে অর্ধেক দামে বিক্রি করবে। এমন প্রলোভনে টার্গেট রাজি হলে টাকা নিয়ে তাদের পছন্দমত জায়গায় নির্দিষ্ট তারিখ ও সময়ে আসতে বলে।
এদিকে চক্রের অপর একটি দলকে ডিবি পুলিশ সেজে নির্ধারিত স্থানে পিস্তল, ওয়ারলেস সেট, হ্যান্ডকাপসহ মাইক্রোবাস বা একাধিক প্রাইভেটকারে অপেক্ষা করতে থাকে। আর রিক্সাচালক বা ফেরিওয়ালা কাপড়ে মুড়িয়ে রিয়েলের নামে কাগজ বা অন্য কোন জিনিস নিয়ে এসে রিয়েল ক্রেতাকে বুঝিয়ে টাকা নিয়ে বলে যে, পুলিশ আসছে তাড়াতাড়ি চলে যান। একথা বলে রিয়েল বিক্রেতা টাকা নিয়ে সটকে পড়ে। রিয়েল ক্রেতা একটু অগ্রসর হলেই আগেই ওৎ পেতে থাকা ভুয়া ডিবি দলের সদস্যরা রিয়েল ক্রেতাকে আটক করে তাদের গাড়ীতে উঠিয়ে নেয়। তার কাছে অবৈধ রিয়েল আছে, তার বিরুদ্ধে মামলা/মিডিয়ায় প্রচার করার ভয় দেখিয়ে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন বা অন্যান্য মূল্যবান জিনিস ছিনিয়ে নেয়।

রিয়েল ক্রেতার কাছে এটিএম কার্ড থাকলে বুথ থেকে টাকা তুলে নেয় ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমেও টাকা ট্রান্সফার করে নেয়। এক সময় রিয়েল ক্রেতাকে সুবিধাজনক স্থানে নামিয়ে দিয়ে অপরাধীরা চলে যায়।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়