নিউজ ফ্ল্যাশ

আগের সংবাদ

একদিনেই সড়কে ঝরল ২১ প্রাণ

পরের সংবাদ

এমনি করে আর কত কাল

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৪, ২০২০ , ৮:৩৪ অপরাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ৪, ২০২০ , ৮:৩৬ অপরাহ্ণ

আমরা আজ কঠিন সময় পার করছি। একদিকে প্রাকৃতিক মহামারি অন্যদিকে সিন্ডিকেট, দুর্নীতিবাজ, কালোবাজারি, কিশোর গ্যাং, মুনাফাখোর, ঋণখেলাপি, ঘুষখোর, মাদককারবারি, ডন মাফিয়া, ধর্ষকদের দৌরাত্ম্য। স্বস্তির নিশ্বাস ফেলা দায়। প্রত্যেক ক্রিয়ারই সমান পার্শ্বক্রিয়া রয়েছে। আর আমাদের জনজীবন এভাবে চলতে থাকলে হয়তো আমাদের জন্য সামনে আরো কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। যা আমাদের কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। আজ মহামারি আকার ধারণ করেছে নির্যাতন, চোরাচালান, মাদক ব্যবসা, মানব পাচার, লুটপাট, সিন্ডিকেট, দখল, দুর্নীতিবাজ, কালোবাজারি, কিশোর গ্যাং, মুনাফাখোর, ঋণখেলাপি, ঘুষখোর, মাদককারবারি, ডন মাফিয়া, ধর্ষকদের দৌরাত্ম্য। ডানহাত, বামহাত আর অজুহাতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, অস্থিতিশীল বাজার। অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে আমাদের জনজীবন। মাদকাসক্ত, আত্মহত্যা, খুন, ছিনতাই, পারিবারিক ভাঙন, মূল্যবোধের অবক্ষয় আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আজকে যে মহামারি তা একদিনে সৃষ্টি হয়নি। আমাদের দেশের ক্ষমতাসীন দলগুলোর (বিশেষ করে ’৭৫-পরবর্তী সময়ে ) অতিমাত্রায় সুবিধাবাদ এবং আত্মকেন্দ্রিকতা চর্চার ফসল। এই মহামারির প্রতিটি ক্ষেত্রেই চলছে বাধাহীন উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা। এই সংকটের আশু সমাধান করে বেরিয়ে আসতে না পারলে আমাদের জন্য সামনে কঠিন সময় অপেক্ষা করছে এবং তা মোকাবিলা করার জন্য হয়তো আমাদের আরো বেশি মূল্য দিতে হবে। ফসলের মাঠে যখন আগাছা বেশি হয়ে যায় তখন ফসল রক্ষার্থে সেই আগাছাকে উপড়ে ফেলে দিতে হয়, তা না হলে ফসল টিকানো সম্ভব হয় না। বর্তমান পরিস্থিতির ক্ষেত্রেও অনেকটা তাই। আমরা যেন জীবনের খেই হারিয়ে ফেলেছি। লক্ষ্যহীন তরুণ ও যুবসমাজ। প্রতি পদক্ষেপে তাই অন্ধকারের হাতছানি। হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক আর পর্নোগ্রাফি। বাড়ছে পারিবারিক ও সামাজিক কলহ এবং পারিবারিক ভাঙন। আদালতগুলোতে বাড়ছে মামলার জট। সরকারি-বেসরকারি কোনো খাতেই মিলছে না কাক্সিক্ষত সেবা। হাসপাতালগুলো যেন এক একটা কসাইখানা। মালিক এবং চিকিৎসকদের জন্য হাসপাতালগুলো সেবার পরিবর্তে টাকা আয়ের আঁতুড়বক্স। কারো যেন কোনো দায়বদ্ধতা নেই। একদিকে বাড়ছে কোটিপতিদের সংখ্যা তার বিপরীতে সহস্রগুণ হারে বাড়ছে খাদ্যহীন, বস্ত্রহীন, চিকিৎসাহীন, কর্মহীন নর-নারীর সংখ্যা। করোনাকালেও দেশে কোটিপতিদের সংখ্যা বেড়েছে চার হাজারের ওপরে। মহামারির খলনায়করা বেপরোয়া থেকে বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তাদের কোনোভাবেই আটকানো যাচ্ছে না। অদৃশ্য কোনো দুর্বলতার কারণে তারা আজ পুরো জাতিকে বৃদ্ধা আঙুল দেখাচ্ছে। মানুষের ন্যায়বোধ সুকুমার বৃত্তিগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষও ধীরে ধীরে আত্মকেন্দ্রিক এবং সাংঘর্ষিক হয়ে উঠছে। একটা বিষয় ভাবনায় রাখা দরকার কেউটে সাপকে যতই দুধ-কলা খাওয়ানো হোক না কেন সময়-সুযোগ মতো সে ছোবল মারবেই। তাই এই কেউটে সাপদের বিষয়ে সবসময়ই সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। যেভাবে এই হরিলুট নামের মহামারি চলছে তাতে আমাদের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক গতিশীলতা এবং সচল রাখা অনেক ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। আর এই মহামারির লাগাম টেনে ধরা এখন সময়ের যৌক্তিক দাবি। আর এই সময়ের যৌক্তিক দাবি পূরণে ব্যর্থ হলে সব উন্নয়ন মুখ থুবড়ে পড়বে এবং ভিশন ২০৪১ থেকেও আমরা ছিটকে পড়ব। প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, আইনের সঠিক প্রয়োগ করা, সামাজিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা, সরকারের কঠোর ভূমিকা, ব্যাপক নজরদারি নিশ্চিত করা, কালো টাকা ও ঋণখেলাপিদের টাকা উদ্ধার, কালো আইন বাতিল করা, সম্পদের হিসাব দিতে না পারলে তার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার মধ্য দিয়ে আজকের এই মহামারি রোধ করা সম্ভব। আর এই মহামারি রোধ করতে না পারলে আমাদের অর্থনীতির যে উন্নয়ন এবং গতিশীলতা আছে তা ব্যাহত হবে। সামাজিক, মানবিক এবং জাতীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রধান প্রধান সমস্যাকে চিহ্নিত করে তা সমাধানের জন্য পরিকল্পনা করে কাজ করতে পারলে আমরা আমাদের কাক্সিক্ষত সাফল্যের দেখা পাব। আসবে আমাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তি।

শিক্ষক, হাইমচর সরকারি মহাবিদ্যালয়, হাইমচর, চাঁদপুর।

[email protected]

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়