ধর্ষণ বন্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা দরকার

আগের সংবাদ

বোধ

পরের সংবাদ

অনিশ্চয়তা দ্রুত কেটে উঠুক

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৩, ২০২০ , ৮:০৮ অপরাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ৩, ২০২০ , ৮:০৮ অপরাহ্ণ

ভোরের কাগজের খবরে প্রকাশ, দক্ষ লোকবল ও আর্থিক সমস্যা থাকায় অনেকটা মুখ থুবড়ে পড়ে স্মার্ট কার্ড তৈরি ও বিতরণের কাজ। বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি-ইউএনডিপির অর্থায়নে ২০১১ সালে করা চুক্তি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের মধ্যে দেশের সব নাগরিককে অত্যাধুনিক পরিচয়পত্র স্মার্ট কার্ড তুলে দেয়ার কথা। তবে এ পর্যন্ত ৪০-৫০ শতাংশ নাগরিকের হাতেও স্মার্ট কার্ড পৌঁছে দিতে পারেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি কার্ড দৈনন্দিন জীবনে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সময়মতো কার্ড না পাওয়ায় সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, পরিচয়পত্র না থাকায় চাকরি হচ্ছে না, অনেক হতদরিদ্র ভিজিএফসহ বিভিন্ন ত্রাণ নিতে পারছেন না। অনেকে আবার নির্বাচন কমিশন সাইড থেকে ডাউনলোড করে নিলে তাতেও বিপত্তি রয়েছে। ভুলভ্রান্তিতে ভোটার আইডি কার্ড ভরা। আইডি কার্ডে তথ্য ভুল থাকায় তা সংশোধনের জন্য রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন অফিস এবং জেলা ও থানা নির্বাচন অফিসগুলোতে দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই ভুলের জন্য ইসির কর্মীরাই দায়ী। তাদের ভুলের খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ নাগরিকদের। কার্ডের তথ্য সংশোধনের জন্য গুনতে হচ্ছে টাকা। সঙ্গে ভোগান্তি তো আছেই। কার্ড সংশোধনে মাসের পর মাস ও অনেক ক্ষেত্রে বছরও লেগে যাচ্ছে। এমন অবস্থার জন্য দায়ী কে? অদক্ষ কর্মী ও দায়িত্বে অবহেলার জন্য এই ভুলের ছড়াছড়ি। যখন জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়ার কার্যক্রম শুরু হয় তখন ইসির অদক্ষ কর্মীরা তথ্য সংরক্ষণে যে ভুল করেছেন তারই কারণে আজকে নাগরিকদের এই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ভোগান্তি দূর করতে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে বিকেন্দ্রীকরণ করা হয় জাতীয় পরিচয়পত্রপ্রাপ্তির সেবা কার্যক্রম। ভোটার জাতীয় পরিচয়পত্রের সংশোধন, হারানো কার্ড উত্তোলন এবং নতুন কার্ড মুদ্রণে উপজেলা অফিস, জেলা অফিস, আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস এবং জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অণুবিভাগের (এনআইডি) কার কী ক্ষমতা তাও নির্ধারিত করা হয় প্রজ্ঞাপনে। তারপরও বিড়ম্বনা কমছেই না। এর জন্য নাগরিকরাও দায়ী কম নয়। জানা গেছে, ভোটার তালিকা হালনাগাদে প্রতিবারই তথ্য সংগ্রহের সময় উভয়পক্ষের গাফিলতির কারণে তথ্যের গরমিল থাকছে। এসব ক্ষেত্রে নামের বানান, ঠিকানা, জন্ম তারিখ, পিতা-মাতার নামের বানান নির্ভুল করা যায়নি। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১০ কোটি ৯৮ লাখ ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে অনেক নাগরিকের কোনো না কোনো সমস্যা রয়েছে এনআইডিতে। তারা সেবা নিতে এসে বিভিন্ন সমস্যায় পড়ছেন। ভোগান্তির যেন শেষ নেই। এনআইডি এখন জীবনের অপরিহার্য অঙ্গ হয়ে পড়েছে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্যও এনআইডি প্রয়োজন। ভুলত্রুটি সংশোধনে সহজ সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগী হতে হবে। সাধারণ নাগরিকদের ভোগান্তি কমাতে হবে। পাশাপাশি স্মার্ট কার্ড তৈরি ও বিতরণে যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে তাও দ্রæত সমাধান জরুরি। নতুন কার্ড তৈরিতে যেন তথ্যের ঘাটতি না থাকে সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের যত্নশীল হতে হবে।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়