অতিথি পাখি শিকার রোধে আইন জোরদার করা জরুরি

আগের সংবাদ

বিপাকে বেসরকারি স্কুল

পরের সংবাদ

সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২, ২০২০ , ১১:২০ অপরাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ২, ২০২০ , ১১:২০ অপরাহ্ণ

এবার উচ্চশিক্ষায় ভর্তি নিয়ে ভোগান্তি কমছে। দেশের ১৯টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়ে সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় গত মঙ্গলবার এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। প্রতি বছর ভর্তি পরীক্ষার সময় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। এ উদ্বেগ যেমন কাক্সিক্ষত প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পাওয়া না পাওয়ার বিষয়ে, তেমনি পরীক্ষার জন্য ছুটতে হবে দেশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে এটা ভেবেও। উচ্চশিক্ষায় ভর্তি পদ্ধতির এমন হয়রানির অবসান হচ্ছে এটি সবার জন্য সুখবর। দেশে বর্তমানে ৪১টি সরকারি ও ৯৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ই আলাদাভাবে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আমাদের দেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সীমিত হওয়ায় মেডিকেল, প্রকৌশল, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রায় লক্ষাধিক আসনের বিপরীতে প্রতি বছর একজন শিক্ষার্থী কমপক্ষে ১০টি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে থাকে। আর এজন্য শিক্ষার্থীদের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদাভাবে ফরম কিনতে হয় এবং আলাদাভাবে গিয়ে পরীক্ষা দিতে হয়। এতে তাদের সময়, পরিশ্রম ও অর্থ ব্যয় বেশি হয়। তাছাড়া শিক্ষার্থীদের মনের ওপরও বাড়তি চাপ পড়ে। আর বহিরাগতরা সুবিধা দেয়ার নাম করে ফায়দা লুটে। শিক্ষার্থীদের সারাদেশে ছোটাছুটি করতে তাদের পরীক্ষা প্রস্তুতি বিঘিœত হয়। তারপরও একই দিনে একাধিক প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা এড়ানো যায় না। এসব সমস্যা নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার দাবি বহু আগেই উঠেছে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষাবিদদের তরফ থেকে। বৈশিষ্ট্যের বিচার সমজাতীয় বা কাছাকাছি চরিত্রের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত পদ্ধতিতে ভর্তির আলোচনা হচ্ছে দীর্ঘদিন থেকেই। অবশেষে চলতি বছর থেকে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত পদ্ধতিতে ভর্তি করা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটি শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই আশাব্যঞ্জক। এর আগেও সমন্বিত পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়ে ভেস্তে গেছে। এমন কিছু এবার দেখতে চাই না। উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সমন্বিতভাবে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার তাগিদ মহামান্য রাষ্ট্রপতিও দিয়ে আসছেন। এক্ষেত্রে ব্যর্থতার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনীহাকেই মূলত দায়ী করছেন অভিজ্ঞমহল। আমরা আশা করব, আগামীতেও সমন্বিত পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নিতে যেন আর দীর্ঘসূত্রতায় না পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার্থীদের সময়, শ্রম ও অর্থকষ্ট লাঘবে সমন্বিত পরীক্ষা নেয়ার বিকল্প নেই। প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি বন্ধেও সমন্বিত পদ্ধতি কার্যকর ভ‚মিকা রাখতে পারবে। অর্থাৎ সব বিবেচনায়ই এ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্তটি ইতিবাচক। এখন এর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাটাই বড় বিষয়। তবে প্রক্রিয়াটি যাতে ত্রæটিমুক্ত হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। পর্যায়ক্রমে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোরও উচিত এ ধরনের পদ্ধতির আওতায় আনা।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়