আখমাড়াই বন্ধ রাখার প্রতিবাদে গাইবান্ধায় সড়ক অবরোধ

আগের সংবাদ

যুক্তরাজ্যে ফাইজার ভ্যাকসিনের অনুমোদন, শিগগিরই প্রয়োগ

পরের সংবাদ

পাবনা চিনিকলে আখমাড়াই কার্যক্রম স্থগিত

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২, ২০২০ , ৫:০৫ অপরাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ২, ২০২০ , ৫:০৬ অপরাহ্ণ

লোকসান কমিয়ে আনার জন্য ২০২০-২১ মৌসুমে পাবনা চিনিকলে আখ মাড়াই কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি) আখ মাড়াই কার্যক্রম স্থগিতের বিষয়টি উল্লেখ করে মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বরাবরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
‘পাবনা সুগার মিল ৪০০ কোটি টাকার বেশি লোকসানের’- বিষয়টি জানিয়ে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সম্প্রতি শিল্প মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়।

বুধবার (২ ডিসেম্বর) চলতি মৌসুমে আখমাড়াই কার্যক্রম স্থগিতের চিঠি পায় মিল কর্তৃপক্ষ। আখমাড়াই কার্যক্রম স্থগিত রাখার জন্য পাবনা চিনিকল ছাড়াও আরও পাঁচটি মিলকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। মিলগুলো হল কুষ্টিয়া চিনিকল, পঞ্চগড় চিনিকল, শ্যামপুর চিনিকল, রংপুর চিনিকল ও সেতাবগঞ্জ চিনিকল।

বিএসএফআইসি-এর সিনিয়র সহকারী সচিব আফরোজা বেগম পারুল স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন-এর নিয়ন্ত্রণাধীন চিনিকলের লোকসান কমিয়ে আনার লক্ষ্যে চলতি ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ১৫টি চিনিকলের পরিবর্তে ৯টি চিনিকলে আখমাড়াই কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং ৬টি চিনিকলে উৎপাদিত আখ নিকটস্থ চিনিকলে সমন্বয়পূর্বক মাড়াই করার বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।’

পাবনা সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. সাইফ উদ্দীন চিঠি পাওয়ার বিষয়টি মুঠোফোনে নিশ্চিত করে বলেন, দেশের ৬টি মিলের মধ্যে পাবনা সুগার মিলে ২০২০-২০২১ মাড়াই মৌসুমে আখমাড়াই কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। আখমাড়াই কার্যক্রম স্থগিত রাখার বিষয়ে একটি চিঠি আমরা পেয়েছি। শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয় বেতন পরিশোধ ও কার্যক্রম চলমান থাকবে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, চিঠিতে কোনো কিছু উল্লেখ না থাকায় এসব বিষয়ে আপাতত কিছু বলা যাচ্ছে না।

পাবনা সুগার মিল সুত্রে জানা যায়, ১৯৯২ সালের ২৭ ডিসেম্বর ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া ইউনিয়নের পাকুড়িয়া মৌজার ৬০ একর জমির উপর পাবনা সুগার মিল স্থাপন করা হয়। ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে আখমাড়াই মৌসুমে মিলটির পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হয়। মিলটি ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে বাণিজ্যিকভাবে চিনি উৎপাদন শুরু করে। চালুর পর থেকেই উৎপাদন ঘাটতি ও লোকসান শুরু হয়। সেই থেকে এ পর্যন্ত মিলটির লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা।

এদিকে চলতি মৌসুমে আখমাড়াই কার্যক্রম স্থগিতের সিদ্ধান্তর প্রতিবাদে মিলের শত শত শ্রমিক-কর্মচারী বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এ সময় শ্রমিকেরা শ্লোগান দেন ‘শিল্পমন্ত্রীর গদিতে আগুন জ্বালো এক সাথে।’ তারা অবিলম্বে মাড়াই কার্যক্রম স্থগিতের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে মিলের স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থিতিশীল রাখার দাবি জানান।

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়