ঢাকা-মংলার আন্ডারপাস প্রশ্নের মুখে রেলওয়ে

আগের সংবাদ

পাবনা চিনিকলে আখমাড়াই কার্যক্রম স্থগিত

পরের সংবাদ

আখমাড়াই বন্ধ রাখার প্রতিবাদে গাইবান্ধায় সড়ক অবরোধ

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২, ২০২০ , ৪:৫৯ অপরাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ২, ২০২০ , ৪:৫৯ অপরাহ্ণ

অব্যাহত লোকসানের অজুহাতে গাইবান্ধা জেলার কৃষিভিত্তিক একমাত্র ভারীশিল্প কারখানা মহিমাগঞ্জের রংপুর চিনিকলসহ ৬টি চিনিকলে আখমাড়াই বন্ধ রাখার প্রতিবাদে বুধবার (২ ডিসেম্বর) মহিমাগঞ্জে ব্যপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন সহস্রাধিক আখচাষী ও শ্রমিক-কর্মচারীরা।

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প সংস্থার সদর দপ্তর থেকে এর আওতাধীন ১৫টি চিনিকলের মধ্যে ২০২০-২০২১ মৌসুমে ৬টিতে মাড়াই বন্ধ রেখে ৯টি চিনিকলে আখমাড়াই করার নির্দেশনা সম্বলিত একটি চিঠি পাওয়ার পর বিক্ষোভে ফেটে পড়েন আখচাষী ও শ্রমিক-কর্মচারীরা। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত আখচাষী ও শ্রমিক-কর্মচারীরা গোবিন্দগঞ্জ-মহিমাগঞ্জ সড়কের চিনিকলের সামনের কয়েকটি স্থানে মোটরের টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখেন। এ সময় উভয় দিকে শতাধিক ছোটবড় যানবাহন আটকা পড়ে। এ সংবাদ পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার একদল পুলিশ এসে অবরোধ তুলে নেয়ার অনুরোধ করলেও তা অগ্রাহ্য করে অবরোধ চালিয়ে যান বিক্ষুব্ধরা। অবরোধ চলাকালে রংপুর চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আবু সুফিয়ান সুজা, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান দুলাল, সহ-সম্পাদক ফারুক হোসেন ফটু, কোষাধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম, আখচাষী কল্যাণ গ্রুপের সভাপতি জিন্নাত আলী প্রধান, সহ-সম্পাদক আব্দুর রশিদ ধলু, ইক্ষুউন্নয়ণ কর্মি সংসদের সম্পাদক শাহজাহান আলী প্রমূখ বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প সংস্থার চেয়ারম্যানসহ উর্ধতন কর্মকর্তাদের বিভিন্ন প্রকল্পের নামে সীমাহীন দুর্নীতি, অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, বিলাসবহুল গাড়িসহ সকল ধরণের কেনাকাটায় ব্যপক লুটপাটের জন্য পুরো সংস্থাই লোকসানের মুখে পড়েছে। চিনিশিল্প আধুনিকায়নের নামে বিশ্বব্যাংক থেকে নেয়া ঋণের টাকা পরিশোধ না করে সকল চিনিকলকেই ঋণে জর্জরিত করে রেখে বিদেশে প্রচুর টাকা পাচার করেছে এই আমলারা।

এখন তাদের অপকর্মের ভার সাধারণ চাষী ও শ্রমিকদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে বেসরকারি চিনিকলগুলোর দালাল হিসেবে বর্তমান চেয়ারম্যান দেশের সকল চিনিকল বন্ধ করার মাধ্যমে চিনিশিল্পটাকেই ধ্বংস করার অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। তারা অবিলম্বে সকল চিনিকল আধুনিকায়নের মাধ্যমে এগুলো চালানো ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। অন্যথায় আরও বৃহৎ আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সকল চিনিকলের আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারী ও আখচাষীদের কর্মসূচির সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে বেলা একটায় সড়ক অবরোধ তুলে নেন বিক্ষুব্ধরা। আন্দোলনরত রংপুর চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন ও আখচাষী নেতৃবৃন্দ জানান, বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকায় বাংলাদেশ চিনিশিল্প করপোরেশন শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশন ও বাংলাদেশ চিনিকল আখচাষী ফেডারেশন এর যৌথ সভা থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়