কিউএস র‌্যাঙ্কিং ও কিছু কথা

আগের সংবাদ

সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা

পরের সংবাদ

অতিথি পাখি শিকার রোধে আইন জোরদার করা জরুরি

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২, ২০২০ , ১১:১৮ অপরাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ২, ২০২০ , ১১:১৮ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের পাখি দুই শ্রেণির। আবাসিক আর অনাবাসিক। অতিথি পাখি অনাবাসিক শ্রেণির আওতায় পড়ে। আবাসিক ও অনাবাসিক মিলে দেশে প্রায় ৬৫০ প্রজাতির পাখি রয়েছে। যার মধ্যে ৩৬০ প্রজাতি আবাসিক। বাকি ৩০০ প্রজাতি অনাবাসিক। সব অনাবাসিক পাখি শীতের সময় আসে না। ৩০০ প্রজাতির মধ্যে ২৯০টি শীত মৌসুমে আসে এবং ১০টি প্রজাতি থেকে যায়। বাড়িতে অতিথি এলে যে কেউই খুশিতে থাকে। অনটন থাকলেও বাঙালিরা সর্বোচ্চ চেষ্টায় থাকে অতিথি আপ্যায়নে। তবে অতিথি পাখিদের সঙ্গে ঘটে তার উল্টোটা। বন্দুকের গুলি, বিভিন্ন রকম ফাঁদ, বিষটোপ দিয়ে আমরা আপ্যায়ন করি অতিথিদের। আমরা অতিথি পাখি বললেও তারা মূলত আসে জীবন বাঁচাতে। অপরদিকে আমরা তাদের বাঁচতে না দিয়ে শিকারে মত্ত হই। প্রাণ বাঁচাতে এসে প্রাণ যায় যায় অবস্থা। পত্রিকার পাতা খুললেই এমন অহরহ ঘটনার সংবাদ দেখা যায়। এছাড়াও অবাধে কত শিকার হচ্ছে তার সঠিক পরিসংখ্যান বলা কঠিন।
একটি পাখির ওজন কতটুকুই বা হতে পারে? সর্বোচ্চ ১শ থেকে ২শ গ্রাম। অথচ এইটুকুর স্বাদ নিতেও উৎসুক থাকে অনেকেই। সামান্য মুনাফার লোভে কিছু অসাধু ব্যক্তি বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করে পাখি নিধনে মত্ত হয়ে ওঠে। বাজারে পাখির প্রচুর চাহিদাও রয়েছে। কোনোভাবে ধরতে পারলেই বিক্রি করতে খুব একটা বেগ পোহাতে হয় না। ২শ থেকে ৫শ টাকা পর্যন্তও অনায়াসে এসব পাখি বিক্রি হয়ে যায়। বেআইনিভাবেই শিকার হচ্ছে এসব পাখি। যা দণ্ডনীয় ফৌজদারি অপরাধ। ১৯৭৪ সালে বন্যপ্রাণী রক্ষা আইন ও ২০১২ সালে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে দণ্ডের বিধান রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পাখি নিধনের সর্বোচ্চ শাস্তি এক বছর জেল, এক লাখ টাকা দণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত। একই অপরাধ ফের করলে শাস্তি ও জরিমানা দ্বিগুণের বিধানও রয়েছে। এছাড়া যদি কোনো ব্যক্তি অতিথি পাখির মাংস ও দেহের অংশ সংগ্রহ করে দখলে রাখে কিংবা বেচাকেনা করে। তবে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে। এক ধরনের অসাধু ব্যক্তি মুনাফার আশায় আইনকে উপেক্ষা করে এসব কাজ করে চলেছে। দুঃখজনক জনক হলেও সত্য এসব আইন থাকলেও প্রচলন খুব কম দেখা যায়। তাই অতিথি পাখি শিকার রোধে প্রচলিত আইন জোরদার করা জরুরি। সেই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনকেও তৎপরতা চালাতে হবে।

শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়