ড.-রাহমান-নাসির-উদ্দিন

রিনা আক্তারের কৃতিত্ব ও সমাজের খুঁতখুঁতানি মানসিকতা!

আগের সংবাদ

আখাউড়ায় কবিতায় বিজয় মাসকে বরণ

পরের সংবাদ

নাগরিক সেবা বাড়াতে হলে সমন্বয় জরুরি

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১, ২০২০ , ১০:৫৮ অপরাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ১, ২০২০ , ১০:৫৮ অপরাহ্ণ

রাজধানীবাসীর সেবায় ৫৬টি সংস্থা নিয়োজিত। তাদের কাজের সমন্বয় না থাকায় নগরবাসী সত্যিকার অর্থে কতটা সেবা পায় তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। নাগরিক সেবা বাড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়। এক সিটি করপোরেশনকে ভেঙে দুটি করার পাশাপাশি এর আয়তনও বাড়ানো হয়েছে। এরপরেও কাজে গতি আসছে না। সেবার মান বাড়ছে না। সংস্থার মধ্যে সমন্বয় ঘটানোর জন্য তিন বছর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পরিপত্র জারি করা হলেও এক্ষেত্রে কোনো ইতিবাচক অগ্রগতি ঘটেনি। সমন্বয়হীনতার কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে নগরবাসী। জলাবদ্ধতা, যানজট, খোঁড়াখুঁড়িতে হয়রানি লেগে আছে। এমনকি মৃত্যুর মুখেও পতিত হচ্ছে। খোলা ম্যানহোলে মৃত্যু, সুয়্যারেজের লাইনে মৃত্যু কিংবা গ্যাস বিস্ফোরণে বাসার ভেতরেও থেমে নেই মৃত্যুর। তাই স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, এমন মৃত্যুর দায়ভার কে নেবে? জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবং সেবাদান সুষ্ঠু করতে সংস্থাগুলোকে একক কর্তৃপক্ষের আওতায় আনার কথা বারবার উঠলেও কার্যকর কোনো বাস্তবায়ন নেই। এখানে মনোযোগ দেয়া জরুরি। জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৭ জুন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে এক পরিপত্র জারি করা হয়। এতে বলা হয় সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত সেবা প্রদানকারী সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সরকারি দপ্তরের প্রধানরা সিটি করপোরেশনের আমন্ত্রণে সভায় যোগদান করে সভার গৃহীত সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং বাস্তবায়নের অগ্রগতি সিটি করপোরেশনকে অবহিত করবেন। কিন্তু এসব কিছুই মানছে না সেবা সংস্থাগুলো। এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ২০১৮ সালের ৫ মে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বরাবরে চিঠি দিয়ে অবহিত করেছেন। এরপর আরো কোনো অগ্রগতির খবর আমাদের কাছে নেই। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ছাড়াও চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের অবস্থাও একই। সবখানেই সেবা সংস্থাগুলোর কাজে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। এসব সংস্থার ওপর সিটি কর্তৃপক্ষের কোনো কর্তৃত্ব নেই। এমন সংবাদ গণমাধ্যমগুলোতে প্রায় উঠে আসছে। অসহায়ত্ব প্রকাশ করছেন সিটি করপোরেশনের মেয়ররা। সিটি করপোরেশন আইনে বলা আছে নগর সেবায় সম্পৃক্ত প্রতিটি সংস্থা সিটি করপোরেশন এলাকায় যা যা করবে বা করতে চায়, সেটা সিটি করপোরেশনকে অবহিত করতে হবে। সিটি করপোরেশন কাজের সমন্বয়ের মনিটরিং করবে। বাস্তবতা কিন্তু ভিন্ন। আমরা সবাই উন্নত সমাজ গড়ার স্বপ্ন দেখি, সুন্দর-সুস্থ জীবনযাপনের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রচেষ্টা চালাই। এমনিতেই উন্নয়নের নানা সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে ক্রমেই। আমাদের নাগরিক জীবনে অগণিত সমস্যার সংকট রয়েছে। প্রতিদিনই এসব সমস্যা সংকট মোকাবিলা করে চলতে হচ্ছে আমাদের। এই সমস্যা সংকটগুলোর মধ্যে কোনোটিই গুরুত্বহীন নয়। নগরবাসী আর কতদিন দুর্ভোগের শিকার হতে থাকবেন এটাই হলো প্রশ্ন। নিজেদের নাগরিক অধিকার সম্পর্কে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন করে তোলার মাধ্যমে এক্ষেত্রে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এক সুতায় আনতে হবে সব সেবাদান সংস্থাকে। মনিটরিংয়ের দায়িত্ব শুধু সিটি করপোরেশন নয়, সরকারের উচ্চ মহল থেকে তদারকিরও প্রয়োজন বলে মনে করছি।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়