সৌদ-জিন্না-জিয়ার ভাস্কর্য মূর্তি-প্রতিমা হয় না, হয় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য!

আগের সংবাদ

একজন ধর্ষককে শ্রদ্ধা জানাতে পারি না

পরের সংবাদ

রেলের উন্নয়নে গতি বাড়াতে হবে

প্রকাশিত: নভেম্বর ৩০, ২০২০ , ১০:২০ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ৩০, ২০২০ , ১০:২০ অপরাহ্ণ

দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো রেলওয়ে। কয়েক দশক ধরে অবহেলার শিকার হয়ে আসছিল রেলওয়ে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতাসীন হয়ে রেলের দিকে দৃষ্টি ফেরায়। স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় হয়েছে রেলে। রেলওয়ে উন্নয়নে মহপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। যা দেশবাসীকে খুবই আশান্বিত করেছে, এ কথা বলতেই হয়। রেলপথ উন্নয়নের অংশ হিসেবে গত রবিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু সেতুর উজানে ১৬ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে পৃথক ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু নির্মাণ’ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাপান ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে ১৬ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই রেল সেতুটি নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে জাইকা। ২০২৫ সাল নাগাদ এর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে বড় ভ‚মিকা রাখবে। বর্তমানে রেলওয়েতে প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৯টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে। এর আগে গত এক যুগে ২১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হয়েছে ৭৯টি উন্নয়ন প্রকল্প। তবে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে শ্লথগতি, সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি অনাকাক্সিক্ষত প্রতিবন্ধকতায় পড়ার খবর আমাদের স্বভাবতই হতাশ করে। রেলওয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রায় সবাই একাধিক প্রকল্প নিয়ে ব্যস্ত থাকায় তারা মনোযোগ দিতে পারছেন না নিয়মিত কার্যক্রমে। এ কারণে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ করা যাচ্ছে না। এতে করে বাড়ছে সরকারের ব্যয়। এসব প্রকল্পে সরকারকে হাজার হাজার কোটি টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে। বর্তমান সরকার রেলের উন্নয়নের জন্য প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৪টি প্রকল্প গ্রহণ করে। সরকার যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নে রেলকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে বাজেটে বরাদ্দও বাড়িয়েছে। পাশাপাশি রেলের উন্নয়নে এডিবি, ভারত, চীন, জাইকাসহ কয়েকটি দাতা সংস্থাও সহায়তার হাত বাড়িতে দিয়েছে। তারা বাংলাদেশের রেলের উন্নয়নে সহজ শর্তে অর্থ দিতে রাজি হয়েছে। মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন হলে ট্রান্স এশিয়ান রেল রুটেও বাংলাদেশ যুক্ত হবে। দেশের সঙ্গে ভারতের অনেকগুলো রাজ্যের ও মিয়ানমারের রেল যোগাযোগ স্থাপিত হবে। বাংলাদেশ রেলওয়ে ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়েতে যুক্ত হলে আন্তঃদেশীয় বাণিজ্য বাড়বে। তাছাড়া দেশের প্রায় প্রতিটি জেলা শহরের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্থাপন এ প্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ এ প্রকল্পগুলো শেষ হওয়ার কথা। আমরা বিশ্বাস করি, মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী সময়মতো প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে সত্যিকার অর্থে রেল যোগাযোগে একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে। তার সুফল পড়বে দেশের সার্বিক অগ্রগতিতে। বলার অপেক্ষা রাখে না, যে কোনো পরিকল্পনা প্রণয়ন করাটা যতটা না কঠিন, তার চেয়ে ঢের কঠিন এর বাস্তবায়ন। কাজেই গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যথাসময়ে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের বিশেষ মনোযোগী হতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়