আদিতমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাময়িক বরখাস্ত

আগের সংবাদ

৪২ ও ৪৩তম বি‌সিএ‌সের বিজ্ঞ‌প্তি প্রকাশ

পরের সংবাদ

মাদক সেবনে প্রমাণ, ৮ পুলিশ সদস্যকে চাকরিচ্যুত

প্রকাশিত: নভেম্বর ৩০, ২০২০ , ৮:৪২ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ৩০, ২০২০ , ৮:৪২ অপরাহ্ণ

ডোপ টেস্টে মাদক সেবনের প্রমাণ পাওয়ায় কুষ্টিয়া জেলায় কর্মরত চার কর্মকর্তাসহ ৮ পুলিশ সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। সোমবার (৩০ নভেম্বর) নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত এ তথ্য নিশ্চিত করেন। চাকরিচ্যুতদের মধ্যে দুজন উপপরিদর্শক (এসআই), দুজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) এবং চারজন কনস্টেবল রয়েছেন। এ ছাড়া ট্রাফিক পুলিশের এক সার্জেন্টকে সাময়িক অপসারণের আদেশ দেয়া হয়েছে। আরেকজনের বিষয়ে তদন্ত চলছে।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) সাবেক ডেপুটি কমিশনার এসএম তানভীর আরাফাত দৃই বছরেরও বেশি সময় আগে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার হিসেবে যোগ দেয়ার পর মাদকের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেন। মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবনকারীদের বিষয়ে যেমন কঠোর ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। তেমনিভাবে পুলিশের কারা কারা মাদক ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে জড়িত তাদরকেও খুঁজে বের করার জন্য পুলিশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেন এসপি। এরপর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের পাকড়াও করার পাশাপাশি পুলিশেও শুরু হয় শুদ্ধি অভিযান।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত বলেন, আইজিপি স্যারের নির্দেশে জেলার পুলিশ সদস্যদের ডোপ টেস্ট করার উদ্যোগ নেয়া হয়। সহেন্দভাজন ও গোয়েন্দা সংস্থা থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ২০১৯ সালের মে মাসে প্রথম ১২ জন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ পেয়ে তাদের ডোপ টেস্ট করানোর নির্দেশ দেয়া হয়। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় ১০ জনের পজেটিভ রেজাল্ট আসে। এসব সদস্যরা নিয়মিত মাদক সেবন করতেন।

পুলিশ সুপার তামভীর এসএস আরাফাত পিপিএম, বিবিএম (বার) জানান, ডোপ টেস্টে দুজন এসআই, দুজন এএসআই এবং চারজন কনস্টেবলের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের প্রমাণ মেলায় ইতোমধ্যে তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এ ছাড়া ট্রাফিক পুলিশে কর্মরত এক সার্জেন্টকে সাময়িকভাবে অপসারণের আদেশ জারি করা হয়েছে। অভিযুক্ত অারেকজন কনস্টেবলের বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকেও একই পরিণতি ভোগ করতে হবে।

পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের জানান, মাদক সেবনকারী এসব পুলিশ সদস্য কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন থানা ও ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। মাদকের বিষয়টি ধরা পড়ায় বিভাগীয় মামলার পাশাপাশি প্রথম দিকে তাদের অন্য জেলায় বদলি করা হয়। এর মধ্যে এক এসআইকে রাঙামাটিতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। আর ওই সার্জেন্টকে কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনে সংযুক্ত রাখা হয়েছে। মাদক সেবনের বিষয়টি ধরা পড়ার পর অন্য সবাইকে বিভিন্ন জেলায় বদলি করা হয়। তদন্তে মাদক গ্রহণের ঘটনা প্রমাণিত হওয়ার পর তাদের ৮ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত বলেন, মাদকের সঙ্গে কোনো আপস নয়। মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপি স্যারও মাদকের সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই শুদ্ধি অভিযান চলছে। আমরা কুষ্টিয়া থেকে মাদক নির্মূলের পাশাপাশি পুলিশ থেকেও চিরতরে মাদকাসক্তদের বাড়িতে পাঠাতে চাই। কোনো মাদক সেবনকারীর পুলিশে চাকরি করার অধিকার নেই। সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়