মান্দায় ব্যবসায়ির নিরাপত্তার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

আগের সংবাদ

ঈশ্বরদীতে অসহায় শিক্ষার্থীদের মাঝে উপবৃত্তির চেক বিতরণ

পরের সংবাদ

সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার আহ্বান

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৯, ২০২০ , ৬:০৯ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৯, ২০২০ , ৬:০৯ অপরাহ্ণ

সাম্রাজ্যবাদ ও ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ভারত ও বাংলাদেশের বামপন্থী নেতারা।রবিবার (২৯ নভেম্বর) ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির উদ্যোগে ‘ ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির শতবর্ষীয় মুভমেন্ট: সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং অসাম্প্রদায়িক ধর্মনিরপেক্ষ দক্ষিণ এশিয়ার জন্য কমিউনিজম’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনার এসব কথা বলেছেন বক্তারা।

বাংলাদেশের ওয়াকার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের সভাপতিত্বে ওয়েবিনার পরিচালনা করেন, পলিটব্যুরোর অন্যতম নেতা কমরেড ড. সুশান্ত দাস। ওয়েবিনারে মূলপত্র উত্থাপন করেন পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা।

ওয়েবিনারে আলোচক হিসেবে অংশ নেন ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআইএম) এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি, নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির সিনিয়র কেন্দ্রীয় নেতা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাধব কুমার নেপাল, পাকিস্তান কমিউনিস্ট পাটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক ডঃ আয়াজ মোহাম্মদ, সর্ব ভারতীয় ফরওয়ার্ড ব্লকের আন্তর্জাতিক কমিটির ইনচার্জ জি দেবরাজন।
মূলপত্রে ফজলে হোসেন বাদশা বাংলাদেশে বামপন্থীদের বিভিন্ন আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরেন। বিশেষ করে তেভাগা আন্দোলন, টংকা আন্দোলন, নানকার আন্দোলন, উল্লাপাড়া আন্দোলন, ত্রিপুরা ট্রাইবল আন্দোলনসহ আরো বহু আন্দোলন। শ্রমিক শ্রেনী ব্রিট্টিশ শাসন বিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

সীতারাম ইয়েচুরি তার বক্তবে বলেন, কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠার পর শতবর্ষ ধরে দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহের কমিউনিস্টরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তিনি বলেন, ১৯২০ সালে ভারত উপমহাদেশে কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠা হলেও তা পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলংকাসহ দক্ষিণ এশিয়ায় বিস্তার লাভ করে। ভারতীয় শাসক গোষ্ঠী বর্তমানে মার্কিন নীতি অনুসরণ করছে। তিনি বলেন, করোনা মহামারিতে চীন, ভিয়েতনাম তাদের সক্ষমতা দেখিয়েছেন শুধুমাত্র সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কারণে।

মাধব কুমার নেপাল তার বক্তৃতায় বলেন, শতবর্ষে দক্ষিণ এশিয়ায় কমিউনিস্ট আন্দোলন ঐতিহাসিক, দ্বান্দিক ও বস্তুবাদী ধারায় পার করেছে। ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠা নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়ার প্রভাব ফেলেছিলো। নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠা লাভ করে ১৯৪৯ সালে।

ড. আয়াজ মোহাম্মদ বলেন, ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠা হয়, ড. সাজ্জাদ জহির সেই সময় পার্টির নেতৃত্ব দেনে এবং গোপনে তিনি শ্রমিক ও কৃষকের মধ্যে পার্টি গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। পাখতুন খোয়া ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে পার্টির ভিত্তি তৈরি হয়।

দেবরাজন তাঁর বক্তৃতায় বলেন, ভারতে ১৩টি ট্রেড ইউনিয়নের মধ্যে ১১টিই বামপন্থীরা নেতৃত্ব দিচ্ছে। এখনো শ্রমিক ও কৃষকদের বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুললেও আমরা তা ভোটের বাঙ্কে প্রতিফলন কাটাতে ব্যর্থ হচ্ছি।

বক্তারা সাম্রাজ্যবাদ ও ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস অব্যাহত রাখতে কমিউনিস্ট আন্দোলনকে বেগবান করার আহ্বান জানান।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়