কর সংস্কৃতির বিকাশ ও কর ন্যায়পাল প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা

আগের সংবাদ

চাকরি হারালেন ঢাবির দুই শিক্ষক

পরের সংবাদ

পাহাড়ে শান্তি কতদূর?

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৯, ২০২০ , ১০:৫৩ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৯, ২০২০ , ১০:৫৩ অপরাহ্ণ

কিছুদিন পরপরই অশান্ত হয়ে উঠছে পার্বত্য অঞ্চল। রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলায় পাহাড়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ঘটছে প্রাণহানি। পার্বত্য অঞ্চলে পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন ও পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন আন্দোলনের নামে সক্রিয় আঞ্চলিক সংগঠনগুলো নিজেরাই পারস্পরিক দ্ব›েদ্ব লিপ্ত থাকছে সব সময়। আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিনিয়ত চলছে বন্দুকযুদ্ধ ও অপহরণের ঘটনা। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস), ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি, সংস্কার (এম এন লারমা) গ্রæপের মধ্যে সংঘাত লেগেই রয়েছে। অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গেও ঘটছে অস্ত্রধারীদের সংঘর্ষ। জানা গেছে, আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ২০১৯ সালের ২ জানুয়ারি থেকে পার্বত্য এলাকায় গত ২২ মাসে ৩৩ নারী-পুরুষ খুন হয়েছেন। এ বছরের ২৫ মার্চ থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত খুন হয়েছেন ২৩ জন। পাহাড়ের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘটছে নৃশংস হত্যাকাণ্ড। গত কয়েকদিন ধরে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি, রাজস্থলী ও কাপ্তাই এলাকায় আঞ্চলিক দলগুলোর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। পার্বত্য অঞ্চলের সঙ্গে ভারত ও মিয়ানমারের অধিকাংশ সীমান্ত এলাকা খোলা থাকায় অবৈধ অস্ত্রের আনাগোনা বেশি দেখা যায় বলে গতকাল ভোরের কাগজের একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি, বরকল ও জুরাছড়ির বেশ কিছু এলাকা দিয়ে ভারতের এবং বিলাইছড়ি ও রাজস্থলীর বেশ কিছু এলাকা দিয়ে মিয়ানমারের লোকজনের আনাগোনা বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। সম্প্রতি রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার কলেজপাড়া এলাকায় আরাকান আর্মির আস্তানা পাওয়া গেছে। এমন অবস্থা হলে পাহাড়ে সামনে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে পারে। এই বিষয়ে প্রশাসনকে দ্রæত নজর দিতে হবে। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ঐকমত্যের সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির আওতায় সে সময়কার বিচ্ছিন্নতাবাদী শান্তি বাহিনীর ২ হাজার সশস্ত্র কর্মী অস্ত্র সমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন। অবসান ঘটে অব্যাহত রক্তপাতের। দুঃখজনক ব্যাপার, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এখনো এক গ্রæপ আরেক গ্রুপের দিকে সব সময় বন্দুক তাক করে থাকছে। চুক্তি স্বাক্ষরকারী জনসংহতি সমিতির অভিযোগ পার্বত্য শান্তিচুক্তির যথাযথ বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিক নয় বলেই পাহাড়ে সংঘাত-সংঘর্ষ বন্ধ হচ্ছে না। সমিতির দাবি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন। অন্যদিকে সরকার বলছে, চুক্তি বাস্তবায়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। ইতোমধ্যে ৬০ ভাগ বাস্তবায়িত হয়ে গেছে। এটা সত্য যে, এ ধরনের চুক্তি বাস্তবায়ন রাতারাতি সম্ভব নয়। তবে পার্বত্য অশান্তির মূলে যে বড় সমস্যাগুলো রয়েছে যেমন ভ‚মি বিরোধ এ বিষয়গুলো দ্রæত নিষ্পত্তি হওয়া দরকার। পার্বত্য শান্তিচুক্তির পর পার্বত্য অঞ্চলে পর্যটন শিল্পের বিকাশসহ আরো সেসব সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছিল, অশান্তি-সংঘাত-সহিংসতা সেই সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করে দিচ্ছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখতে সরকারকে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়