কেশবপুরে মোবাইল চোর চক্রের তিন সদস্য আটক

আগের সংবাদ

গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যা, সৎ ছেলেকে খুঁজছে পুলিশ

পরের সংবাদ

কারাগার থেকে বেরিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি চেয়ারম্যানের

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৯, ২০২০ , ৯:৫০ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৯, ২০২০ , ৯:৫০ অপরাহ্ণ

ভিজিডির চাল আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কারাগার থেকে বেরিয়েই সংবাদ সম্মেলন করেছেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার রিফায়েতপুর ইউনিয়ন পরিষদের আলোচিত চেয়ারম্যান জামিরুল ইসলাম বাবু। এ সময় তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন উল্লেখ করে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেন। ভিজিডি কার্ড কেলেঙ্কারির এ ঘটনায় দায়ী করেন কতিপয় ইউপি মেম্বারকে। চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে মেম্বারদের অপরাধের দায়ভার তাকে বহন করতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন এই চেয়ারম্যান।

রোববার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে রিফায়েতপুর ইউনিয়ন পরিষদের নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান জামিরুল ইসলাম বাবু বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সকল মেম্বারের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত মোতাবেক দুস্থদের জন্য ২০১৯-২০ অর্থ বছরের ভিজিডি কার্ড সুষ্ঠুভাবে প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু এর মধ্যে ১০১টি কার্ডে ভুলবশত আগের অর্থ বছরের ৪ জন সুবিধাভোগীর নাম দ্বিতীয় বার চলে আসায় উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার নির্দেশনায় সংশোধনী এনে ওই চারজনের নাম বাদ দিয়ে নতুন ৪ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

চেয়ারম্যান জামিরুল ইসলাম বাবু বলেন, এর মধ্যে আব্দুর রাজ্জাক মেম্বার মর্জিনা খাতুনের নাম পরিবর্তন করে রুবেলা খাতুনের নামে অন্তর্ভুক্ত করেন, মানিক হোসেন মেম্বার নিলুফা খাতুনের নাম পরিবর্তন করে নাহারা খাতুনের নামে অন্তর্ভুক্ত করেন, আব্দুস সবুর ওরফে সবির মেম্বার সুকিলা খাতুনের নাম পরিবর্তন করে রুবিনা খাতুনের নামে অন্তর্ভুক্ত করেন এবং আমার নিজের দেয়া মাছুরা খাতুনের নাম পরিবর্তন করে কমেলা খাতুনের নামে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জামিরুল ইসলাম আরো বলেন, পরিবর্তন করা নামের কার্ডের মধ্যে মানিক মেম্বারের দেয়া নাহারা খাতুনের কার্ড নিয়ে এবং সবির মেম্বারের দেয়া রুবিনা খাতুনের কার্ড নিয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে আমি সংশ্লিষ্ট মেম্বারকে বিষয়টি নিষ্পত্তির নির্দেশ দেই। কিন্তু ৯ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুস সবুর ওরফে সবির বিষয়টি গুরুত্ব দেননি। বরং আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। তিনি বলেন, খোঁজ নিয়ে জানতে পাই, আব্দুস সবুর ওরফে সবির মেম্বার কর্তৃক রুবিনা খাতুনের নামে দেয়া ভিজিডির সংশোধনী কার্ডে তার ভাগিনা ব্যক্তিগত কাজের লোক শিতলাইপাড়া গ্রামের কামরুল ইসলাম ওই কার্ডের বিপরীতে চাল উত্তোলন করে আসছেন।

চেয়ারম্যান বাবু আক্ষেপ করে বলেন, আমাকে আব্দুস সবুর ওরফে সবির মেম্বারের এই অপরাধের দায়ভার বহন করতে হচ্ছে। আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং গভীর চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি। এই ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের মিথ্যা মামলা করে আমাকে জেলে পাঠানো হয়েছে। বিজ্ঞ আদালত থেকে জামিন পেয়ে মুক্ত হয়েই সাংবাদিকদের মাধ্যমে জনসম্মুখে আসল ঘটনা তুলে ধরার জন্য এই সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করেছি। মামলাটি দৌলতপুর থানায় তদন্তাধীন রয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত করা হলে প্রকৃত অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচিত হবে। আমি অবশ্যই এই মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি পাবো বলে প্রত্যাশা করছি।

জামিরুল ইসলাম বাবু সাংবাদিকদের জানান, উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক প্রভাবশালী নেতা প্রয়াত রবিউল ইসলাম সরকারের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করতে গিয়ে তিনি চরম প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন। বিএরপির হামলা মামলার শিকার হয়ে বাড়িঘর ছেড়ে দীর্ঘদিন ফেরারি জীবন যাপন করতে হয়েছে তাকে। দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে সেখানে বিএনপি প্রার্থীরা বারবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। কিন্তু এখন আর সেই দিন নেই।

চেয়ারম্যান জামিরুল ইসলাম বাবু বলেন, বিএনপি অধ্যুষিত রিফায়েতপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করে ২০১৬ সালের নির্বাচনে আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। কিন্তু বিএনপি বর্তমানে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল অবস্থানে থাকায় ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়ন প্রত্যাশায় নিজ দলীয় কুচক্রিরা আমার সুনাম ক্ষুণ্ন করতে নানামুখী তৎপরতায় লিপ্ত হয়েছেন। ভিজিডি কেন্দ্রিক এই মামলাটি সেই চক্রান্তেরই অংশ। সংবাদ সম্মেলনে দৌলতপুরে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা ছাড়াও ওই ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড মেম্বার ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, দৌলতপুর উপজেলার রিফায়েতপুর ইউনিয়নের শিতলাইপাড়া গ্রামের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী পরিবারের গৃহবধূ রুবিনা খাতুনের (৪৫) নামে দুস্থদের জন্য সরকারি বরাদ্দের ভিজিডি কার্ড তৈরি করে চাল আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জামিরুল ইসলাম বাবুকে গত ২৪ নভেম্বর কারাগারে পাঠানো হয়। চেয়ারম্যান জামিরুল ইসলাম বাবু আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিনের আবেদন করলে কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (দৌলতপুর) বিচারক মো. এনামুল হক শুনানির পর জামিন নামঞ্জুর করে চেয়ারম্যানকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন। তিনদিন পর ২৭ নভেম্বর তিনি জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন।

 

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়