বিশ্বজয়ী বাঙালি নারীকে অভিবাদন

আগের সংবাদ

পাহাড়ে শান্তি কতদূর?

পরের সংবাদ

জাতীয় আয়কর দিবস

কর সংস্কৃতির বিকাশ ও কর ন্যায়পাল প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৯, ২০২০ , ১০:৫১ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৯, ২০২০ , ১০:৫১ অপরাহ্ণ

আজ ৩০ নভেম্বর। জাতীয় আয়কর দিবস। ২০০৮ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত জাতীয় আয়কর দিবস ছিল ১৫ সেপ্টেম্বর। অর্থবছর শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে কর রিটার্ন দাখিলের সনাতন পদ্ধতি পরিবর্তন করে কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা নভেম্বরে নিয়ে যাওয়ায় জাতীয় আয়কর দিবসের এই নতুন নাম জারি। তারিখের পরিবর্তন যাই হোক না কেন জাতীয় আয়কর দিবসের তাৎপর্য পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে যেখানে কর জিডিপি রেশিও এখন তুলনামূলকভাবে যথেষ্ট কম, সে দেশের বিদ্যমান কর সংস্কৃতি-সংস্কার নিয়ে চিন্তা-ভাবনার যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে। কেননা দেশের আয়কর দেয়ার প্রেক্ষাপট দ্রæত উন্নত ও কার্যকর হওয়া দরকার। বাংলাদেশের ট্যাক্স জিডিপি অনুপাত কম হওয়াটাই একটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ পরিস্থিতির নির্দেশ করে। জিডিপি এত বেশি হলে ট্যাক্স কম হয় কী করে? তার মানে মানুষ ট্যাক্স ঠিকমতো দিচ্ছে না। তার মানে গুডস এন্ড প্রডিউসড না হয়ে টাকার অঙ্কে জিডিপির পরিমাণ বাড়ছে। তার মানে সমাজে আয়বৈষম্য বৃদ্ধি পাচ্ছে, তার মানে সম্পদের বণ্টন ব্যবস্থা ও ব্যবস্থাপনায় রয়েছে জটিলতা। আহরিত রাজস্বের মধ্যে প্রত্যক্ষ কর আয়করের অবস্থান এখনো তৃতীয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আহরিত মোট রাজস্ব আয়ের ৩৬-৩৭ শতাংশ ভ্যাট, ৩৩-৩৪ শতাংশ কাস্টম ডিউটি (সম্পূরকসহ আমদানি শুল্ক) এবং ৩০-৩১ শতাংশ আয়করের অবদান। অথচ অর্থনীতির স্বতঃসিদ্ধ নিয়ম হচ্ছে, আয়করের অবদান হবে সর্বোচ্চ। অন্যগুলো থাকবে তারপরে। যে অর্থনীতিতে কোটি কোটি টাকার পণ্য আমদানি হয়, সম্পদ ভোগ করতে পারে তারা কেন আয়কর দেবে না? আয়কর তৃতীয় অবস্থানে থাকবে কেন? অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণের এ ধরনের নাজুক কাঠামোর কারণে স্বাধীনতার পর ৪৯ বছরে দেশ ৬৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিদেশি ঋণ এবং প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলার অনুদান গ্রহণ করা হয়েছে। আর অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে গৃহীত ঋণের পরিমাণ পাহাড় সমান। বিদেশি ঋণের আসলের বার্ষিক কিস্তির পরিমাণ প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। দেশি-বিদেশি ঋণের বার্ষিক সুদ পরিশোধে বাজেটের প্রায় ১৯ শতাংশই চলে যাচ্ছে। এরকম একটি অর্থনীতিতে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণে খাতওয়ারি অসমাঞ্জস্যতাকে স্বাভাবিক অবস্থায় আনতে আয়কর আহরণ পরিস্থিতি উন্নয়নের বিকল্প নেই। আয়কর যথাযথভাবে দেয়া হলে ট্যাক্স জিডিপি অনুপাত বাড়বে, অসামঞ্জস্যতাও দূর হবে। যে দেশের ৬ লক্ষাধিক লোক ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতে পারে, মাসে শত শত গাড়ি আমদানি হয়, সেখানে আয়কর থেকে এত কম রাজস্ব আসতে পারে না।
দেশে বিদ্যমান আয়কর আইন, এর কাঠামো এবং এর প্রয়োগ কৌশল সম্পর্কে করদাতা ও কর আহরণকারীর দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়টিই আজ বিশেষভাবে বিবেচ্য হয়ে উঠছে এ কারণে যে, করদাতা আর কর আহরণকারীর মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন যত বাড়বে তত কর সংস্কৃতির বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে। কর আইনের রাজনৈতিক প্রয়োগ শুধু সাময়িক তিক্ততার সৃষ্টি করবে না দীর্ঘমেয়াদে অপপ্রয়োগের পথ উন্মোচিত হবে। আইন মানুষের জন্য, মানুষ আইনের জন্য নয় কিংবা মানুষের জন্য আইন, আইনের জন্য মানুষ নয় এই স্বতঃসিদ্ধ ব্যাপারটি বিশ্লেষণে গেলে এটা স্পষ্ট হয়ে প্রতিভাত হয় যে মানুষের কল্যাণেই আইনের প্রয়োজন। তবে মানুষ আগে আইন পরে।
আয়কর ব্যবস্থা যেখানে সামাজিক সুবিচার ব্যবস্থাপনায় রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যে পারস্পরিক-পরিপূরক দায়িত্ব পালনের বিষয়, ঔপনিবেশিক শাসন কাঠামোয় সঙ্গত কারণেই যার যথার্থতা অনুসরণ ছিল অনুপস্থিত, আজকের বাংলাদেশ অতীতের ঔপনিবেশিক শাসনামলে যেভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য বিনিয়োগ তথা আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক দিক দিয়ে বিপুল বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার ছিল তা কি এখনো অব্যাহত থাকবে? এ কথা অনস্বীকার্য থেকে যাবে যে বাংলাদেশের আয়কর আইনের ভাষা হবে সহজবোধ্য, জটিলতা পরিহারী এবং এর প্রয়োগ প্রবর্তন পদ্ধতি হবে স্বাচ্ছন্দ্যে সর্বজনীন ব্যবহার উপযোগী। করদাতা যেন নিজেই নিজের আয়কর ফরম পূরণ, কর নির্ধারণ এবং সরাসরি তা দাখিলে সক্ষম হন। অর্থনীতির বিভিন্ন পর্যায়ে অবস্থানরত আয়কর দাতারা যেন অভিন্ন আচরণে আইনগতভাবে আয়কর প্রদানে দায়িত্বশীল হতে স্বতঃস্ফ‚র্ততা বোধ করেন। কর আদায় নয় কর আহরণে করদাতা ও কর আহরণকারীর মধ্যকার দূরত্ব যত কমে আসবে, যত অধিক মাত্রায় করদাতা কর নেটের আওতায় আসবেন, তত কর রাজস্ব আহরণে সুষম, সহনশীল ও দায়িত্ববোধের বিকাশ ঘটবে। এরূপ পরিস্থিতিতে কর দাতাকে তাড়া করে ফেরার স্পর্শকাতরতার অবসান ঘটবে। তবে এসব কিছুই নির্ভর করবে আয়কর আইনের ভাষা আর দৃষ্টিভঙ্গিতে কার্যকর ও কল্যাণপ্রদ পরিবর্তন বা সংস্কার আনয়নের ওপর। আর সে প্রত্যাশা পূরণ প্রয়াসে আইন পরিষদ, নির্বাহী বিভাগ এবং করদাতা নির্বিশেষে সবার সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ আবশ্যক হবে। এই আবশ্যকতার কথা উচ্চারিত হচ্ছে অন্তত গত তিন দশক ধরে। সংস্কার, পরিবর্তন ও উন্নতির ধারাকে বেগবান করতেই বেগ পেতে হচ্ছে।
সে নিরীখেই এবারের আয়কর দিবসে কর ন্যায়পাল প্রতিষ্ঠানের প্রসঙ্গটি উঠে আসছে। কর ন্যায়পালের ধারণাটি কয়েক শতাব্দী পুরনো ঙসনঁফংসধহ বা ন্যায়পালের ধারণা থেকে উৎসারিত। সুইডেনে এর প্রথম প্রয়োগ, সুইডেনের পর নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যে ন্যায়পালের ধারণা বিস্তার লাভ করে। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সব গণতান্ত্রিক দেশেই সরকারের রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছাচারী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের জন্য কর ন্যায়পাল পদ্ধতি একটি কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে বিশেষভাবে স্বীকৃত। আন্তর্জাতিক ন্যায়পাল ইনস্টিউিটের মতে, বিশ্বের ১১৪টি দেশে ২৭০টি ন্যায়পাল প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আন্তর্জাতিক ন্যায়পাল ইনস্টিটিউট ন্যায়পালের ধারণা এবং এ ব্যাপারে গবেষণায় উৎসাহিতকরণ ও সহায়তা প্রদান, বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণ এবং ন্যায়পাল প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে থাকে।
স্বাধীনতা লাভের পর বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতারা ন্যায়পালের বিধান সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করেন। সংবিধানের ৭৭নং অনুচ্ছেদে ন্যায়পালের প্রতিষ্ঠা, ক্ষমতা ও দায়িত্বাবলি এবং এর আওতায় ১৯৮০ সালের ন্যায়পাল আইনে ন্যায়পাল নিয়োগের, অপসারণের, কার্যাবলি এবং এখতিয়ার নির্দিষ্ট করা হয়। করদাতাদের হয়রানি লাঘব, রাজস্ব দপ্তরের কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নিশ্চয়তা বিধানের লক্ষ্যে ২০০৫ সালে প্রবর্তিত হয় কর ন্যায়পাল আইন (২০০৫ সালের ১৯ নং আইন)। এর আওতায় প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের কর ন্যায়পালের কার্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৬ সালের ৯ জুলাইয়ে। সরকারের পক্ষে রাজস্ব আহরণকালে রাজস্ব বিভাগের (আয়কর, মূল্যসংযোজন কর ও শুল্ক দপ্তর) কর্মকর্তারা যাতে নানা অব্যবস্থাপনাসুলভ কিংবা স্বেচ্ছাচারী আচার-আচরণের দ্বারা করদাতাদের হয়রানি না করতে পারে সে ব্যাপারে জবাবদিহিতা বা প্রতিকার বিধানের ব্যবস্থাবলি সম্পর্কিত কর্তব্য দায়িত্ব, এখতিয়ার ও কর্মবিধানাবলি নির্দিষ্ট করা ছিল কর ন্যায়পাল অফিসের ওপর অর্পিত দায়িত্বাবলিতে। কর ন্যায়পাল আইনের ৩৮ ধারার আওতায় জারি করা কর ন্যায়পাল (অভিযোগ দাখিল, তদন্ত এবং নিষ্পত্তি) বিধি ২০০৭ অনুযায়ী রাজস্ব আইনকানুন প্রয়োগকালে রাজস্ব আহরণকারী দপ্তরের কর্মকর্তারা ক্ষমতার অপব্যবহার তথা স্বেচ্ছাচার ও হয়রানিমূলক কোনো পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কেউ কর ন্যায়পালের কাছে প্রতিকার বা প্রতিবিধান প্রার্থনা করতে পারবেন। কর ন্যায়পাল সেই আভিযোগ অনুসন্ধান, তদন্ত, বিচার-বিশ্লেষণ ও পরীক্ষা পর্যালোচনার পর ক্ষতিপূরণ কিংবা প্রতিকারের সুপারিশ করতে পারবেন। কর ন্যায়পাল কর প্রশাসন কর্তৃক অনিয়ম, আইনকানুন বিধিবিধানবহিভর্‚ত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, উদ্দেশ্যমূলক, স্বেচ্ছাচারী, বৈষম্যমূলক, অযৌক্তিক, ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি বা অসদুপায় অবলম্বনের মাধ্যমে গৃহীত কোনো সিদ্ধান্ত; কর প্রত্যার্পণের ক্ষেত্রে দায়িত্বে অবহেলা, ইচ্ছাকৃত বিলম্ব, অকর্মন্যতা কিংবা অদক্ষতা, ইচ্ছাকৃত ভুল, ফেরতযোগ্য অর্থ ইচ্ছাকৃতভাবে ধরে রাখা, কর উদ্ধারে নিবর্তনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ; কর আদালত কর্তৃক স্বেচ্ছার, পক্ষপাতিত্বের কিংবা অসদুদ্দেশ্যপ্রণোদিত উপায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দোষে দোষী সাব্যস্ত বা দায়ী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থতার বিষয়ও তদন্ত করতে পারেন। কর ন্যায়পাল নির্বাহী বিভাগের থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন অবস্থায় তার দায়িত্ব পালন করবেন এবং সব নির্বাহী কর্তৃপক্ষ কর ন্যায়পালকে সহায়তা প্রদান করতে বাধ্য। কর ন্যায়পাল আইন অনুযায়ী পঞ্জিকা বর্ষ শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে রাষ্ট্রপতির কাছে তার বার্ষিক প্রতিবেদন পেশ করবেন এবং পরে সেটি জাতীয় সংসদে উপস্থাপনীয় ছিল।
কর ন্যায়পাল প্রতিষ্ঠানের উপর্যুক্ত স্বব্যাখ্যাত কর্মকাণ্ডকে যথাযথ মূল্যায়ন কিংবা প্রতিষ্ঠানটিকে টেকসইকরণের পদক্ষেপের পরিবর্তে প্রবর্তনের মাত্র ছয় বছর পর সংসদে কর ন্যায়পাল (রহিতকরণ) বিল, ২০১১ পাসের মধ্য দিয়ে কর ন্যায়পাল পদ ও তার যাবতীয় কাজ রহিত করা হয়। যুক্তি হিসেবে বলা হয়, ‘বর্তমানে সরকার কর আদায়ে মানুষকে নানাভাবে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেয়ায় এ ধরনের ব্যয়সাধ্য প্রতিষ্ঠানের আর কোনো প্রয়োজন নেই। মানুষকে বোঝানো গেছে, প্রত্যেককেই কর দেয়া উচিত। গত ২ বছরে ২ লাখ করদাতা বেড়েছে। তাই কর ন্যায়পাল বাতিল করা দরকার।’ … ‘কর, ভ্যাট ও শুল্ক-সম্পর্কিত আইনের সঙ্গে ন্যায়পাল আইনটি সাংঘর্ষিক হওয়ায়’ সেটি রহিতকরণের প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করলে বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। দেখা যায় কর ন্যায়পাল কার্যালয়ে দাখিলকৃত অভিযোগ কর ভয়ভীতি দূরীকরণ বিষয়ক ছিল না। এগুলো ছিল কর রাজস্ব আহরণে আইনের ব্যাখ্যা ও প্রয়োগে মতবিরোধ এবং সে সূত্রে উৎসারিত হয়রানির প্রতিকার প্রার্থনামূলক। ‘প্রয়োজনের’ তাগিদেই কর ন্যায়পাল পদ তৈরি হয়েছিল আবার ‘প্রয়োজন নেই’ মনে করেই বাল্যবয়সেই এটি বিলুপ্ত করা হয়। ‘প্রয়োজন’ ‘অপ্রয়োজনের’ হিসাব-নিকাশটি যুক্তিযুক্ততার নিরিখে দেখতে গেলে এটা প্রণিধানযোগ্য হয়ে উঠবে যে, দেশে কর রাজস্ব প্রদান ও আহরণের সংস্কৃতিকে বলবান ও বেগবান করতে সদাচারী ও সুশাসিত পরিবেশ প্রেক্ষাপট নির্মাণের বিকল্প নেই। আর কর ন্যায়পাল প্রতিষ্ঠান সেখানে একটা প্রভাবক ভ‚মিকা রাখতে পারত।

ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ : সরকারের সাবেক সচিব, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান।
[email protected]

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়