ম্যারাডোনার প্রিয়তমার সঙ্গে এ কেমন আচরণ?

আগের সংবাদ

ভার্চুয়ালে গণমাধ্যমের অ্যাকচুয়াল সর্বনাশ

পরের সংবাদ

মাস্ক ব্যবহারে মনোযোগী হন

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৮, ২০২০ , ১০:২৪ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৮, ২০২০ , ১০:২৪ অপরাহ্ণ

২০১৬ সালের নিউ সাউথ ওয়েলসের একটি গবেষণায় বলা হয়েছিল মানুষ গড়ে ২৩ বার হাত দিয়ে মুখ স্পর্শ করে। বারবার এই মুখে স্পর্শ করার প্রবণতা করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। শুধু যে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে তাই নয়, অন্যান্য বায়ুবাহিত রোগ সংক্রমণের কারণও বটে। কেননা প্রতিনিয়ত আমরা জেনে না জেনে হাতে অসংখ্য জীবাণু বহন করছি। আর এসব রোগজীবাণু শীতের আর্দ্রতায় আরো সক্রিয় হয়ে উঠে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে গেলে তার হাঁচি-কাশির মাধ্যমে সুস্থ ব্যক্তির দেহে প্রবেশ করতে পারে, আর অনেকেই হয়তো করোনা ভাইরাস বহন করছে কিন্তু তাদের কোনো উপসর্গ নেই। আমরা হয়তো না বুঝেই কোনো দূরত্ব না মেনেই তাদের সঙ্গে মুখোমুখি বসে আলাপচারিতায় মেতে উঠছি, মুখোমুখি বসে কথা বলার সময় মুখ থেকে নির্গত থুতুকণা বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। মাস্ক পরা থাকলে কিন্তু এমনটা হতো না। তাই নিয়মিত হাত জীবাণুমুক্ত রাখার পাশাপাশি নিজেকে এবং চারপাশের মানুষদের সুরক্ষা দিতে মাস্ক ব্যবহারের বিকল্প দেখছেন না গবেষকরা। গবেষণার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব দেশেই মাস্ক ব্যবহার জরুরি। করোনা ভাইরাসের এই দ্বিতীয় ঢেউয়ের তাণ্ডব রুখতে মাস্ক ব্যবহার কতটা জরুরি তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। মাস্ক ব্যবহার সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে সামাজিকভাবে মাস্ক ব্যবহারের সুফল তুলে ধরে আরো প্রচারণা চালাতে হবে। মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডায় মাস্ক পরার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করতে হবে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাস্তার হকার, ভ্যানচালক, রিকশাচালক, স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত, হাট-বাজার, বিপণি বিতান, গার্মেন্টস-ফ্যাক্টরিসহ সব শিল্পকারখানায় কর্মরত যারা আছেন, এমনকি রাস্তার ভিক্ষুকদেরও মাস্ক ব্যবহারের গুরুত্ব সম্পর্কে বুঝাতে হবে। সরকারের দেয়া উপদেশের ওপর ভিত্তি করে আইন প্রয়োগকারীদের আরো কঠোর হতে হবে। মাস্ক ব্যবহারে বাধ্যতামূলক করার সঙ্গে সঙ্গে দরিদ্রশ্রেণির মানুষদের বিনামূল্যে পর্যাপ্ত মাস্ক বিতরণের কর্মসূচিও হাতে নেয়া যেতে পারে। করোনা ভাইরাসের বিস্তার কমাতে ইতোমধ্যে সরকার ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ অর্থাৎ মাস্ক পরিধান ছাড়া কাউকে কোনো সেবা দেয়া হবে না বলেও নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। কিন্তু শুধু নির্দেশনা জারি করেই কোনো পরিবর্তন আসবে না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ ঠেকাতে মাস্ক অতীব জরুরি এবং স্থানীয় প্রশাসন এই কাজে সফলভাবে ভ‚মিকা পালন করে সরকার এবং দেশ উভয়কেই সহায়তা প্রদান করতে সক্ষম হবে। কয়েক দিন ধরে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বেড়ে গেছে, ‘সেকেন্ড ওয়েভ’ বা দ্বিতীয় ঢেউ তার আগমনী ধ্বনি শুনাতে শুরু করেছে। তারপরও বলতে হয়, শুধু মাস্ক ব্যবহার নয় সঠিকভাবে সঠিক মাস্কটিই যেন ব্যবহার করেন মানুষ সে বিষয়েও সাধারণ জনগণকে সচেতন করা সরকারের দায়িত্ব। পূর্বে অনেক মানুষ বায়ুবাহিত রোগ প্রতিরোধে মাস্ক ব্যবহার করতেন, বিশেষ করে চিকিৎসকরা সবসময়ই তাদের কার্যক্ষেত্রে মাস্ক ব্যবহার করে আসছেন রোগজীবাণু প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে। আমরা সঠিক মাস্ক ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি ছোট্ট পরীক্ষার মাধ্যমে তা যাচাই-বাছাই করে নিতে পারি। কোনো মাস্ক পরে যদি ফুঁ দিয়ে জ্বলন্ত মোমবাতি নেভানো সম্ভব না হয় তবেই সেটি সবচেয়ে নিরাপদ মাস্ক। গত এপ্রিলে প্রথম কাপড়ের তৈরি মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেয় যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধকেন্দ্র ‘সিডিসি’। কারণ এতে মাস্ক বাতাস থেকে করোনার জীবাণু ছেঁকে ফেলতে পারে। এছাড়াও বেশকিছু বিশেষত্ব রয়েছে কাপড়ের মাস্কের। যদিও করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণা চলছে, তবে আমরা কবে পাচ্ছি সে বিষয়টি বেশ ঘোলাটে। দুর্বল অর্থনীতির দেশ হিসেবে আমাদের দেশে মাস্ককেই প্রথম ভ্যাকসিন হিসেবে নেয়া জরুরি। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ কতটা ভয়াবহ হতে পারে সে সম্পর্কে আসলে আমাদের কারোই সঠিক ধারণা নেই। ভ্যাকসিন আসার আগে করোনার একমাত্র রক্ষাকবচ হচ্ছে মাস্ক। তাই মাস্ক পরুন নিজে সুস্থ থাকুন অন্যকে সুস্থ রাখুন।

শিক্ষার্থী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়,
গাজীপুর, ঢাকা।
[email protected]

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়