আমার স্মৃতিতে আমার বিশ্ববিদ্যালয়

আগের সংবাদ

দুদকের জালে ১২ এমপি

পরের সংবাদ

বিদায় আলী যাকের

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৮, ২০২০ , ১০:৪৯ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৮, ২০২০ , ১০:৪৯ অপরাহ্ণ

এবার চলে গেলেন অভিনেতা, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি, নাট্যব্যক্তিত্ব আলী যাকের। গত শুক্রবার সকালে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন বরেণ্য এই অভিনেতা। তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। জীবনভর আলী যাকেরের সব কর্মকাণ্ডের প্রেরণা ছিল দেশপ্রেম। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠা, অভিনয় সবকিছুতেই বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণা তাকে চালিত করেছে। মঞ্চে অসাধারণ অভিনয় দিয়ে তিনি মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন। টেলিভিশন নাটক তার খ্যাতি এনে দিলেও মঞ্চে অভিনয়ের দিকপাল হিসেবে মানুষ তাকে কখনই ভুলবে না। দুই বাংলায় যে ক’জন বাংলা নাটকের স্বরূপ চিনেছিলেন, আলী যাকের তাদের মধ্যে অগ্রগণ্য। কীর্তিমান এই নাট্যজনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভোরের কাগজ পরিবারও শোকাহত এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছে। জানা গেছে, কয়েক বছর ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন আলী যাকের। চলছিল থেরাপি। গেল সপ্তাহে হঠাৎ শারীরিক জটিলতা বাড়লে হাসপাতালে নেয়া হয়। এরপর কিছুটা সুস্থ বোধ করায় গত শনিবার বাসায় ফিরে যান তিনি। এরপর সোমবারে টেস্ট রিপোর্টে জানা যায়, তিনি করোনা পজিটিভ। ক্যানসার আক্রান্ত শরীর করোনার ধাক্কা আর সামাল দিতে পারেনি। আলী যাকেরের জন্ম ১৯৪৪ সালের ৬ নভেম্বর চট্টগ্রামের রতনপুরে। তবে তার পৈতৃক বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে। মহকুমা প্রশাসক বাবার চাকরির সুবাদে তিনি কুষ্টিয়া ও মাদারীপুরে শৈশব কাটিয়েছেন। বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন আলী যাকের। তবে নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন অভিনয়ে। মুক্তিযুদ্ধ-উত্তর বাংলাদেশের গ্রæপ থিয়েটার আন্দোলনের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র তিনি। এ দেশের নবনাট্য আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা। শিল্পের আলোকচ্ছটা ছড়িয়েছেন অভিনয় মঞ্চে। পাশাপাশি টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করেও তিনি পেয়েছেন জনপ্রিয়তা। ‘আজ রবিবার’, ‘বহুব্রীহি’, ‘তথাপি’, ‘পাথর’, ‘দেয়াল’সহ বহু নাটকে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন আলী যাকের। বেতারে ৫০টির বেশি নাটক করেছেন তিনি। অভিনয় করেছেন বেশকিছু চলচ্চিত্রে। এছাড়া টেলিভিশনের জন্য নাটক লিখেছেন, করেছেন শখের ফটোগ্রাফি। লেখালেখিও করেছেন। স্বাধীনতার সোনালি ফসল হচ্ছে নাটক। আলী যাকের যখন মঞ্চে কাজ শুরু করেছিলেন, তখন এ দেশে মঞ্চ ছিল না। সে এক কঠিন কাজ বটে। সেই কঠিন কাজটির জন্য যে উদ্যম এবং যে সাহস প্রয়োজন ছিল, সেটা আলী যাকেরের মধ্যে ছিল শতভাগ। আজকে যে নাটক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে, আলী যাকেরের ভ‚মিকা অবিস্মরণীয়। তিনি মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে দাপুটে অভিনয়ের জন্য দর্শক হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন চিরকাল। আলী যাকেরের শিল্পীসত্তা জীবন্ত থাকুক, আত্মা থাকুক চিরশান্তিতে এই কামনা রইল।

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়