ডুমুরিয়ায় মাথায় ডাব পড়ে শিশু মৃত্যু

আগের সংবাদ

প্রেমে ব্যর্থ হয়ে কলেজ ছাত্রের গলায় ফাঁস

পরের সংবাদ

ফুটবলের অমর জাদুকর

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৭, ২০২০ , ৮:১৯ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৭, ২০২০ , ৮:২০ অপরাহ্ণ

কিংবদন্তি ফুটবলার ম্যারাডোনা বিশ্বের কোটি কোটি ভক্ত-সমর্থককে কাঁদিয়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। রেখে গেলেন এক মহাকাব্যিক ইতিহাস। মাদকে আসক্তির কারণে ২০০৪ সালে হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে তাকে ভর্তি হতে হয়েছিল। তাছাড়া নিজের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে দুবার গ্যাস্ট্রিক বাইপাস সার্জারিও করিয়েছিলেন। কিন্তু অ্যালকোহলের আসক্তি থেকে তিনি কোনোভাবেই নিজেকে মুক্ত রাখতে পারেননি। চিকিৎসকদের মতে, এই আসক্তিই তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিল।

ফুটবলের সবুজ গালিচায় দিয়াগো ম্যারাডোনা ছিলেন বাম পায়ের এক নিখুঁত চিত্রকর। আর্জেন্টিনার কাছে তিনি হয়ে উঠেছিলেন ‘ফুটবল ঈশ্বর’। তিনি ছিলেন ফুটবলের অমর জাদুকর- ফুটবল আকাশের এক উজ্জ্বলতম নক্ষত্র। ১০ নম্বর জার্সি পরে খেলার মাঠে আকর্ষণীয় ফুটবল খেলে ম্যারাডোনা নিজেকে ভীষণ জনপ্রিয় এক ফুটবলার হিসেবে পরিচিত করে তুলেছিলেন। ফুটবল তার পায়ের স্পর্শে নৃত্যের ফোয়ারা বয়ে দিত। অনেক বিশেষজ্ঞ, ফুটবল সমালোচক-সমর্থক এবং খেলোয়াড় তাকে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বিশ্বফুটবলের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ‘ফিফা’-র বিংশ শতাব্দীর সেরা খেলোয়াড় পেলের সঙ্গে যৌথভাবে ছিলেন। আর্জেন্টিনার হয়ে ম্যারাডোনা চারটি বিশ্বকাপে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। তিনি ৯১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে গোল করেছেন ৩৪টি। শুধু ফুটবলার হিসেবেই নয়, কোচ হিসেবেও ম্যারাডোনার নাম আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছে। ফুটবল জীবনে তিনি যেমন দাপিয়ে খেলেছেন, তেমনই খেলোয়াড়ি জীবনে ইতি টানার ১১ বছর পর ২০০৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের কোচিংও করেছিলেন তিনি।

সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ম্যারাডোনা ৪ বার আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে বিশ্বকাপ খেলেছেন এবং ১৯৮৬ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতান। সেইবার তিনি গোল্ডেন বলও জিতেছিলেন। ১৯৮৬ সালে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণে আর্জেন্টিনা খেলেছিল ইংল্যান্ডের সঙ্গে। পায়ে আঘাতের পর আঘাত করেও প্রতিপক্ষ আটকাতে পারেনি তাকে। অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছুটে গিয়ে ছয়জন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোল করার অসাধারণ ক্ষমতা দেখিয়েছিলেন এই ফুটবল জাদুকর। সে সময় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার প্রথম গোলটি ছিল বিতর্কিত। দেখা গিয়েছিল, তিনি হাত দিয়ে বলটি জালে জড়িয়েছিলেন। গোলটি ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে পরিচিত ছিল। সেই গোলটি সম্পর্কে ম্যারাডোনা বলেছিলেন- ‘ওটা আমার নয়, ঈশ্বরের হাত ছিল।’ সেই ম্যাচে তার দ্বিতীয় গোলটি ছিল চোখজুড়ানো। একের পর এক ফুটবলারকে কাটিয়ে তিনি গোল করেছিলেন, যা আজো বিশ্বের সব ফুটবল দর্শকরা মনে রেখেছেন। ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপেও তিনি আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছিলেন। কিন্তু সেরা হতে পারেননি। ১৯৯৭ সালে ফুটবলকে বিদায় জানানোর পর তিনি কোচিং শুরু করেছিলেন। ম্যারাডোনা খেলেছেন সব নামি-দামি ক্লাবে। স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা, ন্যাপোলি এবং সেভিয়া ছাড়াও তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে খেলেছেন।

১৯৯৪ সালে বিশ্বকাপে ফুটবল থেকে যখন ষড়যন্ত্র করে ম্যারাডোনাকে সরিয়ে দেয়া হয়েছিল, তখন ম্যারাডোনার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষও কেঁদেছিল। ক্ষোভে-দুঃখে রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছিল ম্যারাডোনা সমর্থক অসংখ্য মানুষ। ম্যারাডোনা শুধু ‘আর্জেন্টিনা’ বা ‘বিশ্বকাপজয়ী’ ফুটবলারের নাম ছিল না। ম্যারাডোনার আবির্ভাব শুধু কোনো দেশ বা সীমানায় সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি ছিলেন মনোমুগ্ধকারী এক বিশ্বব্রহ্মচারী। ম্যারাডোনা আর নেই। আচমকা এমন একটি খবরে থমকে গেছে গোটা ফুটবল দুনিয়া। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম এই খেলোয়াড় বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। যতদিন ফুটবল খেলা টিকে থাকবে, ততদিন ম্যারাডোনার ক্রীড়ানৈপুণ্য ভবিষ্যৎ ফুটবল খেলোয়াড়দের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

কবি ও লেখক।
[email protected]

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়