হাতিয়ায় ছাত্রদলের পদবঞ্চিতদের ঝাডু মিছিল

আগের সংবাদ

ভূরুঙ্গামারীতে কৃষক পাচ্ছে বিনামূল্যে গম বীজ

পরের সংবাদ

খালের দায়িত্বে দুই সিটি

জলাবদ্ধতা নিরসন ও খাল উদ্ধারে দৃঢ় ভূমিকা নিতে হবে

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৭, ২০২০ , ৮:৩৩ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৭, ২০২০ , ৮:৩৩ অপরাহ্ণ

অবশেষে রাজধানীর খালের দায়িত্ব দুই সিটি করপোরেশনের হাতে দিতে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এক সময় খালের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের হাতেই ছিল এবং আইনেও তাই আছে। পরবর্তী সময়ে কোনো এক সময় রাষ্ট্রপতির আদেশে সেটি ঢাকা ওয়াসার হাতে দেয়া হয়। ওয়াসার হাতে থাকাকালীন খালগুলোর করুণ হাল আমরা দেখছি। দুই সিটি পুনরায় দায়িত্ব পেলে খালগুলোর প্রাণ ফিরবে বলে আমরা আশা করতে পারি। নগরবাসীও জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে পারে। ‘বায়ান্ন বাজার তেপ্পান্ন গলির’ শহর রাজধানী ঢাকার সঙ্গে অসংখ্য খালের সরাসরি সম্পর্ক ছিল। সেই খালগুলোর অধিকাংশেরই মরণদশা। এসব খাল ভরাট করে অবৈধভাবে দোকানপাট, বাড়িঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেছেন প্রভাবশালীরা। ৭টি সংস্থার অধীনে থাকা এসব খালের একক কোনো অভিভাবক ছিল না। ওয়াসা নামমাত্র দেখভাল করত। সিটি করপোরেশন আইন (২০০৯) অনুযায়ী জনবলসহ খালের মালিকানা চেয়ে আসছিল তারা। ওয়াসাও দিতে প্রস্তুত ছিল। কিন্তু সিদ্ধান্তহীনতার কারণে ঝুলে ছিল দীর্ঘদিন। দুই সিটি করপোরেশনকে প্রথমে রাজধানীকে জলাবদ্ধতা থেকে বাঁচাতে হলে খালগুলো উদ্ধারে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগী হতে হবে। ঢাকা ‘প্রাকৃতিকভাবেই’ ছিল জলাবদ্ধতাবিহীন নগরী। এক সময় ঢাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মূলে ছিল শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে চলা খাল। যেগুলো নগরীর চারপাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ ও বালু নদের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। রাজধানীতে ৪৭টি খাল ছিল। এখন ২১টি খালের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। টিকে থাকা ২৬টি খালও অনেকটা প্রাণহীন। গত ৮ বছরে ঢাকার ১১টি খাল নর্দমা আর ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। আবর্জনায় জমাটবাঁধা খালের নর্দমায় খুঁটি পুঁতে পাটাতন বসিয়ে তার ওপর একের পর এক বস্তি তোলা হয়েছে। স্থায়ীভাবে আটকে গেছে পানিপ্রবাহের পথ। ৩০-৩২ বছর আগেও ঢাকার প্রান্তঃসীমায় স্রোতবাহী যেসব খালে পণ্যবাহী বড় বড় নৌকার আনাগোনা ছিল, সে খালগুলো এখন দুই-আড়াই ফুট চওড়া নর্দমার আকার ধারণ করেছে। দখলবাজদের আগ্রাসী থাবায় খালগুলোর অস্তিত্ব নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এমনকি সরকারি ওই দপ্তরে খালগুলোর কোনো নথি নেই। সায়েদাবাদ থেকে দয়াগঞ্জ, রাসেল স্কয়ার থেকে গ্রিনরোড চৌরাস্তা, মহাখালী থেকে নিকেতন বক্স কালভার্ট, ইব্রাহীমপুর বক্স কালভার্ট- প্রায় ১০ কিলোমিটার খাল ভরাট করে বক্স কালভার্ট করা হয়েছে। এ কারণে বর্ষায় পানি নিষ্কাশনে এসব খাল কার্যকর কোনো ভ‚মিকা রাখতে পারছে না। ওয়াসার একশ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশেই প্রভাবশালী মহল বছরের পর বছর ধরে খাল দখলের মচ্ছব চালিয়ে আসছে। রাজউক ও ওয়াসার মতো সংস্থার উদাসীনতা এবং কাজের ক্ষেত্রে তাদের সমন্বয়হীনতা খাল ও জলাশয়গুলো বিনষ্ট হওয়াকে বলা যায় অনিবার্য করে তুলেছে। আশা করছি নতুন করে দায়িত্ব পাওয়া সিটি করপোরেশন খালগুলো উদ্ধারে জোরালো ভূমিকা পালন করবে।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়