প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসে থাকবে ম্যারাডোনার মরদেহ

আগের সংবাদ

আজ বগুড়ায় শুরু হচ্ছে দুদিনব্যাপী কবি সম্মেলন ও বইমেলা

পরের সংবাদ

বস্তিতে অগ্নিকাণ্ড

প্রকৃত কারণ উদঘাটন করুন

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৬, ২০২০ , ৯:৩২ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৬, ২০২০ , ৯:৩৪ অপরাহ্ণ

শীত মৌসুমে প্রতি বছরই বস্তিতে আগুন লাগে। এবার মৌসুমের শুরুতেই সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার মধ্যরাত পর্যন্ত ২৭ ঘণ্টায় রাজধানীর মহাখালীর সাততলা বস্তি, মোহাম্মদপুর বাবর রোডের বিহারিপট্টি ও মিরপুরের কালশী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বাউনিয়াবাঁধের বস্তিতে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে রাজধানীর ভাসানটেকের সিআরপির পাশের বস্তিতে। এতে শতাধিক ঘর পুড়ে যায় এবং খালের পানিতে পড়ে দুই শিশু মারা যায়। রাজধানীতে বস্তিতে আগুন এবারই প্রথম নয়। বারবার আগুনে পুড়ছে নিম্ন আয়ের মানুষের স্বপ্ন। এরকম দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা, শহরের অপরিহার্য অংশ শ্রমজীবী নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবি। সাধারণত বস্তিঘরগুলো তৈরি হয় তীব্রভাবে দাহ্য টিন-বাঁশ, পলিথিন দিয়ে। একটি ঘরের কোথাও আগুন লাগা মানে নিমেষে লাগোয়া সব কিছু পুড়ে নিঃশেষ হয়ে যাওয়া। আর বস্তিবাসী একেবারেই প্রান্তিক আয়ের মানুষের এই মাথা গোঁজার আশ্রয়েই থাকে তাদের সহায়-সম্বল সব কিছু। গত সোমবার রাতে মহাখালীর সাততলা বস্তিতে আগুন লেগে পুড়ে গেছে ৬০-৭০টি ঘর। বাউনিয়াবাঁধ বস্তিতে আগুনে শতাধিক ঘর পুড়ে যায়। স্থানীয়রা বলছেন, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা বস্তি প্রশাসনের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ চেষ্টা এবং এর বিরুদ্ধে আদালতের স্থগিতাদেশ চলার মধ্যে গত পাঁচ বছরে এখনে ৬ বার অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এরপর চালানো হয় উচ্ছেদ কার্যক্রমও। বস্তিবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখল, বিরোধ, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন কারণে কৌশলে বস্তিতে আগুন লাগানো হয়। বস্তির মানুষ আশপাশের খোলা জায়গায় ঠাঁই নেয়। নিজেদের মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারিয়ে তারা এখন নির্মম এক সত্যের মুখোমুখি হয়েছে। এই ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার সামর্থ্য তাদের নেই। এদের জন্য জরুরি আশ্রয় ও ত্রাণের ব্যবস্থা করা সরকার ও সংশ্লিষ্টদের মানবিক দায়িত্ব। আমরা দেখছি রাজধানীর বস্তি এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে। এসব অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ ও সম্পদহানি হয়। সাধারণত বস্তি এলাকায় রান্নাঘরের চুলার আগুন ও বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের জন্য অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বেশি ঘটে থাকে। তবে অভিযোগ রয়েছে, পরিকল্পিতভাবে কড়াইল বস্তিতে আগুন দেয়া হচ্ছে। প্রতিটি ঘটনাই তদন্ত করে কমিটি ফায়ার সার্ভিসের ডিজির মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দেয়। তবে তদন্তে নাশকতার কোনো প্রমাণ মেলে না। রাজধানীতে জীবন-জীবিকার সুযোগ যেমন বেশি, তেমনি মানুষের বিড়ম্বনা ও বিপন্নতারও অন্ত নেই। প্রান্তিক মানুষের আবাসনের অসহায়ত্ব ও অনিরাপত্তা এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি। স্বল্প আয়ের মানুষের আবাসন সমস্যার সমাধানে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেয়া হলেও বস্তিবাসীর বিকল্প নিরাপদ আবাসনের বড় কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান হচ্ছে না। ফলে উচ্ছেদে পথে বসা, অগ্নিকাণ্ডে জানমাল খোয়ানো বস্তিবাসীর যেন নিয়তি হয়েই দাঁড়িয়েছে। বস্তিবাসীর সার্বিক জীবনমানের উন্নয়নে বড় ধরনের পদক্ষেপ নেয়া না হলে তাদের বিপন্নতার স্থায়ী সমাধান হবে না।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়