হুমকিদাতারা ক্ষমা না চাইলে কঠোর কর্মসূচি

আগের সংবাদ

নারী নির্যাতন বন্ধে আইন কার্যকরের আহ্বান টিআইবির

পরের সংবাদ

১৩০ ফুট উত্তরে সরছে মূল ভবন

ভাঙতে হচ্ছে কমলাপুর স্টেশন

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৫, ২০২০ , ৭:০৮ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৫, ২০২০ , ১১:৫০ অপরাহ্ণ

রাজধানীজুড়ে মেট্রোরেল প্রকল্পের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা কমলাপুর রেলস্টেশন স্থানান্তর বা ১৩০ পুটের মত উত্তরে সরানো হচ্ছে। অর্থাৎ কমলাপুর স্টেশনের মূল স্থাপণা কিছুটা ভাঙার প্রস্তাব দিয়েছে মেট্রো বাস্তবায়নকারী জাপানী প্রতিষ্ঠান ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) ও রেলওয়ের ডিজাইনার জাপানের কাজিমা করপোরেশন। মেট্রো নির্মানাধীন এ প্রতিষ্ঠানটির ডিজাইন বলছে, বর্তমান স্থানে স্টেশনটি থাকলে নির্মাণাধীন ঢাকা মেট্রোরেলের স্থাপনার আড়ালে পড়ে যাবে। সেকারণে মূল স্টেশন ভবনটি কিছুটা উত্তরে সরাতে হবে। তবে হাব তৈরিতে কোন প্রভাব পড়বে না।

গেল মঙ্গলবার রেল ভবনে এ সংক্রান্ত এক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে রেলসূত্রে জানা গেছে। বৈঠকে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন ও প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে কারিগরি দিক তুলে ধরে জাপানি প্রতিষ্ঠান কাজিমা করপোরেশনের নেতৃত্বে একটি সাবওয়ার্কিং গ্রুপ। তবে সবটাই নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রীর মতামতের ওপর বলে বৈঠকে জানা হয়েছে।

উত্তরা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ঢাকার প্রথম মেট্রোরেল নির্মাণকাজ চলমান। এর শেষ স্টেশনটি পড়েছে কমলাপুর স্টেশনের ঠিক সামনে। মেট্রোরেলের পথ (রুট) পরিবর্তিত হবে নাকি কমলাপুর স্টেশন সরানো হবে, এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। মেট্রোরেল এবং এর সব স্টেশনই হবে উড়ালপথে, মাটি থেকে কমবেশি ১৩ মিটার ওপরে। এর ফলে শেষ স্টেশনটি বিদ্যমান কমলাপুর রেলস্টেশন ভবনের সামনের অংশ ঢেকে দেবে। তবে রেল কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, মেট্রোরেল কমলাপুর স্টেশনের সৌন্দর্যহানি করবে। তাই রুট পরিবর্তন করা হোক। কিন্তু মেট্রোরেলের বাস্তবায়নকারী সংস্থা ডিএমটিসিএল রুট পরিবর্তন করতে রাজি হচ্ছিল না। তাদের বক্তব্য ছিল, রুট পরিবর্তন করলে দু-তিন কিলোমিটার পথ বেড়ে যাবে। এতে খরচও বাড়বে। এ ছাড়া মেট্রোরেল কমলাপুর পর্যন্ত বর্ধিত করার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিয়েছেন। পরিবর্তন করতে হলে প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি লাগবে।

এ বিষয়ে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সূজন জানান, বাংলাদেশ রেলওয়ে নিয়োজিত জাপানের কাজিমা করপোরেশনের নকশা ধরে কমলাপুর স্টেশনটিই ১৩০ মিটার উত্তরে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় কর্তৃপক্ষ রেলওয়ে এবং ডিএমটিসিএল রাজি হয়েছে। সেক্ষেত্রে আগের ভবনটির কিছু অংশ ভেঙে উত্তরে সরিয়ে নিতে হবে। এতে মেট্রোরেল ও হাবের কোনো পরিবর্তন করা লাগবে না। এখন প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি জানানো হবে। তিনিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।

বাংলাদেশ রেলেওয়ের মহাপরিচালক মো. শামসুজ্জামান বলেন, মেট্রোরেলের রুট নিয়ে কমলাপুর স্টেশনের কিছুটা সরানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। জাপানের কাজিমা কর্পোরেশনের ডিজাইন অনুযায়ী কমলাপুরের মেন স্টেশন ভবনটি ১৩০ মিটারের মত উত্তরে সরিয়ে নিতে হবে। তবে মেট্রো বাস্তবায়নকারী সংস্থা ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) এতে রাজি হয়েছে। তবে হাব তৈরিতে কোন প্রভাব পড়বে না।

তিনি জানান, মেট্রোরেলের কারণে কমলাপুর স্টেশন আড়ালে পড়ে গেলে এর সৌন্দর্য আর থাকবে না। তাই বাস্তবায়নকারী কোম্পানী মূল স্টেশন ভবনের আদলে একটি রেপ্লিকা বানিয়ে দেবে। আমরা স্টেশনটিকে মাত্র ১৩০ মিটারের মত উত্ততরে সরিয়ে নেব। এতে কোন কাজে বাঁধা হবে না। অন্য দিকে ২০১৮ সালে সরকারি-বেসরকারি যৌথ বিনিয়োগে (পিপিপি) কমলাপুর স্টেশন ঘিরে মাল্টিমোডাল হাব করার প্রকল্প সরকার নীতিগতভাবে অনুমোদন দেয়, সেটিরও কোন সমস্যা হবে না।

প্রসঙ্গত : প্রথমে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ১ দশমিক ১৬ কিলোমিটার বর্ধিত করে মেট্রোরেল কমলাপুর স্টেশন পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার কাজ চলছে। মেট্রোরেল এবং এর সব স্টেশনই হবে উড়ালপথে, মাটি থেকে কমবেশি ১৩ মিটার ওপরে। এর ফলে শেষ স্টেশনটি বিদ্যমান কমলাপুর রেলস্টেশন ভবনের সামনের অংশ ঢেকে দেবে। এ ছাড়া বিমানবন্দর থেকে আরেকটি মেট্রোরেল কমলাপুরে এসে মিশবে। এটি অবশ্য হবে পাতালপথে। এ প্রকল্পের নকশা প্রণয়নের কাজ চলমান।

অন্যদিকে ২০১৮ সালে সরকারি-বেসরকারি যৌথ বিনিয়োগে (পিপিপি) কমলাপুর স্টেশন ঘিরে মাল্টিমোডাল হাব করার প্রকল্প সরকার নীতিগতভাবে অনুমোদন দেয়। এর অধীন কমলাপুর স্টেশনের চারপাশে অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। থাকবে হোটেল, শপিং মল, পাতাল ও উড়ালপথ। বহুতল আবাসন ভবনও নির্মাণ করা হবে।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়