যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন, সন্তানসহ মা হাসপাতালে

আগের সংবাদ

ভ্যাট পদ্ধতি সহজ ও বোধগম্য করুন

পরের সংবাদ

নবান্ন উৎসব ও সংস্কৃতির ধারক

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৫, ২০২০ , ১০:৩৮ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৫, ২০২০ , ১০:৩৮ অপরাহ্ণ

প্রকৃতির অপরূপ লীলা বৈচিত্র্যের কেন্দ্রভূমি আমাদের মাতৃভ‚মি বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ। নানা রূপে, নানা রংয়ে আবর্তিত হয় একে একে ছয়টি ঋতু। এদেশের গাছ-পালা, মাটি, ফুল-ফল, পশু-পাখি, নদী-নালার মতো এরূপ বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশ পৃথিবীর আর কোথাও নেই। এদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছেন শিল্পী, সাহিত্যিক, কবি ও চিত্রকর। তাই তো কবি বলেছেন- ‘এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি/সকল দেশের রানী সে যে আমার জন্মভ‚মি’। মায়াময়, ছায়াময় কোকিল, দোয়েল ও ঘুঘু প্রায় ৬৮ হাজার গ্রাম নিয়ে আমাদের প্রিয় দেশ। প্রতিটি গ্রামই প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যমণ্ডিত। আবহমান গ্রামবাংলার চিরায়ত সৌন্দর্য, লাবণ্য ও সজীবতায় চোখ জুড়িয়ে যায়। কালের বৈচিত্র্যে শরতের পর আসে হেমন্ত। কার্তিক ও অগ্রহায়ণ এই দুই মাস হেমন্তকাল। বাতাসের সঙ্গে হালকা ঠাণ্ডা আর কুয়াশার চাদর বুকে জড়িয়ে হেমন্ত আসে শীতের পরশ মেখে। প্রভাতে সূর্যকিরণে দূর্বাঘাসের ওপর শিশির বিন্দুগুলো মুক্তোর মতো উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। এ সময় ফসলের ক্ষেত ভরে ওঠে সোনালি ধানের হাসিতে। কৃষকের গোলা ভরে ওঠে সোনালি ধানে। ঋতুবৈচিত্র্যের এ দেশে হাজার বছরের বাঙালিয়ানার বিভিন্ন সংস্কৃতি ধরা পড়ে বিভিন্ন উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে। নতুন ফসল ঘরে তোলার আনন্দে আয়োজন করা হয় নবান্ন উৎসবের যা আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্য। ঘরে ঘরে সৃষ্টি হয় এক উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশ।

হরেক রকমের পিঠা পুলি, পায়েস, ক্ষীর রান্না করে আত্মীয়-স্বজনদের নিমন্ত্রণ জানানো হয়। বিভিন্ন জায়গায় আয়োজন করা হয় নবান্ন মেলা। এছাড়াও অঞ্চলভেদে আয়োজন করা হয় জারি, সারি, লালন ও পালা গানের অনুষ্ঠান। ছোটদের বাড়তি আনন্দ দিতে মেলায় আসে নাগরদোলা, সার্কাস, পুতুলনাচ, বিভিন্ন রকম খেলনা ও খাবারের দোকান। কিন্তু অতীব পরিতাপের বিষয় সময়ের পরিক্রমায় নবান্ন উৎসবসহ গ্রামবাংলার চিয়ায়ত উৎসবগুলো দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। বিশ^ব্যাপী ক্রমাগত জলবায়ু পরিবর্তন ও শিল্পায়ন, নগরায়নের ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশেও। ক্রমাগত পরিবেশ দূষণের ফলে বাংলাদেশের আবহাওয়া ক্রমাগত পরিবর্তিত হচ্ছে। যার ফলে বাংলাদেশের ঋতুবৈচিত্র্য ক্রমাগত হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। এছাড়াও শিল্পায়ন ও নগরায়নের ফলে মানুষ ক্রমাগত শহরমুখী হচ্ছে। যার ফলে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামবাংলার চিরায়ত ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক রীতি-নীতি যা সত্যি কষ্টদায়ক। বাঙালি সংস্কৃতির রয়েছে সুপ্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্য যা জাতি হিসেবে আমাদের জন্য সত্যি গর্বের। আগামী প্রজন্মের সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক মানসিক বিকাশের জন্য এবং জাতি হিসেবে আমাদের স্বকীয়তা সমুন্নত রাখতে হলে আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও রীতি-নীতি লালন করার কোনো বিকল্প নেই। তাই পরিশেষে বলতে চাই বিশ^ যখন আধুনিকায়ন ও বিজ্ঞানভিত্তিক উৎকর্ষতার চরম শীর্ষে তখন বিদেশি সংস্কৃতির আগ্রাসন রুখতে হলে জাতি হিসেবে আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে এবং নিজেদের শিকড়কে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরার মাধ্যমে বিশ্বের বুকে বাঙালি সংস্কৃতির সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণœ রাখতে সদা সচেষ্ট থাকতে হবে।

শিক্ষক, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ।
[email protected]

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়