প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন দুলাল

আগের সংবাদ

সংবাদপত্র পর্যালোচনা

পরের সংবাদ

সাতক্ষীরার ফোর মার্ডার

ক্রাইম পেট্রল দেখে হত্যার কৌশল রপ্ত

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৫, ২০২০ , ৯:৩৫ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৫, ২০২০ , ৯:৩৫ পূর্বাহ্ণ

একদিকে ফেনসিডিল খাওয়া অন্যদিকে আয় না থাকা, দুটি বিষয় নিয়ে ভাবি সাবিনা বেশি কথা বলতেই থাকতেন রাহানুরকে। খাওয়ার সময়ও খোটা দিতেন। বিষয়টি কোনোভাবেই মানতে পারতেন না রাহানুর। পাশাপাশি বেকার হয়ে পড়ে থাকায় ডিভোর্স দেয় স্ত্রী ফাহিমা। এটি নিয়েও ছিল মানসিক চাপ। এক পর্যায়ে ভাবির বেশি কথা সহ্য করতে না পেরে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে রাহানুর। কিন্তু পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ভাবিকেসহ হত্যা করে বড় ভাই শাহিনুর ও তাদের দুই শিশু সন্তান তাছনিম ও সিয়ামকে। এরপরেও স্বপ্ন দেখছিলেন, সেদিনের ঘটনায় বেঁচে যাওয়া নিহত শাহিনুরের ৫ মাসের শিশু মারিয়া ও ডিভোর্স হওয়া স্ত্রীকে ফিরিয়ে এনে নতুন করে সংসার বাঁধার।

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের খলসি গ্রামে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ১ মাস ৫ দিনের মাথায় গত রবিবার চার্জশিট দাখিল করেছে সিআইডি। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির অতিরিক্ত ডিআইজি (খুলনা ও বরিশাল অঞ্চল) শেখ ওমর ফারুক এ তথ্য জানান। এ সময় সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (সাতক্ষীরা) আনিচুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক বলেন, মালয়েশিয়া থেকে ফিরে এসে কোনো কাজ পাচ্ছিল না রাহানুর। মাঝখানে কিছুদিন ড্রাইভিংয়ের কাজ করলেও আবার বেকার হয়ে পড়েন। এরপর ১০ মাস আগে স্ত্রী ফাহিমা অক্ষমতার দোহাই দিয়ে তাকে ডিভোর্স দেয়। এ নিয়ে প্রচণ্ড মানসিক কষ্টে ছিলেন তিনি। তখন থেকে বড় ভাই শাহিনুরের ঘরে খাওয়াদাওয়া করতে থাকেন। কিন্তু আয় না থাকা ও ফেনসিডিলে আসক্ত থাকায় সব সময় খোটা দিতেন ভাবি সাবিনা। একপর্যায়ে ভাবিকে হত্যার পরিকল্পনা করেন দুই মাদক মামলার আসামি রাহানুর।

সে মোতাবেক গত ১৪ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে ২টি স্পিড কিনে তাতে ঘুমের ওষুধ মিলান রাহানুর। কৌশলে তা ভাবি সাবিনা ও ভাতিজা সিয়াম ও ভাতিজি তাছনিমকে খাইয়ে দেন। এরপর বড় ভাইয়ের রুমে টিভিতে আইপিএল খেলা দেখতে থাকেন। রাত ১টার দিকে বড় ভাই মাছের ঘের থেকে ফিরে তাকে টিভি দেখতে দেখে বলেন, তুই বিদ্যুৎ বিল দিস না, টিভি দেখছিস কেন? তখন রাহানুর বলেন, গত মাসে তো দিয়েছি, এ মাসেও দিবো, নাও স্পিড খাও। শাহিনুর স্পিড খাওয়ার পর রাহানুর ঘুমাতে চলে যান।

রাত সাড়ে ৩টার দিকে একটি তোয়ালে পড়ে চাপাতি নিয়ে রাহানুর কার্নিশ বেয়ে বড় ভাইয়ের ঘরে প্রবেশ করে দেখতে পান, রুমের দরজা খোলা রেখে শাহিনুর ফ্লোরে শুয়ে আছেন। পাশের রুমের ফ্লোরে শুয়ে আছেন ভাবি সাবিনা ও ৩ শিশু বাচ্চা। ভাবি সাবিনাকে হত্যা করলে যদি ভাই জেগে যায় এ ভয়ে আগে শাহিনুরকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমে শাহিনুরকে কোপ দিলে নড়াচড়া করে ওঠেন, পরে গলা কাটেন। এতেও ভরসা পাচ্ছিলেন না। হাতের রগ কেটে দু’পা গামছা দিয়ে বেঁধে পাশের রুমে যান। সেখানে ভাবি সাবিনাকে প্রথম কোপ দিতেই জেগে গিয়ে চেঁচামেচি শুরু করেন। পরে তার গলা কেটে হত্যা নিশ্চিত করেন।

এ সময় জেগে ওঠে ভাতিজা সিয়াম ও ভাতিজি তাছনিম। হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে তাদেরও হত্যা করেন রাহানুর। আরেক শিশুর বয়স ৫ মাস হওয়ায় হত্যা না করেই কার্নিশ বেয়ে বের হয়ে পুকুরে চাপাতি ফেলে নিজের রুমে ঘুমাতে চলে যান তিনি। সকালে প্রতিবেশী আনিসুরকে ডেকে দরজা ভেঙে কান্নার অভিনয় করতে থাকেন রাহানুর। সিআইডির এ কর্মকর্তা আরো বলেন, ঘটনার সময় পাশের ঘরে থাকলেও কিছু টের না পাওয়ায় শুরু থেকেই রাহানুরকে সন্দেহ হয়। পরে তাকে ৫ দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ৩ দিনের মাথায় দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তার কথামতো রক্তমাখা তোয়াল ও চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে। লাশের ভিসেরা রিপোর্টে চেতনানাশক ওষুধের অস্তিত্ব মিলেছে। এক প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, ক্রাইম পেট্রল নামে একটি অনুষ্ঠান দেখে রাহানুর হত্যার কৌশল রপ্ত করে।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়