রৌমারীতে ইউপি নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দ

আগের সংবাদ

অর্থনীতি কী করোনা জয়ের পথে

পরের সংবাদ

ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে কিছু পদক্ষেপ

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৪, ২০২০ , ১০:৫২ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৪, ২০২০ , ১০:৫২ অপরাহ্ণ

সারাদেশ একদিকে যখন করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা করছে, অন্যদিকে তখন ডেঙ্গু রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে। এ বছরের আগাম শীতের আগমন এ ঝুঁকির মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০১৯ সালে সারাদেশে ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয় যার মধ্যে ১৭৯ জন মারা যায় এবং আক্রান্ত রোগীর ৪৯ হাজার ৫৪৪ জন ছিল ঢাকার বাইরের। ইতোমধ্যে চলতি বছর অক্টোবর মাসে ১৬৩ জন এবং নভেম্বরের প্রথম তিন সপ্তাহে ৩৪২ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা চিহ্নিত করা হয়েছে, যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ার আশঙ্কা করছে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও নগরবাসী।
বর্তমানে ডেঙ্গুর বাহক মশার উৎপাতে অতিষ্ঠ ঢাকাবাসী। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই ঝাঁকে ঝাঁকে মশার উৎপাত শুরু হয়। মশার যন্ত্রণায় ছেলেমেয়েরা ঠিকমতো লেখাপড়া করতে পারে না। মশার কয়েল স্বাস্থ্যের জন্য মোটেই নিরাপদ নয়। গরম ও শীত উভয় সময় মশা নিধনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না থাকায় মশা এখন বেপরোয়া। গত বছর মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বর এবং তার আগে চিকনগুনিয়া ব্যাপক আকারে দেখা দিয়েছিল। এখন মশার উৎপাত দেখে অনেকের মধ্যে ডেঙ্গু জ্বর ও চিকনগুনিয়ার আতঙ্ক ভর করছে।
ঢাকার কিছু এলাকাবাসীকে দিনের বেলাতেও মশার উৎপাত সহ্য করতে হচ্ছে। অনেকে দরজা-জানালা বন্ধ করে রেখেও মশার উৎপাত থেকে বাঁচতে পারছেন না। মশার ওষুধ স্প্রে করে, কয়েল কিংবা ধুপ জ্বালিয়েও রেহাই মিলছে না। অনেকে দিনের বেলাতেও মশার উপদ্রব থাকায় কোমলমতি ছোট বাচ্চাদের মশার হাত থেকে বাঁচাতে দিনেও মশারি টাঙিয়ে রাখেন। ডেঙ্গুবাহিত মশা সাধারণত দিনে সংক্রমিত করে।
সরকারের সেবাদানকারী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী উদ্যোগ না থাকায় ঢাকায় বসবাসকারীদের মশার উপদ্রব সহ্য করতে হচ্ছে। আগে দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হতো, বর্তমানে এ ধরনের কিছু চোখে না পড়ায় নগরবাসী উদ্বিগ্ন। ফলে মশার বংশবৃদ্ধির সুযোগও অবারিত। মশার জন্মরোধের ব্যবস্থা মশার উপদ্রব নিবারণের জন্য সর্বোত্তম করণীয়।
এটা সত্য যে, ঢাকার উত্তর-দক্ষিণ দুই সিটি করপোরেশনে মশা মারার জন্য যেমন ওষুধের অপর্যাপ্ততা রয়েছে তেমনি রয়েছে জনবল স্বল্পতা। তাছাড়া এ কার্যক্রমে স্থবিরতা, সমন্বয়ের অভাব এবং যথাযথ গাইডলাইনের অভাবও নগরীতে মশার বংশবিস্তারের অন্যতম কারণ। যে কারণই হোক না কেন, মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগের ঝুঁকি কমাতে এখনই উপযুক্ত পদক্ষেপ নেয়া জরুরি অন্যথায় গত বছরের মতো এ বছরও নগরবাসীকে ডেঙ্গু জ্বর মোকাবিলায় চরম মূল্য দিতে হবে।

সতিশ সরকার রোড,
গেণ্ডারিয়া, ঢাকা
[email protected]

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়