এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কার্যকর করা কেন প্রয়োজন

আগের সংবাদ

ডুমুরিয়া থেকে হারিয়ে গেছে চিরচেনা বাবুই পাখি

পরের সংবাদ

কোভিড-১৯ টিকা হোক সবার

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৩, ২০২০ , ১০:১৯ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৩, ২০২০ , ১০:১৯ অপরাহ্ণ

পুরো পৃথিবীর মানুষ একটি টিকার জন্য অধীর আগ্রহে আছে। শঙ্কাও আছে। বিজ্ঞানীরা কার্যকর টিকা উদ্ভাবনে সফল হলে তা কি সবাই পাবে? নাকি ধনী দেশগুলোর কব্জায় চলে যাবে? কীভাবে বিতরণ হবে এই টিকা, এর মূল্য কী হবে এবং এই বৈশ্বিক সংকটে কোনো দেশকে যে অবহেলা করা হচ্ছে না, সেটাই বা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে? এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্বের শক্তিশালী অর্থনৈতিক দেশগুলোর জি-২০ সম্মেলন। ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের প্রথমদিনে বিশ্বনেতারা গুরুত্ব দিয়েছেন করোনা ভ্যাকসিনের ন্যায্য বণ্টনের ওপর। সেই সঙ্গে করোনার সঙ্গে লড়াইয়ে বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোর জন্য কী কী ধরনের সহায়তা দেয়া যায়, সে বিষয়ে একটি খসড়াও তৈরি হয়েছে। বিশ্বের মোট জনসংখ্যা ৬০০ কোটি। প্রত্যেককে করোনা ভ্যাকসিন দিতে হলে অন্তত এক হাজার ২০০ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন প্রয়োজন। কবে নাগাদ বিশ্বের সব মানুষের কাছে করোনা ভ্যাকসিন পৌঁছানো সম্ভব হবে সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। জানা গেছে, কোভিড ১৯-এর ভ্যাকসিনের তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা শেষ করে এনেছে বিশ্বের ৬টি প্রতিষ্ঠান। ভ্যাকসিনগুলোকে কার্যকর বলে দাবিও করেছে এসব প্রতিষ্ঠান। এমন ঘোষণায় মানুষের মধ্যে ভ্যাকসিন পাওয়ার আশা তীব্র হয়েছে। তবে চাহিদার আকাশচুম্বী অবস্থায় উৎপাদন কম হওয়াতে তৃতীয় বিশ্বের মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। ধনী দেশগুলো ভ্যাকসিনের প্রি-অর্ডার করে রাখাতে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর জন্য ভ্যাকসিন পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। সম্প্রতি অক্সফাম এক প্রতিবেদনে বলছে বিশ্বের ধনী দেশগুলো মোট উৎপাদিত ভ্যাকসিনের ৫১ ভাগ কিনে রেখেছে। উদাহরণস্বরূপ, সফল হোক বা না হোক তা চূড়ান্ত হওয়ার আগেই ৬টি সংস্থা থেকে করোনার টিকা কেনার জন্য বড় অঙ্কের ক্রয় চুক্তি করে ফেলেছে ব্রিটেন। আমেরিকা দ্রুত সফল টিকা উৎপাদনে অর্থ বিনিয়োগ করে ৩০ কোটি টিকা কেনার আশা করছে। তবে আশার কথা, ধনী দেশগুলোর সঙ্গে যেন দরিদ্র ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোও ভ্যাকসিন পায় সেটি নিশ্চিতে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থাসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান মিলে কোভ্যাক্স কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এই প্রকল্পের আওতায় ২০২১ সাল শেষ হওয়ার আগেই বিশ্বজুড়ে নিরাপদ ও কার্যকর ২০০ কোটি ডোজ টিকা বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যায় বাংলাদেশ অনেকটা স্টেডি অবস্থানে রয়েছে। ধনী ও গরিব রাষ্ট্রের পরিসংখ্যান না দেখে ভ্যাকসিনের সুষম বণ্টনের ব্যবস্থা করতে পারলে হয়তো পরিত্রাণ পাওয়া যাবে। আর যদি এই ভ্যাকসিন পাওয়ার ক্ষেত্রে ভূ-রাজনীতি জড়িয়ে পড়ে তাহলে তো ভ্যাকসিনের প্রাপ্যতা নিয়ে অনেক দেশকেই ভুগতে হবে। পৃথিবীর এই সংকটময় পরিস্থিতিতে বিশ্ব রাজনীতির শিকার হোক মানুষÑ এমন অবস্থা যেন দেখতে না হয়। মানবিক এই বিপর্যয়ে কোভিড-১৯ টিকা যেন সবাই পায় তা নিশ্চিত করতে হবে।

এমআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়