মুক্ত পরিবেশে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করবে বিএনপি

আগের সংবাদ

ধান-চাল নিয়ে সিন্ডিকেট করতে দেয়া হবে না: খাদ্যমন্ত্রী

পরের সংবাদ

না ফেরার দেশে ফুটবলার বাদল রায়

প্রকাশিত: নভেম্বর ২২, ২০২০ , ৭:১৯ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২২, ২০২০ , ৯:৫৫ অপরাহ্ণ

ক্রীড়াঙ্গনের সবাইকে কাঁদিয়ে রবিবার (২২ নভেম্বর) বিকেল ৫টা৩০ মিনিটে ধানমন্ডির বাংলাদেশ মেডিক্যালে চিকিৎসারত অবস্থায় না ফেরার দেশে চলে যান বাদল রায়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬০। রেখে গেছেন স্ত্রী, এক মেয়ে ও এক ছেলে। সাবেক এই ফুটবলারের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি শোকগ্রস্ত পরিবারের প্রতি জানিয়েছেন গভীর সমবেদনা। ৫ নভেম্বর গুরুতর অসুস্থ হয়ে আজগর আলী হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি হন জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত সাবেক এই ফুটবলার।

১১ নভেম্বর অবস্থার অবনতি হলে তাকে আজগর আলী হাসপাতাল থেকে নেয়া হয় স্কয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে। পরে পরীক্ষা-নীরিক্ষায় সেখানে তার লিভারে ক্যান্সার ধরা পড়ে। ডাক্তাররা তাকে বাসায় নিয়ে যেতে বললে পরিবারের সদস্যরা স্কয়ার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্বাবিদ্যালয়ে নিয়ে আসেন। সেখান থেকে ডায়ালাইসিস করাতে নেয়া হয়েছিল ধানমন্ডির বাংলাদেশ মেডিক্যালে। কিন্তু তাকে আর বাঁচানো যায়নি।

জাতীয় দলের সাবেক তারকা ফুটবলার ও ক্রীড়া সংগঠক বাদল রায়ের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল।প্রতিমন্ত্রী এক শোক বার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

প্রতিমন্ত্রী শোকবার্তায় বলেন, জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত ফুটবলার ও বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক বাদল রায় দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক কিংবদন্তিতুল্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তাঁর মৃত্যু দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি তাঁর মেধা যোগ্যতা ও কর্মের মাধ্যমে দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে করেছেন সমৃদ্ধ। দেশের ফুটবলের উন্নয়নে তার অপরিসীম অবদান জাতি যুগ যুগ স্মরণ করবে।

২০১৭ সালে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে আক্রান্ত হন মোহামেডানের সাবেক এই অধিনায়ক। তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে নেয়া হয় সিঙ্গাপুরে। দীর্ঘ চিকিৎসার পর সেরে উঠলেও সেই অসুস্থতা ছাপ ফেলে যায় তাঁর শরীরে। গত আগস্টে আক্রান্ত হন কোভিডে। অসুস্থ অবস্থাতেও ফুটবলের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছিলেন। বাফুফের বিভিন্ন ব্যাপারে সোচ্চার হতে দেখা গেছে তাঁকে। ক্যাসিনো-কাণ্ডের পর মোহামেডানের পুনর্গঠনে রাখেন বড় ভূমিকা। সর্বশেষ বাফুফে নির্বাচনে সভাপতি পদে নির্বাচনও করেছেন কাজী সালাউদ্দিনের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে। এর আগে বাফুফের সহ সভাপতি হিসেবে তিন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন বাদল রায়।

বাদল রায় ৮০’র দশকে মোহামেডান স্পোর্টিংয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে খেলেছেন। জাতীয় দলেও ছিল সমান আধিপত্য। ছিলেন অধিনায়কও। বাদল রায় জাতীয় দলের হয়ে খেলেন ১৯৮১ থেকে ১৯৮৬ পর্যন্ত। ১৯৭৭ থেকে ১৯৮৯ পর্যন্ত খেলেন মোহামেডান স্পোর্টিংয়ের হয়ে। জেতেন পাঁচটি লিগ শিরোপা।

১৯৮১ ও ১৯৮৬ সালে মোহামেডানের অধিনায়ক ছিলেন তিনি। ১৯৮৬ সালে টানা তিন বছর পর মোহামেডানের লিগ জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন বাদল রায়। খেলা ছাড়ার পর মোহামেডানের ম্যানেজার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন সাবেক এই তারকা ফুটবলার।

খেলোয়াড়ি জীবন শেষে সংগঠক হিসবে সুনাম কুড়িয়েছেন। প্রিয় ক্লাব মোহামেডানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আমৃত্যু। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে যুগ্মসম্পাদক হিসেবে কাজ করার পর টানা তিনবার সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনে সহ-সভাপতি ছাড়াও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে ছিলেন। জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত এই সাবেক ফুটবলার ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করেছিলেন।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়