ড.-রাহমান-নাসির-উদ্দিন

মিয়ানমারের গণতন্ত্রায়ন, ‘মহামানবী’ সু চি (!) ও রোহিঙ্গা সংকট

আগের সংবাদ

দেশে মনিরদের সংখ্যা কম নয়!

পরের সংবাদ

কলকারখানার দূষনে কৃষি জমি ও জলাভূমি নষ্টের প্রতিবাদে মানববন্ধন

প্রকাশিত: নভেম্বর ২২, ২০২০ , ৯:১০ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২২, ২০২০ , ৯:১০ অপরাহ্ণ

পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলী ইউনিয়নের সরাইকান্দি গ্রামে কয়েকটি কলকারখানার কারণে জলাবদ্ধতা ও বিষাক্ত দূষন সৃষ্টি হয়ে হাজার হাজার বিঘা জমি পতিত পড়ে আছে, এবং আশেপাশে যত পুকুর আছে সেগুলো মৎস্য চাষের অনুপোযোগী হয়ে যাচ্ছে।

রোববার (২২ নভেম্বর) সকাল ১১ ঘটিকার সময় অপরিকাল্পতভাবে গড়ে উঠা শিল্প-কলকারখানার বিষাক্ত দুষিত পানি ও বর্জ নিষ্কাশন করে জমি রক্ষার দাবিতে বিশাল মানববন্ধন ও প্রাতিবাদ সমাবেশ করেন।

মানববন্ধনে বক্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী ও সরেজমিন তথ্য নিয়ে জানা যায়, অপরিকল্পিত শিল্প-কলকারখান স্থাপনের ফলে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের ভদ্রাবিল সংলগ্ন ১০ টি গ্রামের শত শত একর ফসলি জমি অনাবাদি পরিত্যাক্ত জমিতে পরিনত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার প্রধান যেখানে জোর দিয়ে ঘোষণা করছেন দেশের এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি ফেলে রাখা যাবেনা এবং অপরিকল্পিত ভাবে কৃষি জমিতে কলকারখানা স্থাপন করা যাবেনা সেখানে ঈশ্বরদীতে চলছে সম্পূর্ণ তার উল্টো ঘটনা। এই ঘটনা ঘটছে ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি এলাকার ভদ্রা বিল এলাকায়।

ভদ্রার বিল মুলাডুলি ইউনিয়নের সরইকান্দি এলাকার দাশুড়িয়া-নাটোর মহা-সড়কের পাশে অবস্থিত। তিন বছর আগেও এই ভদ্রার বিল এলাকার জমিতে বছরে দুইটি ফসলের আবাদ হতো এবং বর্ষাকালে স্থানীয় মানুষ এবং মৎস্যজীবীরা এই ভদ্রাবিলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতো, বিল এলাকার চতুর্দিকে কৃষকরা পুকুরে মাছের আবাদ করতো। কিন্তু গত তিন বছর থেকে এই চিত্র সম্পূর্ণ উল্টে গেছে।বিলটির পানি নিষ্কাশনের জায়গায় ব্যাক্তি উদ্যোগে পেপার মিল বসানোর কারণে বর্ষাকালে বিলের অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশিত হতে পারছেনা ফলে ভদ্রা বিল এখন একটি বদ্ধ জলাশয়ে পরিনত হয়েছে যা এখন সারা বছরই কচুরিপানায় ঢাকা থাকে। এছাড়াও কারখানার দূষিত পানি ও বর্জ বিলের পানিতে প্রবেশ করানোর ফলে বিলে কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছেনা, এমনকি কারখানার বিষাক্ত পানির কারণে বিল সংলগ্ন পুকুরেও মাছে চাষ করা সম্ভব হচ্ছেনা। দূষিত পানির কৃত্রিম জলাবদ্ধতার কারণে ভদ্রার বিল এবং তার সংলগ্ন প্রায় সাত শত একর জমি অনাবাদী পড়ে আছে। এই জমির ফসলের উপর নির্ভরশীল শত শত পরিবার বেকার হয়ে অবর্ণনীয় দুঃখ দূর্দশার মধ্যে পতিত হয়েছে। ভদ্রার বিল এলাকায় পেপার মিল ছাড়াও ফিডমিল সহ আরও কয়েকটি শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে, যে গুলোর দূষিত পানি পরিশোধন না করেই এই বিলে প্রবেশ করানো হচ্ছে ফলে বিলের বিষাক্ত দূষনে এই এলাকার জন জীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।

ভদ্রার বিলের দূষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে যে আট/দশটি গ্রামের কৃষকরা চরম দূরবস্থার মধ্যে পড়েছে তার মধ্যে রয়েছে সরইকান্দি, চাঁদপুর, ল´ীকোলা, কারিগর পাড়া, রামচন্দ্র পুর বহরপুর, দিবীপুর প্রভৃতি। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামের বাসিন্দারা জানান এখন বিলের সম্পূর্ণ এলাকাই মিলের ধূষিত পানি দ্বারা জলাবদ্ধ থাকে। এবিষয়ে সরইকান্দি গ্রামের আমজাদ হোসেন বলেন সরইকান্দির ভদ্রাবিলের জলাশয় ভরাট করে রশিদ পেপার মিল নির্মান করা হয়েছে। মিলের ওই জায়গাতেই বিলের পানি নিষকাশনের প্রধান নালা ছিল, ২০১৭ সালে পেপার মিল তৈরির সময় নালাটি বন্ধ করে দেয়া হয় যার কারণে এই বিল এলাকার শতশত একর জমিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সরইকান্দি গ্রামেরঅপর একজন কৃষক আলাউদ্দিন জানান এই সকল প্রভাবশালী মানুষের শিল্প কারখানার কারণে জলাবদ্ধ সৃষ্টি হওয়ায় জমির মালিকরা কম দামে তাদের জমি শিল্প মালিকদের কাছে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। দাশুড়িয়ার আফজাল হোসেন বলেন এই এলাকার কৃষকরা কয়েক বছর ধরে নিজের জমিতে আবাদ করতে না পেরে বর্তমানে তারা পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের কেউ কেউ অটো রিক্সা চালাচ্ছেন কেউ অন্যের জমিতে শ্রমিক হিসাবে কাজ করছেন। মুলাডুলির কামাল হোসেন মিঠু বলেন অপরিকল্পিত কারখানা তৈরির কারণে ২০১৭ সাল থেকে এই বিল এলাকায় দূষিত পানির জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন ২০১৭ সালের ১৬ আগষ্ট এখানকার জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য এলাকবাসী এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করেছিল। তখন কারখানা কর্তৃপক্ষ জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য প্রশ্রিুতি দিলেও আজও তা কার্যকর হয়নি। এলাকায় খোঁজনিয়ে জানা যায় কারথানা কর্তৃপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় এবিষয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে তাদেরকে প্রশাসনের মাধ্যমে হয়রানী করা হয় ফলে কেউ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায়না। ভদ্রা বিলের পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন দাশুড়িয়ার ইউপি চেয়ারম্যান বকুল সরদারের সাথে এবিষয়ে কথা বললে তিনি জানান ভদ্রা বিল এলাকার মানুষের দুর্দশার কথা তিনি জানেন কিন্তু এলাকাটি মুলাডুলি ইউনিয়নের অন্তর্গত হওয়ায় তিনি কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনা তবে মুলাডুলির চেয়ারম্যান এবং এলাকাবাসী চাইলে তিনি এবিষয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবেন।। অপরদিকে মুলাডুলি ইউনিয়নের চেয়াম্যান সেলিম মালিথার সাথে কথা বললে তিনি বলেন বিষয়টি সম্পর্কে তিনি জানেন কিন্তু এপর্যন্ত কেউ তার কাছে কোনো অভিযোগ নিয়ে আসেনি, এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করলে যথাযথ পদক্সেপ নেয়া হবে। ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা আব্দুল লতিফ এবিষয়ে বলেন, অপরিকল্পিত কারখানা তৈরির কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরো বলেন এবিষয়ে পাবনা জেলা কৃষি অফিসের মিটিংএ আলোচনা করা হয়েছে, আশা করি সংশ্লিষ্ট বিভাগ এবিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পেপার মিলের স্বত্ত্বাধীকারি আব্দুর রশিদের সাথে মোবাইলে কথা বললে তিনি বলেন তার মিলের দূষিত পানি বিলে যায়না কারণ তা মিলে পানি পরিশোধনের ব্যবস্থা আছে।

অপরিকল্পিত ভাবে শিল্প-কলকারখানা স্থাপন করে কৃষি জমি ও জলাভূমি দূষনের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, কামাল হোসেন মিঠু সাধারন সম্পাদক বাংলাদেশ আওয়ামিলীগ মুলাডুলি ইউনিয়ন শাখা, মো. আমিনুল ইসলাম, সভাপতি বাংলাদেশ কৃষকলীগ মুলাডুলি ইউনিয়ন শাখা, মো. আলম খান ইউপি সদস্য ৩ নং ওয়ার্ড, জাহাঙ্গীর আলম সাংগঠনিক সম্পাদক সেচ্ছাসেবকলীগ মুলাডুলি, আব্দুর সালাম ৬ নং ওয়ার্ড মুলাডুলি, আব্দুস সামাদ ৩ নং ওয়ার্ড মুলাডুলি, সাইদুল ইসলাম কৃষক প্রতিনিধি, প্রমুখ ।উক্ত মানববন্ধন কর্মসূচি সঞ্চালন করেন খাইরুজ্জামান রন্জন সাবেক সহ সভাপতি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ পাবনা জেলা শাখা।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়