অবৈধ অস্ত্র ও মাদকসহ স্বর্ণ ব্যবসায়ী মনির গ্রেপ্তার

আগের সংবাদ

সাংস্কৃতিক আন্দোলন ছড়িয়ে দিতে শিল্পকলার ৫ উদ্যোগ

পরের সংবাদ

বিসিসির আড়াই কোটি টাকার চার শতাধিক সিসি ক্যামেরা অকেজো

প্রকাশিত: নভেম্বর ২১, ২০২০ , ৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২১, ২০২০ , ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ

ব্যবস্থাপনার অভাব স্বীকার কর্মকর্তার
অপরাধী শনাক্তে ভরসা বিএমপির ২৯টি সিসি ক্যামেরা
পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার তাগিদ সচেতন মহলের

বরিশাল সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে ৪ শতাধিক ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা স্থাপন করা হলেও সঠিক তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলো আজ বিকল। তাই ৫৮ বর্গকিলোমিটার এরিয়ায় প্রায় ৬ লাখ নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে এখন একমাত্র ভরসা বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ২৯টি ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা। তবে জনসংখ্যা আর আয়তনের তুলনায় এটা যৎসামান্য বলে মনে করে সচেতন মহল। সম্প্রতি বরিশালে কিশোর সন্ত্রাসীদের একের পর এক ন্যক্কারজনক হামলার পর আলোচনায় আসে সিসি ক্যামেরার বিষয়টি। এদিকে প্রশ্ন উঠেছে আদৌ ৪৪০টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল কিনা? স্থাপিত সিসি ক্যামেরার সব অকেজো বলে স্বীকার করে সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, আগামী ১ মাসের মধ্যে ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরাগুলো সচল করা হবে।

সূত্রে জানা যায়, ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে বরিশাল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনা ঘিরে সিসি ক্যামেরা বসানোর নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বরিশাল সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে ২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪৪০টি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়। এছাড়া ওই ক্যামেরাগুলো নিয়ন্ত্রণে ৮টি নিয়ন্ত্রণ কক্ষও তৈরি করা হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির অভাবে একটি সিসি ক্যামেরাও সচল নেই। ফলে নগরীতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনা ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অবশ্য সচেতন নগরবাসীর অনেকেই নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছেন।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী ওমর ফারুক মুঠোফোনে বলেন, নগরবাসীর নিরাপত্তায় তৎকালীন প্রায় ৪৪০টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হলেও সঠিক ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে আদৌ কি ৪৪০টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল? আর যদি স্থাপন করা হয়ে থাকে তাহলে সেগুলো কোথায়? তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করে সচেতন মহল। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা সম্পন্ন করা
হয়েছে এবং আগামী ১ মাসের মধ্যে সিসি ক্যামেরাগুলো সচল করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী ওমর ফারুক।

এদিকে গত দেড় মাসের মধ্যে বরিশালে নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে কিশোর সন্ত্রাসী ‘আব্বা গ্রুপ’। জানা যায়, ওই গ্রুপের হামলায় বিএম কলেজের একজন শিক্ষক, একজন অফিস সহকারী, বরিশাল কলেজের ছাত্রদল নেতা টিপু গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলাকারীদের বিচার দাবিতে গত মঙ্গলবার বিএম কলেজের সামনে মানববন্ধনও করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। অপরদিকে নগরীর কাশিপুরে কিশোর সন্ত্রাসীদের হামলায় জখম হয়েছেন দুই কলেজছাত্র। এছাড়া সম্প্রতি নগরীতে একের পর এক চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা না থাকায় অপরাধী শনাক্ত করতে বেগ পেতে হচ্ছে প্রশাসনকে। ফলে পার পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা। এমতাবস্থায় অপরাধ দমন, নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সন্ত্রাসী শনাক্তকরণে সিটি ক্যামেরার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছে সচেতন মহল।

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) বরিশালের সভাপতি প্রফেসর শাহ্ সাজেদা বলেন, যুগের চাহিদা সিসি ক্যামেরা। বিশেষ করে স্কুল, কলেজ, ব্যাংকসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাগুলো তদন্তের স্বার্থে সিসি ক্যামেরার গুরুত্ব অপরসীম বলে মনে করেন তিনি। এছাড়া তৎকালীন মেয়র আহসান হাবিব কামালের আমলে স্থাপিত ৪৪০টি সিসি ক্যামেরা স্থাপনের সত্যতা যাচাইপূর্বক জনগণের প্রত্যাশা পূরণের জন্য বর্তমান মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদল্লাহর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

অপরদিকে চলতি বছর জানুয়ারি মাসে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও নগরবাসীর নিরাপত্তা আর সেবার মান বাড়াতে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উদ্যোগে নগরীর প্রবেশদ্বার ও জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানসহ বিভিন্ন পয়েন্টে ২৯টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। নগরীর আদালতপাড়া, নথুল্লাবাদ বাসস্টেশন, রূপাতলী বাসস্টেশন, কাকলির মোড়, জেলখানার মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ ১৩টি পয়েন্টে সিসি ক্যামেরাগুলো বসানো হয়েছে, যা নগরীর আমতলার মোড়ের অস্থায়ী মেট্রোপলিটন পুলিশ কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

বিএমপি কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান জানান, নগরবাসীর নিরাপত্তা, অপরাধ রোধের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণ ও নাগরিক সেবার মান আরো বাড়াতে এসব সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে গোটা নগরীকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। এছাড়া নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শপিংমল ও বহুতল ভবনগুলোতে নিজ নিজ উদ্যোগে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা উচিত বলে মনে করেন নগর পুলিশের শীর্ষ এ কর্মকর্তা।

এমআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়