ডিজিটাল বাংলাদেশে

আগের সংবাদ

কেশবপুরে এনজিও কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার

পরের সংবাদ

সিরাজগঞ্জ ও রাজশাহীতে জঙ্গি আস্তানা

জঙ্গিবাদ দমনে সাফল্য ও আরো করণীয়

প্রকাশিত: নভেম্বর ২১, ২০২০ , ৬:৩০ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২১, ২০২০ , ৬:৩১ অপরাহ্ণ

করোনা পরিস্থিতি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাঠোর অবস্থানের মধ্যেও জঙ্গি তৎপরতা থেমে নেই। জঙ্গিরা নানাভাবে নতুন করে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। তবে আশার কথা, জঙ্গিদের অঘটন পরিকল্পনা আগেই নস্যাৎ করা যাচ্ছে, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি বড় সাফল্য। এবার সিরাজগঞ্জ ও রাজশাহীতে জঙ্গি আস্তানা আবিষ্কার করেছে র‌্যাব। আস্তানা থেকে প্রশিক্ষিত ৭ জঙ্গি গ্রেপ্তার হয়েছে। আস্তানায় মিলেছে অত্যাধুনিক বিদেশি পিস্তল, চাপাতি, গানপাউডার, ডেটোনেটরসহ শক্তিশালী বোমা তৈরির সব আধুনিক সরঞ্জাম। পাওয়া গেছে বোমা তৈরির কলাকৌশল সমৃদ্ধ নথিপত্র। মিলেছে জঙ্গি প্রশিক্ষণের নির্দেশিকা ও জিহাদি বই। খোদ ঢাকাতেও একটি বাড়িতে ৩১টি বোমা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। উপরোক্ত ঘটনাগুলোকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ মোকাবিলার ক্ষেত্রে হলি আর্টিসান হামলা একটি মোড় ঘোরানো ঘটনা বলে আমি মনে করি। এ ঘটনার মাধ্যমে আমরা দেখতে পেলাম যে, জঙ্গিবাদের বিস্তৃতি কেবল দরিদ্র পরিবারের অশিক্ষিত বা অর্ধশিক্ষিত মাদ্রাসাপড়–য়াদের বেলায় প্রযোজ্য নয়। এই ব্যাধি ছড়িয়ে পড়েছে সমাজের অত্যন্ত উঁচু মহলে, উচ্চবিত্ত পরিবারের ইংরেজি শিক্ষিত ছাত্র ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে ছাত্রীদের মাঝেও। তাদের মধ্যে জঙ্গিবাদের ইন্ধনদাতা হিসেবে বেশকিছু শিক্ষক, ব্যবসায়ী এমনকি সামরিক বাহিনীর প্রাক্তন কর্মকর্তাদের ভ‚মিকার কথাও আমরা জানতে পেরেছি।

এমতাবস্থায় বর্তমান সরকার সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে। বলা যায় দেশে জঙ্গি তৎপরতা এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। এরপরও নানাভাবে নানা নামে জঙ্গিরা সংগঠিত হতে চেষ্টা করছে। বিশেষভাবে হিযবুত তাহরীরের সদস্যরা বেশি সক্রিয়। জঙ্গিরা করোনার কারণে ঘরে থাকা মানুষদের নানাভাবে জঙ্গিবাদে টানার চেষ্টা করছে। কারণ ঘরে থাকা অধিকাংশ মানুষই ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। সে সুযোগটিকে পুরোপুরি কাজে লাগানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। প্রসাশনের তৎপরতাও কম নয়। সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আগাম তথ্য নিয়ে বেশকিছু জঙ্গি আস্তানায় সফল অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম হচ্ছে। এই তৎপরতা অব্যাহত রাখতে হবে। জঙ্গি ধরপাকড়ের সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করতে হবে নতুন করে জঙ্গিবাদে যুক্ত হওয়ার ধারাও। পাশাপাশি জঙ্গি দমন অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকা অবস্থায় নব্য জেএমবি বা অন্য জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর গোপন তৎপরতা কীভাবে ও কিসের জোরে চলতে পারছে, তা গভীরভাবে জানার চেষ্টা করা দরকার। জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর অর্থায়ন কখনই পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, তাদের জনবল সংকটও কখনো স্থায়ী হয়নি। আমরা মনে করি, জঙ্গি অর্থায়ন বন্ধ হলে এদের তৎপরতাও কমে যাবে। জঙ্গিদের যে অর্থ তা খুব একটা দেশের বাইরে থেকে আসে না। অভ্যন্তরীণ লেনদেনের মাধ্যমেই জঙ্গিদের হাতে অর্থ যায়। এ বিষয়ে নজরদারি বাড়াতে হবে।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়
close