অর্থনীতিতে সংকটের আভাস

আগের সংবাদ

প্রকাশক প্রতিনিধির উপস্থিতিতেই বইমেলার নাম পরিবর্তন

পরের সংবাদ

সহসাই পূরণ হচ্ছে না আ.লীগের শূন্যপদ

প্রকাশিত: নভেম্বর ২০, ২০২০ , ৯:২৯ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২০, ২০২০ , ৯:২৯ পূর্বাহ্ণ

সভাপতিমণ্ডলী ২, সম্পাদক ১ ও সদস্য ৩

জাতীয় সম্মেলনের প্রায় ১১ মাস পেরিয়ে গেছে। কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের ৮১ সদস্যের কমিটিতে এখনো শূন্য আছে ৬টি পদ। সভাপতিমণ্ডলীর ২টি, সম্পাদক মণ্ডলীর (ধর্ম) ১টি আর কার্যনির্বাহী সদস্য ৩টি। যদিও সভাপতিমণ্ডলীর ১৯টি পদের সবকটিই সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনেই ঘোষণা করা হয়েছিল। সেপ্টেম্বরে মোহাম্মদ নাসিম আর এডভোকেট সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে শূন্য হয় এই দুটি পদ। আর সিলেটের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমেদ কামরানের মৃত্যুতে শূন্য হয় একটি সদস্য পদ। অন্য ৩টি পদ আগে থেকেই শূন্য আছে। আওয়ামী লীগের শূন্য এসব পদের সৌভাগ্যবান কারা? কার ওপর দলীয়প্রধান শেখ হাসিনার আস্থা? কারা পাচ্ছেন সভাপতিমণ্ডলীর দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদ? ধর্ম সম্পাদকসহ কার্যনির্বাহী সংসদের ৩ সদস্য পদে নতুন কে আসছেন? এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-পর্যালোচনা। দলটির অনেক পদপ্রত্যাশী মুখিয়ে আছেন, সেসব পদে আওয়ামী লীগপ্রধানের সুদৃষ্টি পেতে। কবে নাগাদ এই দুটি পদ পূরণ হবে, সে কথাও সবার অজানা। কাউন্সিল প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শূন্য এসব পদ পূরণ করবেন।

দলটির নীতিনির্ধারকদের কেউ কেউ বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব শূন্যপদ সহসাই পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা কম। শূন্য এই পদগুলো কবে নাগাদ পূরণ হতে পারে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, আমি মনে করি সহসাই এই পদগুলো পূরণ হবে না। কারণ গত ৮ থেকে ৯ মাস ধরে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড তেমন নেই। কেবল ৮টা বিভাগের জন্য টিম করা হয়েছে। এসব টিম কাজ শুরু করবে। সামনে আমাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু হবে। এরপরেই যোগ্যতার ভিত্তিতে এই পদগুলোতে নতুন মুখ আনা হবে। তিনি বলেন, শূন্যপদ পূরণ করলেই তো হবে না।

সঠিক মানুষকেই আনতে হবে। এটা নিয়ে পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। আমরা সবাই নেত্রীর ওপর দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছি। তিনি যাকে যোগ্য ও ভালো মনে করবেন, তাকেই নেবেন।

দলটির আরেক সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, এ নিয়ে সর্ববময় ক্ষমতা দেয়া আছে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার ওপর। তিনি ভাবছেন, সবাইকে তিনি চেনেন। তিনিই সিদ্ধান্ত নেবেন। তার ওপর দলের সব নেতাকর্মীর আস্থা আছে। তিনি কর্মীদের মনের কথা, মনের চাওয়া বোঝেন। তিনি যখন যাকে, যে পদে দায়িত্ব দেন, নেতাকর্মীরা তখন তাকে মেনে নেন। তার সঙ্গে কাজ করেন।

সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ অনেক বড় সংগঠন। এ দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে যাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তাদের অবশ্যই প্রজ্ঞা ও গভীর জ্ঞানের অধিকারী হতে হবে। দল ও নেতাকর্মীদের প্রতি কমিটেড এমন ব্যক্তিকেই সাধারণত সর্বোচ্চ ফোরামে জায়গা দেয়া হয়। এই সিদ্ধান্তটি নেয়ার ক্ষমতা জাতীয় কাউন্সিলর কর্তৃক দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনাকে দেয়া হয়েছে। তিনি যাকে ভালো মনে করেন, তাকেই নেতৃত্বে নিয়ে আসেন। তবে সভাপতিমণ্ডলীর শূন্য হওয়া দুটি পদের একটি জাতীয় ৪ নেতার পরিবারের কাউকে দেয়া হতে পারে। এ তালিকায় এ এইচ এম কামরুজ্জামানের ছেলে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন অথবা তাজউদ্দিন আহমেদের কন্যা সংসদ সদস্য সিমিন হোসেন রিমিকে দেখা যেতে পারে। আর অন্যটি দলের তৃণমূল পর্যায় থেকে কাউকে দায়িত্ব দেয়া হতে পারে। সেক্ষেত্রে দলের বর্তমান কার্যনির্বাহী সংসদের জ্যেষ্ঠ সদস্য আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ অথবা রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা নুরুল ইসলাম ঠান্ডুর সম্ভাবনা রয়েছে। ঠান্ডু দলটির প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিমকে ছাত্র রাজনীতিতে নিয়ে আসেন। আবার আওয়ামী লীগের আরেক সদস্য ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াকেও দেখা যেতে পারে এই পদে।

আর ধর্মবিষয়ক সম্পাদক পদে প্রয়াত শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর স্থলাভিষিক্ত কে হচ্ছেন, তা এখনই বলতে পারছেন না দলটির নেতাদের অনেকেই। তবে এই পদে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের খতিব আল্লামা ফরিদ উদ্দিন মাসউদকে দেখা যেতে পারে বলে ধারণা করছেন কেউ কেউ। আর কার্যনির্বাহী সংসদের ৩ সদস্যের মধ্যেও জাতীয় ৪ নেতার পরিবারের কাউকে কাউকে দেখা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিমের ছেলে তানভীর শাকিল জয় অথবা সৈয়দ নজরুল ইসলামের মেয়ে সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপিকেও দেখা যেতে পারে। তবে তানভীর শাকিল জয় ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর দৌহিত্র। বর্তমানে সেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি তিনি। ফলে বর্তমান কমিটিতে তাকে নাও দেখা যেতে পারে।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক দলটির সম্পাদকমণ্ডলীর ২ নেতা জানান, সহসায় এসব শূন্যপদে কাউকে দেখা যাবে না। কারণ এই মুহূর্তে নানামুখী চ্যালেঞ্জ নিয়ে রাষ্ট্র চালাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। কোভিড-১৯ মহামারি সামলাতে হচ্ছে তাকে। দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে হচ্ছে। এজন্য দিনরাত পরিশ্রম করছেন। সেই সঙ্গে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডও শুরু হচ্ছে পুরোদমে। এসব বিবেচনায় হয়ত এখনই সভাপতিমণ্ডলীতে কাউকে দেখা যাবে না। তাদের মতে অতীতেও দেখা গেছে, সভাপতিমণ্ডলী ও কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যপদ ফাঁকাই রাখা হতো। নেত্রী যখন কাউকে যোগ্য মনে করতেন, তখন এসব পদ পূরণ করতেন।

এমআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়
close