বাইডেনের সঙ্গে ট্রাম্প প্রসাশনের নীরব আতাত!

আগের সংবাদ

আখাউড়ায় ট্রেনের টিকিটসহ ৪ কালোবাজারী আটক

পরের সংবাদ

বিশ্বসেরা বিজ্ঞানীদের তালিকায় জাবির দুই অধ্যাপক

প্রকাশিত: নভেম্বর ২০, ২০২০ , ৩:২৪ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২০, ২০২০ , ৩:২৪ অপরাহ্ণ

বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় বিষয়ভিত্তিক গবেষণা কার্যক্রমে অবদানের ভিত্তিতে গবেষকদের এক বৈশ্বিক তালিকা তৈরি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। এতে বিশ্বের শীর্ষ ২শতাংশ বিজ্ঞানীর মধ্যে রয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এ মামুন এবং প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড.ইব্রাহিম খলিল।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব বায়োমেডিকেল ডাটা সায়েন্সের গবেষক জন আইওয়ান্নিডিস, নিউমেক্সিকোভিত্তিক সাইটেক স্ট্র্যাটেজিসের বিশেষজ্ঞ কেভিন ডব্লিউ বয়াক ও নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামভিত্তিক এলসেভিয়ারবিভির রিসার্চ ইন্টেলিজেন্সের গবেষক জেরোয়েন বাস বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় অবদান রাখা ১ লাখ ৫৯ হাজার ৬৮৩ জন বিজ্ঞানীর এ বিষয়ভিত্তিক তালিকা প্রকাশ করেন। প্রত্যেক বিজ্ঞানীকে তাদের নিজস্ব গবেষণাকাজের সংখ্যা ও সাইটেশনের ভিত্তিতে এ তালিকায় স্থান দেয়া হয়েছে।

চলতি বছরের অক্টোবরে “ফ্লস বায়োলজি”তে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রবন্ধে ‘কম্পোজিট সাইটেশন ইনডেক্স’ এর উপর ভিত্তি করে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়। গবেষণার সংখ্যা, সাইটেশন, গবেষণার প্রভাব, কী ধরনের জার্নালে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে এ ধরনের নানা দিক বিবেচনায় নিয়ে এ তালিকা করা হয়েছে। বিশ্বসেরা এ গবেষকদের তালিকাতে স্থান করে নিয়েছেন বাংলাদেশের ৫৬ জন গবেষক। প্রত্যেক বিজ্ঞানীকে তাদের নিজস্ব গবেষণা কাজের সংখ্যা ও ২০১৯ সালের সাইটেশনের ভিত্তিতে এ তালিকায় স্থান দেয়া হয়েছে। সাইটেশন (উদ্ধৃত করা) প্রক্রিয়া হলো বিজ্ঞানীদের গবেষণা কর্ম স্কলারে অন্তর্ভূক্ত করা। যেখানে অন্যান্য গবেষকরা আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্র থেকে তথ্য সূত্র হিসেবে ব্যবহার করেন।

‘প্লাজমা ফিজিক্স’ নিয়ে গবেষণা, প্রকাশিত জার্নালওবসাইটেশনের জন্য এ তালিকাভুক্ত হয় অধ্যাপক মামুন। এর আগে বাংলাদেশে কর্মরত বিজ্ঞানীদের মধ্যে গুগল স্কলারসে ১২ হাজার ‘স্কলারস সাইটেশন’র মাইলফলক অতিক্রম করে দেশসেরা গবেষক হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি। তার গবেষণার বিষয়ের মধ্যে রয়েছে প্লাজমা ফিজিক্স, কোয়ান্টাম ফিজিক্স ও মেডিক্যাল ফিজিক্স। এছাড়া তার হাত ধরেই বাংলাদেশের শুরু হয়েছে ডাস্টি ফিজিক্সের কার্যক্রম । এ বিষয়ে তার পিএইচডির থিসিস নিয়ে প্রায় ৫০০টির বেশি প্রবন্ধ লেখা হয়েছে। নিজে লিখেছেন প্রায় ৪১৪টি প্রবন্ধ। গবেষণায় অবদানের জন্য এর আগে তিনি পরপর ৩ বার দেশসেরা গবেষকের স্বীকৃতি লাভ করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননা অর্জন করেন।

বাংলাদেশের গবেষণা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী ম্যাগাজিন ‘সায়েন্টিফিক বাংলাদেশে’র প্রতিষ্ঠাতা মুনির উদ্দিন আহমেদ বলেন, গুগুল স্কলারসে দশ হাজার সাইটেশন একটি উল্লেখযোগ্য এবং উদযাপনযোগ্য মাইলফলক, বিশেষ করে একজন বাংলাদেশি গবেষকের জন্য। সম্প্রতি দশ হাজার সাইটেশনের মাইলফলক অতিক্রম করে ১৫ হাজারের ঘরে পৌঁছে ড. মামুন বাংলাদেশি গবেষকদের সামনে তিনি এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন।

অন্যদিকে ২.৫৬ স্কোর নিশ্চিত করার মাধ্যমে ড. ইব্রাহিম খলিল ‘কমপ্লিমেন্টারি এ্যান্ড অলটারনেটিভ মেডিসিন, ফুড সায়েন্স ও ক্লিনিক্যাল মেডিসিন’ শাখার ৯৫১৮ জন বিজ্ঞানীর মধ্যে ৫৪ তম স্থান অর্জন করেন। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিভিন্ন গবেষণা জার্নালে তার ১১০ টি প্রকাশনা রয়েছে। প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধ সমূহ থেকে ২০১৯ সালে মোট ৪৫০ বার সাইটেড (উদ্ধৃত) হওয়ায় ‘সাইটেশন ইম্প্যাক্ট’ এ বিশ্বের সেরা শতকরা ২ ভাগ বিজ্ঞানীর মধ্যে অন্তর্ভূক্ত করা হয় । মূলত মধুর ঔষধি গুণাগুণ নিয়ে গবেষণা করেন তিনি। এর আগে তিনি যুক্তরাজ্যের জার্নাল অব ফুড সায়েন্সে প্রকাশিত মালয়েশিয়ান মধুর উপর একটি গবেষণা কাজের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্সটিটিউট অব ফুড টেকনোলজিস্টস থেকে ২০১৪ সালে ‘মোস্ট সাইটেড পেপার’ অ্যাওয়ার্ড করেন তিনি।

এদিকে সেরা গবেষকের স্বীকৃতি পাওয়ায় অধ্যাপক ড. এ এ মামুন ও অধ্যাপক ড. ইব্রাহিম খলিলকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম ও শিক্ষক সমিতির পৃথকবার্তায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

সেরা বিজ্ঞানীর স্বীকৃতির বিষয়ে জানতে চাইলে অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে ড. ইব্রাহিম খলিল বলেন, “আমার এক ছাত্র আছে গত বছর সে আমেরিকাতে পিএইচডি করতে গিয়েছে। প্রথমে সে আমাকে ফোন কলে বিষয়টি জানায়। এটা জানার পর আমি সত্যিই অনেক অভিভূত হয়েছি। ইউনিভার্সিটি সাইন্স মালয়েশিয়াতে থাকা অবস্থায় যে কাজগুলো করেছিলাম সেটারই ফল এটা।”

গবেষণা নিয়ে নিজের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন,” আমি বিজ্ঞান গবেষণায় তরুণ প্রজন্মের গবেষকদের উদ্বুদ্ধ করতে এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিশ্বমানের গবেষণার পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতি বছর স্বর্ণপদক পুরস্কারের কথা চিন্তা করছি। যুক্তরাজ্যের চ্যান্সেলর কর্তৃক যে পদক পেয়েছি সেই পদকের অর্থ দিয়ে ‘এ এ মামুন গোল্ড মেডেল’ দিতে চাই এবং মারা যাওয়ার আগেই এটা করে যেতে চাই।”

এমআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়
close