চীনের কারখানাগুলো ভারত ও বাংলাদেশে আসছে না কেন

আগের সংবাদ

ফ্রি-ফায়ার গেমসে আসক্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা

পরের সংবাদ

রোহিঙ্গা সংকট

প্রত্যাবাসনে বিশ্বের জোরালো ভূমিকা দরকার

প্রকাশিত: নভেম্বর ২০, ২০২০ , ৭:০৪ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২০, ২০২০ , ৭:০৪ অপরাহ্ণ

মিয়ানমারের পরিস্থিতি বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ মানবিক এবং মানবাধিকার সংকটের একটি, এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ। বিশেষ করে যখন কোভিড মহামারির কারণে বিশ্ব এক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এই সংকট সমাধানের লক্ষ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে চতুর্থবারের মতো প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। গত বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট দিনে দিনে প্রকট হয়ে উঠছে। মানবিক সংকট হিসেবে শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে ভ‚রাজনৈতিক সংকটে রূপ নিচ্ছে রোহিঙ্গা ইস্যু। সংকট সমাধানের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মূল ভ‚মিকা রাখতে হবে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ওআইসি ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন যৌথভাবে প্রস্তাবটি উত্থাপন করে। এতে পৃষ্ঠপোষকতা করে ১০৪টি দেশ। এটি মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ অন্যান্য সহিংসতার শিকার নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলিম ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি বিপুলসংখ্যক জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্রের শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ ও অকুণ্ঠ সমর্থনেরই বহির্প্রকাশ। প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয় ১৩২টি দেশ। বিপক্ষে ৯টি। আর ভোটদানে বিরত থাকে ৩১টি দেশ। অর্থাৎ বিপুল ব্যবধানে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ওআইসির সদস্য রাষ্ট্র ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মেক্সিকো, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, সুইজারল্যান্ডসহ উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আন্তঃআঞ্চলিক জোটের সমর্থন ও সহপৃষ্ঠপোষকতা পায় প্রস্তাবটি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের বিষয়ে জাতিসংঘে পাঁচ দফা প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন। আশার কথা হলো, এখনো আন্তর্জাতিক মহল রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে তৎপর রয়েছে। জাতিগতভাবে নিধনের উদ্দেশ্যে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছে কয়েক দশক ধরে। কিন্তু গত ২০১৬ সালের অক্টোবর এবং সর্বশেষ গত বছরের ২৫ আগস্টের পর থেকে অভিযানের নামে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে বসবাসকারী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর অত্যাচার-নির্যাতন শুরু করে নির্মমভাবে। সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা, ধর্ষণের শিকার হয়েছে অসংখ্য রোহিঙ্গা নারী। সহিংসতার ঘটনায় প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এর আগে থেকেই আরো অন্তত ৪ লাখ রোহিঙ্গা বিভিন্ন সময়ে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। রোহিঙ্গাদের প্রতি সমবেদনা এবং মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় বাংলাদেশের প্রতি সংহতি এবং রোহিঙ্গাদের স্বদেশে প্রত্যাবাসনের তাগিদ জানিয়ে আসছে বিশ্ব সম্প্রদায়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গাদের নাগরিক পরিচয়ের স্বীকৃতি, তাদের ওপর নিপীড়ন বন্ধ করা ও নিরাপদ বসবাসের নিশ্চয়তা দেয়ার জন্য মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগে বিশ্ব সম্প্রদায়ের জোরালো ভ‚মিকা রাখতে হবে। মানবিক কারণেই প্রতিবেশী মিয়ানমারের নাগরিকদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়া হয়েছে। এই বিপুলসংখ্যক মানুষের বাড়তি দায়িত্ব বাংলাদেশের জন্য অবশ্যই বড় বোঝা। আমরা আশা করছি, দ্রুত এই সংকটের সমাধান হবে। এ অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি, স্থিতি এবং নিরাপত্তার জন্য রোহিঙ্গা ইস্যুর রাজনৈতিক সমাধান অপরিহার্য।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়
close