নিউজ ফ্ল্যাশ

আগের সংবাদ

পুঠিয়ায় গাছের সঙ্গে শত্রুতা

পরের সংবাদ

বজ্রনিরোধক স্থাপনে ধীরগতি, হয়নি পূর্বাভাস কেন্দ্র

প্রকাশিত: নভেম্বর ১৮, ২০২০ , ৮:১২ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ১৮, ২০২০ , ৮:১৪ অপরাহ্ণ

দেশে বজ্রপাতকে ‘জাতীয় দুর্যোগ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয় ২০১৬ সালে। লক্ষ্য ছিল জীবন ও মালের ক্ষয়ক্ষতি কমানো। নেয়া হয়েছিল প্রয়োজনীয় কিছু পদক্ষেপও। তবু বজ্রপাত থেকে মানুষের রেহাই মিলছে না। এ বছর এখন পর্যন্ত বজ্রপাতে মৃত্যুর রেকর্ড ছাড়িয়েছে।

ডিজাস্টার ফোরামের তথ্য মতে, এ বছর অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ৩৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে ২৭১ জন পুরুষ, নারী ২৯ জন আর শিশু ৮১ জন। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে মে থেকে জুলাই পর্যন্ত। কেবল জুন মাসেই মৃত্যু হয়েছে ১০৪ জনের।

যে বছর এটিকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে নথিভুক্ত করা হলো সে বছর অর্থাৎ ২০১৬ সালে বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছিল ৩৫০ জনের। এর পরের বছরগুলোতে সে সংখ্যা কমতে থাকে। ২০১৭ সালে ৩০২ জন, ২০১৮ সালে ২৭৭ জন ও ২০১৯ সালে ২৩০ জনের মৃত্যু ঘটে। তবে এ বছর বজ্রপাতে মৃত্যু অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়।

আবহাওয়াবিদদের মতে, দেশে বর্ষাবৃষ্টির মৌসুমে মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত বজ্রপাত বেশি হয়ে থাকে। তবে এ বছর ফেব্রুয়ারি বাদে প্রত্যেক মাসে বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। যাদের মধ্যে অধিকাংশই কর্মক্ষম ব্যক্তি। দুর্যোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিমাঠে-নদীতে কৃষক, জেলে ও মাঝিরা যখন কাজ করেন তখন বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে বলে কর্মক্ষম মানুষের মৃত্যু ঘটছে।

সরকার বজ্রপাত প্রতিরোধে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তারমধ্যে তালগাছ রোপন ও বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বজ্রনিরোধক যন্ত্র স্থাপন উল্লেখযোগ্য। তবে গত কয়েক বছরে তালগাছ রোপন অব্যাহত থাকলেও তার ফল মিলছে না। কারণ, তালগাছ বড় হতে সময় লাগে ১৫ থেকে ২০ বছর। আর তালগাছ লাগানো হচ্ছে রাস্তার ধারে। অথচ বেশি মৃত্যু ঘটছে ফসলি মাঠে। অন্যদিকে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বজ্রনিরোধক যন্ত্র স্থাপন এখনও শুরু হয়নি।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান ড. আবু রেজা মো. তৌফিকুল ইসলাম বলেন, অতীতের তুলনায় দেশে বজ্রপাতের মাত্রা ও তীব্রতা বেড়েছে। উঁচু গাছ কাটা, নদী জলশূন্য হওয়া, জলাভূমি ভরাট, পাহাড় কাটা, ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নই বজ্রপাতের কারণ। বৃটিশ আমলে স্থাপিত সীমানা পিলারগুলো অপসারণের ফলেও বজ্রপাত ঘটছে, যা এক সময় বজ্রনিরোধক হিসেবে কাজ করতো।

তিনি আরও বলেন, দেশে সবচেয়ে বেশি কম বজ্রপাত হয় টাঙ্গাইলে আর সবচেয়ে বেশি হচ্ছে হাওরঞ্চলখ্যাত সুনামগঞ্জে। বজ্রপাত প্রতিরোধে বেশি করে গাছ লাগানো ও বজ্রনিরোধক যন্ত্র স্থাপনের কোনো বিকল্প নাই।

তবে বজ্রনিরোধক যন্ত্র স্থাপনের বিষয়ে আর্থিক সঙ্কটকেই দায়ী করেছেন দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এনামুর রহমান। তিনি ভোরের কাগজকে বলেন, বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বজ্রনিরোধক যন্ত্র স্থাপনের প্রকল্পটি বেশ ব্যয়বহুল। এজন্য বিপুল বাজেট দরকার। এই বাজেট এই মুহূর্তে সরবরাহ করা আমাদের জন্য সম্ভব না। তবে আমরা প্রকল্পটি নিয়েছি। কয়েকটি কোম্পানিকে স্বল্পমূল্যে সরবরাহ করতে বলেছি। যে কয়েকটি কোম্পানির সঙ্গে কথা বলেছি প্রত্যেকটি যন্ত্রের দামই চেয়েছে সাত লাখ টাকা, যার কভারেজ মাত্র ৯০ স্কয়ার মিটার।

তবে আশার কথাও জানিয়েছেন দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা জাপানের সহযোগিতায় বজ্রপাতপ্রবণ এলাকাগুলোতে আগাম সতর্কতা জানানোর ব্যবস্থা করছি। যেখানে ৪০ মিনিট আগেই তাদের বজ্রপাতের পূর্বাভাস দেয়া হবে। যাতে করে তারা নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে পারেন। বিশেষ করে হাওর এলাকায় বজ্রপাত আশ্রয়কেন্দ্রে স্থাপনসহ এই পদক্ষেপগুলো নেয়া হচ্ছে।

পিআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়
close