দীর্ঘ বিরতির পর শুটিংয়ে ফিরলেন শাহরুখ

আগের সংবাদ

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বৈধ করার ঘোষণা ইতিবাচক

পরের সংবাদ

নদী খনন ও দূষণমুক্ত প্রসঙ্গ

প্রকাশিত: নভেম্বর ১৮, ২০২০ , ১০:৪১ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ১৮, ২০২০ , ১০:৪১ অপরাহ্ণ

বর্তমান সরকার দেশের নদ-নদীগুলো ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় ১৭৮টি নদী খনন ও পুনরুদ্ধার করে ১০ হাজার কিলোমিটার নৌপথ চলাচলের উপযোগী করার কার্য শুরু করেছে। এই প্রকল্প ২০২০-২১ সালে শুরু হয়ে আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে শেষ করার কথা রয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে খরচ হবে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা।
দেশে নদ-নদী দখল ও দূষণের চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দীর্ঘদিন ধরে এদিকে খেয়াল না দেয়ায় দেশের ২৩০টি নদ-নদী আজ মৃতপ্রায়। এসব নদ-নদী প্রায় ১০ হাজার প্রভাবশালী ভ‚মিদস্যু দখলবাজ দীর্ঘদিন ধরে দখল করে আসছে। তাছাড়া নদীগুলো আরো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, মিল কলকারখানার বর্জ্য, নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা শহর, নগরের মানুষের ব্যবহারের দূষিত নোংরা পানি, শহর বাজারের (মাছ, মাংস বাজারের নোংরা বর্জ্য) ড্রেনে দীর্ঘদিন জমে থাকা দূষিত বর্জ্য সরাসরি ড্রেনের মাধ্যমে নদীর সঙ্গে সংযোগ রাখার কারণে সাংঘাতিকভাবে নদী দূষণ হচ্ছে। মৃতপ্রায় এসব নদ-নদী দেখলে মনে হয় এ যেন বর্জ্য রাখার ভাগাড়। এসব নদ-নদী ধ্বংস করার পেছনে কাজ করছে এক ধরনের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। নদী দূষণ ও দখল এখন নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। আমাদের প্রায় প্রতিদিনই নদী দূষণ ও দখলের খবর মিডিয়ার মাধ্যমে চোখে পড়ে। বিআইডবিøউটিএ সব বিষয়ে দেখভাল করার কথা থাকলেও তারা সেটা না করে অনেক ক্ষেত্রে দখলদারদের সহযোগিতা করে আসছে। সারাদেশে নদী-নালা, খালবিল অবৈধভাবে দখল হওয়ার কারণে পানি প্রবাহের গতিপথ পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া দেশের অধিকাংশ মিল কলকারখানার বর্জ্য ও বসতবাড়ি, হাট-বাজারের নোংরা দূষিত পানি, মৃত প্রাণী, প্রাণীর পচা উচ্ছিষ্ট অংশ অহরহ নদ-নদীতে ফেলা হচ্ছে। শহর এলাকায় বস্তিবাসীদের অপরিকল্পিত অস্বাস্থ্যকর টয়লেট ব্যবস্থা ও বিভিন্ন ভবনের টয়লেট ড্রেনের সঙ্গে সংযোগ করে নদীতে ফেলা হচ্ছে। এতে নদ-নদীর পানি ব্যবহারের অনুপযোগী ও জলজ প্রাণী ধ্বংস হচ্ছে। নদী দূষণ সবচেয়ে বেশি হচ্ছে বড় বড় শহরের পাশে গড়ে ওঠা বিভিন্ন কলকারখানার বর্জ্য ড্রেনের মাধ্যমে খাল-নদীর সঙ্গে সংযোগ রাখায়। ঢাকা শহরের পরিবেশ দূষণ অস্বাস্থ্যকর বুড়িগঙ্গার দুর্গন্ধযুক্ত পানি ও বিভিন্ন খাল ডোবার দিকে তাকালেই এ দৃশ্য চোখে পড়ে। এভাবে দূষণ ও দখলের কারণে নদীগুলোকে মেরে ফেলা হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশ মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়ছে। তাছাড়া নদীর প্রবাহ না থাকায় প্রতি বছরই বর্ষাকালে মারাত্মক বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে। নদী দূষণকারী শুধু প্রভাবশালী কলকারখানার মালিকরাই নয়, সরকার নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন সংস্থা বিভিন্নভাবে নদ-নদী দূষণ করছে। দেশের নদীগুলোর পাড়ে গড়ে ওঠা সিটি শহর ও শত শত পৌর এলাকায় বর্জ্য অপরিকল্পিতভাবে ড্রেনের মাধ্যমে সরাসরি নদীতে ফেলা হচ্ছে। এছাড়া দেশে সুগারমিলগুলো অস্বাস্থ্যকর বর্জ্য, রোগজীবাণু বহনকারী মশা-মাছির উপদ্রব ও বংশবিস্তারের সাহায্য করে। এই বর্জ্যগুলো ড্রেনের মাধ্যমে সরাসরি নদীতে সংযোগ করা হয়, যা নদী দূষণের অন্যতম প্রধান কারণ।
নদী রক্ষায় শুধু প্রকল্প গ্রহণ করলেই হবে না, বাস্তবায়নও করতে হবে। নদীর তীরে মিল কলকারখানা নির্মাণ বন্ধ করতে হবে। ইতোপূর্বে যেসব মিল কলকারখানার বর্জ্য শোধনাগার নেই সেগুলোর শোধনাগার তৈরি বাধ্যতামূলক করতে হবে। দেশের বড় বড় শহর, সিটি শহর, জেলা শহর, পৌর এলাকা দূষিত বর্জ্য ড্রেনের মাধ্যমে নদীর সঙ্গে সংযুক্ত না করে শোধনাগারের মাধ্যমে শোধন করতে হবে। সমুদ্রের পাড়ে জাহাজভাঙা শিল্প নদী দূষণ ও পরিবেশ দূষণের কারণে বন্ধ করতে হবে অথবা নদী দূষণ ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। লঞ্চ, স্টিমার নির্মাণ ও মেরামতকালে নদী ও সমুদ্রের পাড়ে তৈলাক্ত বর্জ্য নিঃসরণ বন্ধ করতে হবে।

সাংবাদিক ও লেখক, সাতক্ষীরা।
[email protected]

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়