বায়ুদূষণ ঠেকাতে ব্যবস্থা

আগের সংবাদ

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা

পরের সংবাদ

ওষুধ ক্রয়ে সতর্কতা প্রয়োজন

প্রকাশিত: নভেম্বর ১৮, ২০২০ , ১১:১১ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ১৮, ২০২০ , ১১:১১ অপরাহ্ণ

পাড়া বা মহল্লার মোড়ে মোড়ে ব্যাঙের ছাতার মতোই মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে ফার্মেসি। আমরা সহজেই হাতের নাগালে পাচ্ছি যে কোনো ধরনের ওষুধ। তবে তা ক্রয়ের ক্ষেত্রে আমরা কতটা সচেতন? ফার্মেসিগুলোতে রেজিস্টার্ড ফার্মাসিস্ট নিয়োগের যে বিধান রয়েছে, তা প্রশাসন থেকে নিশ্চিত করা হচ্ছে তো? যে কোনো ওষুধ ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া ক্রয় বা বিক্রয় করা অবশ্যই বিপজ্জনক। আমাদের ওষুধ ক্রয় করার সময় অবশ্যই ওষুধের মেয়াদ এবং ওষুধটা নকল না আসল যাচাই করে দেখে ক্রয় করতে হবে। মাথায় রাখতে হবে ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহারের ফলে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারি আমরা। বিভিন্ন ওষুধ রাখার নিয়ম আলাদা। ওষুধের গায়ে সে কথা লেখা থাকে। নিয়মানুযায়ী উপযুক্ত পরিবেশে ওষুধ রাখলে তার কার্যকারিতা বজায় থাকে দীর্ঘদিন। তাই ওষুধ ক্রয় করার সময় এই বিষয়টিও আমাদের মাথায় রাখতে হবে। ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ আপনাকে নিরাময় না দিয়ে আরো বেশি অসুস্থ করতে পারে কিংবা দীর্ঘমেয়াদি নানা রকম রোগে ভুগতে হতে পারে। খুব তাড়াহুড়ো করে ওষুধ ক্রয় করলে অনেক সময় ভুল হয়ে যেতেও পারে, তাই ওষুধ ক্রয়ের সময় আমাদের বাড়তি সতর্কতা জরুরি। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের হিসাবে দেশে ফার্মেসির সংখ্যা ১ লাখ ২৪ হাজারের মতো। তবে এসব লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের বাইরেও ব্যক্তি উদ্যোগে পরিচালিত হয় কয়েক হাজার ফার্মেসি। একটি চক্রের মাধ্যমে এসব নকল, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধই ছড়িয়ে পড়ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন ফার্মেসিতে।
ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ আমরা কীভাবে চিনব? সাধারণত সব ওষুধের প্যাকেটের গায়ে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ দেয়া থাকে। যারা খুচরা পাতা বা পিস হিসেবে ওষুধ ক্রয় করে থাকেন সে ক্ষেত্রে হয়তো একটু বেশি সতর্কতা প্রয়োজন। অনেকেরই জানা থাকে না মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ কোথায় কীভাবে দেয়া থাকে। ওষুধের স্ট্রিপের গায়ে ওপরে বা নিচের অংশে স্পষ্ট কিছু ইংরেজি সংখ্যা এবং অক্ষরে ওই ওষুধের মেয়াদোত্তীর্ণের সময় লেখা আছে। ওষুধ কেনার সময় যদি পুরো বক্স না কেনা হয়, খুচরো কিংবা পিস হিসাবে কেনা হয় তাহলে ওষুধের পুরো প্যাকেট বা বক্স নিজের হাতে নিয়ে চেক করা যেতে পারে।
ভেজাল বা নকল ওষুধ শনাক্তে সরকারের পাশাপাশি নাগরিকেরও দায়িত্ব রয়েছে।
একজন নাগরিক যখন ওষুধ কিনতে যান তখন তিনি খুব সহজেই সেটি যাচাই করে নিতে পারেন। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী পণ্য যাচাই-বাছাই করা ভোক্তার অধিকার। কেউ যাচাই-বাছাইয়ে বাধা দিলে তার শাস্তিরও বিধান রয়েছে। কেনার আগে ওষুধের গায়ে থাকা নির্দিষ্ট কোডটি ‘২৭৭৭’ নম্বরে এসএমএস করে পাঠালে প্যানাসিয়ার ডাটাবেইসে থাকা কোডের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই যাচাই হবে। আর তাৎক্ষণিকভাবে একটি ফিরতি এসএমএসে (ইংরেজি ও বাংলায়) জানিয়ে দেয়া হবে ওষুধটি আসল না নকল। বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে অসংখ্য ওষুধের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েকগুণ। এ সুযোগটি দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীরা গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন পত্রিকার প্রতিবেদনে এসেছে, ওষুধ উৎপাদনের নাম করে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানি কাঁচামাল কিনে নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা নকল, ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ উৎপাদন করে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করছে। এ রকম ভয়াবহ অসৎ চর্চার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। ফার্মেসিসহ ওষুধ কোম্পানিগুলোতেও সরকার সংশ্লিষ্টদের আরো কড়া নজরদারি প্রয়োজন।

গাজীপুর, ঢাকা।
[email protected]

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়