ওষুধেও বন্ধ হচ্ছে না ধানের শীষ মরা রোগ, দিশেহারা কৃষক

আগের সংবাদ

ফেসবুক লাইভে সাকিবকে হত্যার হুমকি

পরের সংবাদ

আত্রাইয়ে কচুরিপানায় ফসলি জমি নষ্ট, দিশেহারা কৃষক

প্রকাশিত: নভেম্বর ১৬, ২০২০ , ৪:১৬ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ১৬, ২০২০ , ৪:১৬ অপরাহ্ণ

শস্য ভান্ডার খ্যাত নওগাঁর আত্রাইয়ে এবারের স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় ভেসে আসা কচুরিপানার প্রাদুর্ভাবের কারণে থমকে গেছে কৃষকের স্বপ্ন। এসব কচুরিপানা পরিস্কার করতে কৃষকরা হিমশিম খাচ্ছে। আসন্ন বোরো মৌসুমে ধানচাষ নিয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

জানা যায়, এবারে আত্রাইয়ে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় কৃষকের সকল স্বপ্ন ম্লান হয়ে যায়। একাধিকবার তারা আমন চাষের প্রস্তুতি নিয়েও ব্যর্থ হন। পরপর দু’বারের বন্যায় তাদের সকল স্বপ্ন তছনছ হয়ে যায়। উপরন্ত এ বন্যায় নদীর বিভিন্ন বাঁধের ভাঙন দিয়ে প্রচুর পরিমান কচুরিপানা প্রবেশ করে মাঠে। মাঠে এসব কচুরিপানা প্রবেশের পর তা আর বের হয়নি। ফলে এ কচুরিপানাগুলো আবাদি জমিতে আটকা পড়ে যায়।

উপজেলার কাঁন্দওলমা, বাঁকিওলমা, বিপ্রবোয়ালিয়া,পবনডাঙ্গা, নবাবেরতাম্বু,খনজোর, মধুগুড়নই, ভোঁপাড়া,সাহাগোলা, রসুলপুর, ভবানীপুরসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের মাঠ ঘুরে দেখা যায় ওই মাঠগুলোতে প্রচুর পরিমাণ কচুরিপানা আবাদি জমিতে আটকে পড়েছে। ফলে এসব কচুরিপানা পরিষ্কার করে জমিগুলো বোরো চাষের উপযোগী করতে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। কাঁন্দওলমা গ্রামের কৃষক ওহিদুর রহমান বলেন, আমাদের অনেক জমিতে কচুরিপানা আটকে পড়েছে। বিশেষ করে যে জমিগুলোতে আমরা বোরো বীজতলা তৈরি করতাম এ জমিগুলোও এখন কচুরিপানার নিচে পড়ে রয়েছে। এ কচুরিপানা পরিষ্কার করতে আমাদের অতিরিক্ত অনেক অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের কৃষক মো. আজাদ প্রামানিক বলেন, আমাদের মাঠে যেমন কচুরিপানা, তেমনি ঘাস জন্মেছে। কচুরিপানা ও ঘাস মারা ওষুধ দিয়ে কোনো কাজ হচ্ছে না। এখন বোরো চাষের উপযোগী করতে আমাদের প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ৩ হাজার টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হচ্ছে। এভাবে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করে আমরা আবাদ করি। কিন্তু সময়মত আমাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় আমরা লোকসানের শিকার হই।

এ ব্ষিয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ কেএম কাউছার হোসেন বলেন, আত্রাই বোরো ধানের জন্য বিখ্যাত একটি এলাকা। এ উপজেলায় প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়। এবারে বন্যায় কৃষকের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। সেই সাথে আবাদি জমিগুলোতে কচুরিপানা আটকে থাকায় আরও তাদের জন্য আর্থিক ক্ষতিকর। তবে তাদের সরকারিভাবে কিছুটা সহযোগিতা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের প্রণোদনা সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এমআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়