বিয়ের বছর ঘুরতে না ঘুরতেই ফের বিচ্ছেদ!

আগের সংবাদ

আড়াই লাখ টাকায় ভোল মাছ কিনে নিল ব্যবসায়ী

পরের সংবাদ

স্বচ্ছল গৃহবধূর নামে ভিজিডির চাল, কিছুই জানে না পরিবার

প্রকাশিত: নভেম্বর ১৪, ২০২০ , ৯:৪৭ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ১৫, ২০২০ , ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ

স্বচ্ছল পরিবারের গৃহবধূ রুবিনা খাতুন (৪৫)। স্বামী আব্দুস সালাম একজন ব্যবসায়ী। পরিবারে কোনো অভাব অনটন নেই। কিন্তু তার নামে ভিজিডি কার্ড ইস্যু করে চাল উত্তোলন করা হলেও কিছুই জানে না তাদের পরিবার। রুবিনার নামে চাল উত্তোলনের বিষয়ে চেয়ারম্যান ও মেম্বারের মধ্যে ঠেলাঠেলি লক্ষ্য করা গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার রিফায়েতপুর ইউনিয়নের শিতলাইপাড়া গ্রামে।

রুবিনা খাতুনের ছেলে কলেজ শিক্ষার্থী সাদ্দাম হোসেন রন্টু জানান, তার মায়ের নামে দুস্থদের সহায়তার ভিজিডি চাল এ পর্যন্ত ১৫ বার উত্তোলন করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাজ্জব হয়েছেন তারা। ভিজিডি কার্ডের বিষয়ে তারা কিছু জানেনও না আবার এ ধরনের সহায়তা তারা প্রত্যাশাও করেন না। বরং তারা নিজেরাই অসহায় মানুষজনকে সাধ্যমতো সহায়তা করেন। ফলে সরকারি চাল উত্তোলনের খাতায় নাম দেখে তারা রীতিমতো অবাক হয়েছেন। অপমানিত বোধ করছেন।

তাহলে কোথায় গেল রুবিনা খাতুনের নামে তোলা সরকারি চাল। কে বা কারা এ ধরনের দুই নম্বরি করতে সক্ষম হলো- এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তাদের মধ্যে ঠেলাঠেলির মাধ্যমে একে অপরের ওপর দায় চাপানোর প্রবণতা দেখা যায়। ফলে কোথায় গেল রুবিনার চাল তা নিয়ে এক রকমের ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।

রিফায়েতপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জামিরুল ইসলাম বাবু বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ আমাদের জানানো হয়নি। পরিষদে লিখিত অভিযোগ করা হলে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সবির মেম্বারের বিষয়টি বেশি অবগত থাকার কথা। এটা তার হাতে করা।

অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুস সবুর ওরফে সবির মেম্বার বলেন, চেয়ারম্যান এবং রুবিনা খাতুনের পরিবার এ ব্যাপারে ভালো বলতে পারবেন। আমার জানা মতে, একটি দিনমজুর পরিবার এই চাল পেয়ে আসছে। কামরুল নামে ওই দিনমজুর রুবিনা খাতুনের বাড়িতে কাজ করে। সে ক্ষেত্রে কামরুলের নামে কার্ড ইস্যু না করে স্বচ্ছল গৃহবধূ রুবিনা খাতুনের নামে কার্ডটি ইস্যু করে নিয়মিত চাল উত্তোলন করা হচ্ছে কেন- এমন প্রশ্নের সদুত্তর মেলেনি মেম্বারের কাছ থেকে।

এদিকে স্বচ্ছল পরিবারের গৃহবধূ রুবিনা খাতুনের পরিচয়ে দুস্থদের ভিজিডি চালের কার্ড অনুমোদনের বিষয়টি নিয়ে উপযুক্ত জবাব দিতে পারেনি কেউ। রিফায়েতপুর ইউনিয়নে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কার্ডই ভুতুড়ে। ইউনিয়নটির বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড থেকে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট অভিযোগ উঠেছে। সবশেষ ইস্যু করা ১০১টি কার্ডের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই ভুয়া নামে রয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভিজিডি কার্ড বিতরণে নানা অনিয়ম আর জালিয়াতির কারণে কয়েকজন চেয়ারম্যান ও মেম্বারের নামে ইতোপূর্বে আদালতে মামলা হয়েছে। তৃণমূলের এসব জনপ্রতিনিধিদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে এমনিতেই জেলাজুড়ে আলোচনায় রয়েছে দৌলতপুর উপজেলা। বর্তমানে উপজেলা প্রশাসনে বিভিন্ন ইউনিয়নের ভিজিডি কার্ডে অনিয়মের ঘটনায় তদন্ত চলমান রয়েছে। এবার স্বচ্ছল নারীর নামে কার্ড ইস্যুর এই আপত্তিকর অভিযোগ ওঠায় আলোচনায় নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়