আইসোলেশনে থেকেও বাস পোড়ানোর প্রধান আসামি আমি

আগের সংবাদ

সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে প্রতিরাতে মাদ্রাসা শিশুদের বলাৎকার

পরের সংবাদ

‘সবাই নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত কেউ নিরাপদ নয়’

প্রকাশিত: নভেম্বর ১৪, ২০২০ , ৮:৫৪ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ১৪, ২০২০ , ৮:৫৪ অপরাহ্ণ

জাতিসংঘের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে স্পেন সরকার আয়োজিত ‘বহুপাক্ষিকতা জোরদারে পদক্ষেপ গ্রহণের আহŸান’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ভাষণে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। তার সব বক্তব্যকে ছাপিয়ে একটি কথাই আমাদের মনের ভেতরকার অন্দরমহলকেও স্পর্শ করেছে। স্পর্শ করেছে আমাদের আবেগ ও অনুভ‚তির গভীর ও নিবিড়তম প্রদেশকেও। শেখ হাসিনার এ বক্তব্য কেবল আবেগগত ভাবনাকেই উৎসাহী করেনি বরং এমন এক পটভ‚মির ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে, যা রাজনৈতিক, ঐতিহাসিক, সামাজিক, বৈজ্ঞানিক এমনকি মানবিক বিবেচনায়ও বাস্তবসম্মত। তার সেই বক্তব্য পরম এক দার্শনিক ভাবনায় আমাদের মনোযোগকেও আকৃষ্ট করেছে। আমাদের তার বক্তব্যের অভিমুখী কর্মে নিযুক্তির অন্তর্গত এক প্রেরণাও সঞ্চার করেছে। তিনি বলেছেন, ‘সবাই নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত কেউ নিরাপদ নয়’।

অভ্যন্তরীণভাবে শেখ হাসিনার বক্তব্যকে আমরা রাষ্ট্রীয় নানা প্রসঙ্গে বিবেচনার প্রয়াস নিলে দেখতে পাব সাম্প্রতিক পটভূমিতে প্রকৃতপক্ষে আমরা কেউই নিরাপদ নই। আবার আমরা নিরাপদ নই বলে অন্যরাও আমাদের দায়িত্ব জ্ঞানহীন আচরণে অতি সহজেই অনিরাপদ হয়ে উঠতে পারেন। বিশেষত কোভিড-১৯ সংক্রমণকালে আমরা যে স্বেচ্ছাচারী আচরণ করছি তাও সংকীর্ণ অর্থে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের আলোকে বিবেচনা করতে পারি। তাই প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য সমসাময়িক বাস্তবতার প্রসঙ্গে যেমন গ্রহণ করা যায় তেমনি এই বক্তব্যটি দার্শনিকভাবেও গ্রহণযোগ্য। এজন্যই তার এই উক্তি দেশের সব গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়ে ওঠেছিল। বড় পত্রিকাগুলো প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে শিরোনামসহ প্রধান সংবাদ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সবাই নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত কেউ নিরাপদ নয়’। অভ্যন্তরীণভাবে প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। সে দায়িত্ব সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের। কিন্তু এর গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার আওয়ামী লীগ এবং তার সব পর্যায়ের অঙ্গ সংগঠনগুলো। সরকারের প্রশাসনিক কাঠামো যেখানে পৌঁছায় না সেখানেও আওয়ামী লীগ এবং তার কোনো না কোনো অঙ্গসংগঠনের অস্তিত্ব রয়েছে। সুতরাং জননেত্রী শেখ হাসিনার বিশ্ব রাষ্ট্র-নায়কোচিত এই মানবিক উপলব্ধি দেশের সব মানুষের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দিতেই হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে চলবে না। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী এরূপ বক্তব্য প্রদান করলেও জাতীয় গুরুত্ব বিবেচনায় আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের এখন এক গুরু দায়িত্ব হয়ে পড়েছে সাধারণের মধ্যে সচেতনতাবোধ জাগ্রত করার লক্ষ্যে একযোগে কাজ করা। কোভিড ১৯-এর দ্বিতীয় তরঙ্গ সম্পর্কে সাধারণকে সচেতন করার উদ্যোগে প্রশাসনিক কাঠামোর বাইরে রাজনৈতিকভাবে সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সক্রিয় ভ‚মিকা রাখার অঙ্গীকার করতে হবে। কারণ আমাদের দেশের মানুষ আইনের চেয়ে অনুরোধ বেশি রাখে, পুলিশি অভিযানের চেয়ে নেতাকর্মীদের হুঙ্কারকেই বেশি ভয় করে! সুতরাং সবাইকে নিরাপদ রাখার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের গুরুত্ব অপরিসীম। আশা করি, দলীয় হাইকমান্ডও এ বিষয়ে মনোযোগী হয়ে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখতে সক্রিয় ভ‚মিকা রাখবে। তবেই প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সেই বার্তা ‘সবাই নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত কেউ নিরাপদ নয়’ সবার কাছে পৌঁছাবে। নিরাপদ থাকার স্বার্থে সবাই সচেতন হবেন, অন্যকে নিরাপত্তাদানেও নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখায় সচেষ্ট হবেন।

এখন আসা যাক আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রাসঙ্গিক আলোচনায়। আমাদের বিবেচনায় আন্তর্জাতিকভাবে তার এই বক্তব্য বৈশ্বিক নেতৃবৃন্দকে কিছুটা হলেও ভাবিত করেছে। সাম্প্রতিককালে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি বৃদ্ধির ইতিবাচক খবর। আনন্দের সংবাদ হলেও আমরা এও জানি যে, মাথাপিছু জিডিপির এই বৃদ্ধি দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনে একই হারে ঘটেনি। ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে এই আয়-বৃদ্ধির হারে রয়েছে বিস্তর ব্যবধান। এই ব্যবধানের ফলে সমাজ অস্থিতিশীল প্রবণতার দিকে ঝুঁকে পড়ে। অর্থাৎ আমাদের দেশে মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রে ধনী ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে বৈষম্য প্রকট এবং উৎকটও বলা যায়। এটি শুধু আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, সমস্যাটি বৈশ্বিকও বটে। তাই প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য এবং তার রাজনৈতিক চিন্তায় আয়বৈষম্যের এই ব্যবধানের বিষয়টি গভীর রেখাপাত করেছে। তাই ‘বহুপাক্ষিকতা জোরদারে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান’ বিষয়ক সম্মেলনে তিনি বিশ্বনেতাদের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন বৈষম্য হ্রাস, দারিদ্র্য নির্মূল এবং ধরিত্রীর সুস্বাস্থ্য রক্ষায় একযোগে কাজ করার ক্ষেত্র প্রস্তুতের। বিশ্বব্যাপী চলমান করোনা মহামারির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনিই বলেছেন, ‘সবাই নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত কেউ নিরাপদ নয়’। এজন্য বৈষম্য হ্রাস, দারিদ্র্য বিমোচন এবং কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পৃথিবী নামক এই গ্রহটিকে নিরাপদ করতে হবে বলেও তিনি জোরের সঙ্গে বলেছেন। এসব মহৎ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে বহুমুখী বৈশ্বিক প্রয়াসকে আরো জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ‘বহুপাক্ষিকতা জোরদারে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের ভার্চুয়াল কনফারেন্সে পূর্ব থেকে ধারণকৃত ভিডিও বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বিগত ১০ নভেম্বর এসব আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘আজকের গ্লোবালাইজড বিশ্বে গঠনমূলক বহুমুখিতার কোনো বিকল্প নেই। মানব জাতির অভিন্ন অগ্রগতি এবং আইনভিত্তিক আন্তর্জাতিক নির্দেশনার এটিই একমাত্র পথ।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যে আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে কোভিড-১৯ মহামারি থেকে আমাদের যে শিক্ষা অর্জিত হয়েছে তার মধ্যে সবার সম্মিলিত কার্যক্রম, একতা এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা অন্যতম। বস্তুত এসবের ওপরই সমগ্র বিশ্বের শান্তি ও সমৃদ্ধি নির্ভর করছে। তার বক্তব্য থেকে এ কথাও স্পষ্ট হয়েছে যে, বৈশ্বিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে পারস্পরিকভাবে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে যে কোনো দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হবে এবং সেটিই উত্তম পন্থা। বিভিন্ন রাষ্ট্র বা জাতিগোষ্ঠীর সম্মিলিত প্রয়াসের যে কোনো ধরনের বিচ্যুতি সমগ্র মানব জাতির জন্য যে কোনো সময় চরম বিপর্যয় নিয়ে আসতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী কোভিড-১৯ মহামারিকালীন সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের অভিজ্ঞতাও সম্মেলনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের জনগণের জীবিকার সুরক্ষায় আমরা এরই মধ্যে ১৪ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দিয়েছি, যা আমাদের জিডিপির ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। মহামারির প্রভাব সত্তে¡ও সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশ ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ জিডিপি অর্জন করেছে।’ তিনি আরো উল্লেখ করেছেন, ‘বৈশ্বিক পর্যায়ে বহুমুখী প্রচেষ্টা গ্রহণ না করলে বৈশ্বিক পুনরুদ্ধার কখনই সম্ভব হবে না এবং সেটি কখনো টেকসইও হবে না।’ রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা সাম্প্রতিক বিশ্বের কিছুসংখ্যক রাষ্ট্র্র ও নেতাদের সংরক্ষণবাদী প্রবণতা এবং সেসব দেশে প্রচলিত বিদেশিদের সম্পর্কে গৃহীত নীতিমালার বিষয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে তিনি বলেছেন, ‘এতে নিরীহ মানুষের জন্য আরো ভোগান্তি বৃদ্ধি পাবে এবং শান্তিপূর্ণ বহুপক্ষীয় পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এজন্য আমাদের সবাইকে আন্তর্জাতিক শান্তি, সুরক্ষা ও বিশ্বব্যাপী উন্নয়নের জন্য ক্ষতিকর এই জাতীয় ক্রিয়াকলাপ থেকে বিরত থাকা উচিত।’ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দিতে গিয়ে বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রদত্ত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন যে, সেই সময়েও বঙ্গবন্ধু সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং জাতিসংঘের ভ‚মিকার কথা বলেছিলেন। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘জাতিসংঘ দুঃখ, দুর্দশা এবং সংঘাতের এই পৃথিবীতে ভবিষ্যৎ মানুষের আশার কেন্দ্র হয়ে থাকবে।’ বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণেও সাম্প্রতিককালের আলোচ্য প্রতিপাদ্য ‘বহুপাক্ষিকতা’র প্রাসঙ্গিকতাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

সম্মেলনে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী, সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী, কোস্টারিকার প্রেসিডেন্ট, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট, কানাডার প্রধানমন্ত্রী, নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী, জর্ডানের উপ-প্রধানমন্ত্রী, সেনেগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, তিউনিসিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী, দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রবিষয়ক ভাইস মিনিস্টার প্রমুখের ধারণকৃত ভিডিও ভাষণ সম্প্রচার করা হয়। পাশাপাশি জাতিসংঘ মহাসচিবের বক্তব্যের একটি ভিডিও প্রদর্শিত হয়। বহুপাক্ষিকতা বিষয়ক এ সম্মেলনে আমাদের প্রধানমন্ত্রী নিশ্চিত ঘোষণা করেছেন, ‘বাংলাদেশ বহুপাক্ষিকতার পতাকা বাহক, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনীতে সর্বোচ্চ উপস্থিতি এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শান্তি ও সুরক্ষার পক্ষে জোরালোভাবে কাজ করছে। আমরা এসডিজি বাস্তবায়নে ‘গোটা সমাজ’ নীতি অবলম্বন করছি, আমরা প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা এলডিসি অবস্থান থেকে উন্নয়ন ঘটিয়েছি। এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এতে বহুপাক্ষিকতার প্রতি আমাদের প্রতিশ্রæতি ও আস্থা প্রতিফলিত হয়েছে।’

আমরা সহজেই বুঝতে পারি বাংলাদেশসহ নিখিলবিশ্বের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর নিরাপদ জীবন নিয়ে ভাবিত জননেত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুর মতো শেখ হাসিনাও সব মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য ভাবিত। দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের নিরাপদ জীবন লাভ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সভ্য মানুষ নিজেকে নিরাপদ ভাবতে পারে না। জননেত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বনেতাদের চোখে আঙুল দিয়ে যেন সেই কথাই উচ্চারণ করে দৃঢ়তার সঙ্গে শোনালেনÑ ‘সবাই নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত কেউ নিরাপদ নয়’। বিশ্বনেতাদের নিদ্রাভঙ্গ হলেই পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষের জীবন সহজেই নিরাপদ হয়। কিন্তু কেউ জেগে ঘুমিয়ে থাকলে তার নিদ্রা ভাঙায় কার সাধ্য!

আহমেদ আমিনুল ইসলাম : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়