চুরি হয়ে যাওয়া খাদ্যবান্ধবের ১৪৩ কেজি চাল উদ্ধার

আগের সংবাদ

স্বপ্ন ঘরে তুলছেন কৃষক

পরের সংবাদ

হাজী সেলিমের দখল সাম্রাজ্য রাজধানীর বাইরেও বিস্তৃত

প্রকাশিত: নভেম্বর ৬, ২০২০ , ৫:০০ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ৬, ২০২০ , ৫:১০ অপরাহ্ণ

পুরান ঢাকায় আধিপত্য বিস্তার করে একের পর এক জমি দখল করেছেন সংসদ সদস্য হাজী সেলিম ও তার পরিবার। ব্যক্তিগত থেকে শুরু করে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জায়গা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জমি, ভবন, মার্কেট- যেখানে যেভাবে পেরেছেন দখলের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। কখনো তান্ডব চালিয়ে, আবার কখনো জোরপূর্বক, কখনো মামলা-হামলা করে জমি, বাড়ি ও মার্কেট দখল করেছেন তারা। তাদের দখলের থাবা থেকে রক্ষা পায়নি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলও। পুরান ঢাকার নির্বাচিত আইনপ্রণেতা হলেও হাজী সেলিমের দখল সাম্রাজ্য রাজধানীর বাইরেও বিস্তৃত।

সম্প্রতি নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় ছেলে ইরফান সেলিম গ্রেপ্তার হওয়ার পর বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে ঢাকা-৭ আসনের দাপুটে এই সাংসদের ‘দখলকাহিনী’। বদলে যাওয়া পরিস্থিতিতে দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) হাজী সেলিম পরিবারের অবৈধ সম্পদের খোঁজে নেমেছে। এলাকাবাসী মনে করছে, হাজী সেলিমের দখল করা সম্পদ-স্থাপনা উদ্ধারের এখনই উপযুক্ত সময়। তবে যাদের বেহাত হয়েছে, তারা কেউই মুখ খুলতে চান না। তাদের শঙ্কা, পরিস্থিতি অনুকূলে এলে তারা হাজী সেলিম পরিবারের রোষানলে পড়তে পারেন।

হাজী সেলিমের দখলে গুলশান আরা সিটি মার্কেট/ছবি: সংগৃহীত

হাজী সেলিমের দখল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে অগ্রণী ব্যাংকের এই জায়গা।হাজী সেলিমের দখল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে অগ্রণী ব্যাংকের এই জায়গা।বধিরদের জমিতে পেট্রোল পাম্প শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসনের জন্য স্কুল ভবন ও বধির কমপ্লেক্স নির্মাণে ২০০৫ সালে লালবাগের কামালবাগ এলাকায় এক একর জমি বরাদ্দ দিয়েছিল জেলা প্রশাসন। জমিটি সরকারের অকৃষি খাসজমি। শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের জন্য দেশের একমাত্র সরকারি এ উচ্চ বিদ্যালয়টি বাংলাদেশ জাতীয় বধির সংস্থার প্রধান প্রকল্প। বধির স্কুলের পক্ষে বরাদ্দের নথি থেকে জানা গেছে, ২০০৫ সালে পাঁচ লাখ টাকা প্রতীকী মূল্যে বরাদ্দ দেওয়া হয় জমিটি।

বধির স্কুল সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বরাদ্দ পাওয়ার পর তিন বছর জমিটি তাদের দখলে ছিল। ২০০৮ সালে হাজী সেলিমের লোকজন জমির সীমানা খুঁটি উপড়ে ফেলে, লোকজনকে মেরে তাড়িয়ে দিয়ে জমির দখল নেয়। এখন সেখানে হাজী সেলিমের ফিলিং স্টেশন।

হাজী সেলিমের এই ‘গুলশান আরা সিটি মার্কেট’ জমিতে ছিল জগন্নাথ কলেজের শিক্ষার্থীদের তিব্বত হল।

জমি ফিরে পেতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়েছে। পালন করা হয়েছে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনের মতো কর্মসূচি। সবশেষ গত ২৭ অক্টোবর জমি উদ্ধারে সহযোগিতা চেয়ে র‌্যাবের মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করেছে বাংলাদেশ জাতীয় বধির সংস্থা। জায়গার মালিকানা দাবি করে হাজী সেলিম ২০০৯ সালে আদালতে মামলা করেছিলেন। মামলার রায় স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষে গেলেও হাজী সেলিমের দখল থেকে জমিটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

বাংলাদেশ জাতীয় বধির সংস্থার নির্বাহী অফিসার মজনু শেখ সংবাদমাধ্যমকে জানান, ২০০৫ সাল থেকে স্কুল কর্তৃপক্ষ জমির খাজনা পরিশোধ করে আসছে। এ পর্যন্ত তিন দফায় জেলা প্রশাসন জায়গাটির দখল স্কুল কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিয়েছে। সারাদেশের বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের শিক্ষা, চিকিৎসা, পুনর্বাসনের জন্য জমিটি নেওয়া হয়েছিল। জমিটি দখল হয়ে যাওয়ায় এ কাজগুলো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এখন আমরা যেখানে কাজ করছি সেখানে জায়গা কম। এ কারণে সে সময় সরকারের কাছে আবেদন করে ওই জায়গাটি নেওয়া হয়েছিল।

হাজী সেলিমের দখল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে অগ্রণী ব্যাংকের এই জায়গা।

হাজী সেলিমের এই ‘গুলশান আরা সিটি মার্কেট’ জমিতে ছিল জগন্নাথ কলেজের শিক্ষার্থীদের তিব্বত হল।হাজী সেলিমের এই ‘গুলশান আরা সিটি মার্কেট’ জমিতে ছিল জগন্নাথ কলেজের শিক্ষার্থীদের তিব্বত হল।শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের জন্য ঢাকার বিজয়নগরে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ১৯৮৪ সালে জুনিয়র হাইস্কুল হিসেবে এমপিওভুক্ত হয়। মাধ্যমিক স্তরের স্বীকৃতি আসে এর ছয় বছর পর। সরকারিকরণ হয় ২০১৬ সালে।

বধির স্কুলের পক্ষে জমির বন্দোবস্তগ্রহীতা এবং জাতীয় বধির সংস্থার সাবেক সভাপতি তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, “হাজী সেলিমের ভয়ে কেউ কথা বলে না। আমরা অনেকবার অনেক সরকারি কর্মকর্তার কাছে বিষয়টি সুরাহার জন্য গেছি। সবাই আশ্বাস দেয়, কিন্তু হাজী সেলিমের কথা শুনলেই তাদের মুখ শুকিয়ে যায়। এ অবস্থায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ছাড়া ওই জমি উদ্ধার করা সম্ভব হবে না।

হাজী সেলিমের দখলে আছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তিব্বত হল। কামরাঙ্গীরচরের ঝাউচরে বিআইডব্লিউটিএর এক একর জমি দখল করে স্থাপনা বানিয়ে ভাড়া দিয়েছেন হাজী সেলিম। সেসব স্থাপনা উচ্ছেদও করা হয়েছিল, কিন্তু ধরে রাখা যায়নি। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের একজন কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার করে আসার পরপরই ওই জমি দখলে নিয়েছেন হাজী সেলিম। উনি একই কাজ বারবার করছেন।

এদিকে গত ১ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে হাজী সেলিমের মদিনা গ্রুপের দখলে থাকা ১৪ বিঘা খাস জমি উদ্ধার করেছে স্থানীয় প্রশাসন। সোনারগাঁও উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল মামুন জানান, মদিনা গ্রুপের যত অবৈধ স্থাপনা, সব চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে তার সিমেন্ট কারখানার দুইপাশে প্রায় ১৪ বিঘা জমি দখল করে রাখা হয়েছে। সম্পূর্ণ জমিটি চিহ্নিত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, দখলে থাকা তিনটি স্থাপনা ভাঙা হয়েছে আরও একটি স্থাপনা খুবই শক্ত ও ভারি হওয়ায় ভেকুতে সমস্যা হয়েছে।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়