সাগর-পাহাড়-অরণ্যের সঙ্গে মিতালী

আগের সংবাদ

রাজধানীর যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না

পরের সংবাদ

রাস্তা খোঁড়াখুঁড়িতে নীতিমালা মানার বালাই নেই

প্রকাশিত: নভেম্বর ৬, ২০২০ , ৮:০৪ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ৬, ২০২০ , ৮:৫১ অপরাহ্ণ

সংস্কারসহ বহুমুখী উন্নয়ন কর্মযজ্ঞে নগরজুড়ে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়িতে নীতিমালা মানার কোনো বালাই-ই নেই। কখনও ড্রেন নির্মাণ, কখনও বা ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন কিংবা বৈদ্যুতিক তার স্থাপনে চলে রাস্তা খোঁড়াখুড়ির প্রতিযোগিতা। এক সংস্থা ক্ষতবিক্ষত করার পরদিনই হয়তো অন্য কোনো সংস্থা এসে সেখানেই খোড়াখুড়ি শুরু করেন। জনদুর্ভোগ কিংবা পরিবেশ দূষণ নিয়ে কোরো কোনো মাথা ব্যথাই নেই।

বেপরোয়া এই কর্মকাণ্ড বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদনের পর প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি আজও। অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়িতে লণ্ডভণ্ড রাস্তায় ঝুঁকি নিয়েই চলতে হচ্ছে নগরবাসীকে। পরিবশে দূষণের ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি এমনকি মৃত্যুকেও মেনে নিতে হচ্ছে।

শুধু তাই নয়, খোদ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাই বেপরোয়া এই খোঁড়াখুঁড়ির পক্ষে সাফাই গাইছেন। বলছেন, ঢাকা অপরিকল্পিত শহর তাই রাস্তা খোঁড়াখুঁড়িতে জনভোগান্তি থাকা সত্ত্বেও অনুমোদন দিতে হচ্ছে। পরিকল্পিত নগরী হয়ে ওঠলে তখন নীতিমালা মানা যেতে পারে।

সরকারি বিধান অনুযায়ী, দেশে মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাস রাস্তা খোঁড়াখুঁড়িতে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মাটি নরম থাকার অজুহাতে এই সময়টাই রাস্তা খননের মাত্রা বেড়ে যায়। আবার ‘ঢাকা মহানগরীর সড়ক খনন নীতিমালা-২০১৯’ অনুযায়ী, দিনে খনন কাজ বন্ধসহ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না করলে জরিমানার বিধান রাখা হলেও তার কোনো প্রয়োগ নেই।

আবার বর্ষা মৌসুমে সড়ক খোঁড়াখুঁড়ির জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে মূল ক্ষতিপূরণসহ অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ ফি জমা দেয়াসহ খননের রাবিশ/মাটি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ না হলে জামানতের ফি দ্বিগুণ করার বাধ্যবাধকতা মানার কোনো বালাই-ই নেই।

সূত্রমতে, সারাবছর জুড়েই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে রাস্তা খনন করতে ঢাকা ওয়াসা, তিতাস গ্যাস, ডিপিডিসি, ডেসকো ও বিটিসিএলের মধ্যে প্রতিযোগিতা লেগেই থাকে। তবে নীতিমালা মেনে সঠিক উপায়ে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির নজির শহরের অলিগলি থেকে রাজপথ পর্যন্ত কোথাও চোখে পড়ে না। সেই সঙ্গে সমন্বয়হীনতা ও জবাবদিহিতার অভাবে জনভোগান্তি মারাত্মক আকার নিয়েছে। এতে প্রতিনিয়তই নগরের সড়কগুলোতে বাড়ছে দুর্ঘটনা। সৃষ্টি হচ্ছে যানজট, নষ্ট হচ্ছে নগরবাসীর কর্মঘণ্টা।

কয়েকদিন আগে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, খিলগাঁও, মালিবাগ, গোড়ান, সবুজবাগের বেশ কিছু সড়ক খোঁড়াখুঁড়ির কাজ চলছে। অন্যদিকে সচিবালয়ের দক্ষিণ পাশের সড়কসহ গুলিস্তানেও বেশ কিছু সড়কে পাইপ লাইনের কাজ চলছে। এছাড়া ধানমণ্ডিতে চলছে দীর্ঘদিন ধরে সড়ক খননের কাজ। নতুন করে সড়কে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ শুরু হয়েছে বনানী এলাকাতেও।

রাজধানীর এসব এলাকায় করা হচ্ছে সড়ক সংস্কার, সড়ক খুঁড়ে গভীর ড্রেন নির্মাণ, পাইপলাইন স্থাপন, ভূ-অভ্যন্তরে বৈদ্যুতিক তার স্থাপন, ইউলুপ নির্মাণ, ফুটপাতের উন্নয়ন কাজ। এছাড়া মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সেপ্রেসওয়ের মতো প্রকল্পের কাজগুলো তো চলছেই। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে যেমন চলাচলে জনদুর্ভোগ বেড়েছে তেমনি বায়ুদূষণের মাত্রাও বেড়েছে বিপজ্জনকভাবে।

রাজধানীর কমলাপুরে পীরজঙ্গিমাজার রাস্তায় চলছে খোঁড়াখুঁড়ি। ছবি: ভোরের কাগজ।

সূত্রমতে, গেল কয়েক বছর ধরেই বিশ্বে শীর্ষ দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় থাকা ঢাকায় নগরায়নের ফলে ১৯৯০ সাল থেকে বায়ুদূষণ বেড়েছে ভয়াবহভাবে। দিন দিন বাড়ছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি। শ্বাসকষ্ট, স্নায়ুজনিত সমস্যা বৃদ্ধিসহ বুদ্ধিমত্তা কমছে। রাজধানীর বায়ুদূষণের এই মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে নগরের অপরিকল্পিত খোড়াখুড়ি থেকে সৃষ্ট ধুলাবালি।

এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও নগর বিশেষজ্ঞ মাকসুদুর রহমান ভোরের কাগজকে বলেন, নগরে খননকাজে কোনো সিডিউল পরিকল্পনা না থাকায় সমন্বয়ও নেই। যদি এক খননেই ওয়াসা, ডেসকো, তিতাসরা তাদের কাজ শেষ করে নিতো তাহলে সমস্যা হতো না। কিন্তু একজন এসে রাস্তা খোঁড়ে, সংস্কার করে যায়, আরেকজন এসে আবার খোঁড়ে। এভাবেই বছরজুড়ে চলে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ। ব্যবস্থাপনা না থাকায় নগরে দূষণ বেড়ে স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র আতিকুল ইসলাম ভোরের কাগজকে বলেন, অপরিকল্পিত নগরীকে পরিকল্পিত করতে কিছু কাজের অনুমোদন দিতেই হয়। রাস্তা খোঁড়াখুঁড়িতে জনভোগান্তি থাকা সত্ত্বেও এসব কাজের অনুমোদন দিতে হচ্ছে। তবে আমরা নতুন করে যেসব কাজ হাতে নিয়েছি তা পরিকল্পনা অনুযায়ীই করা হচ্ছে। জনভোগান্তি দূর করতে সড়ক খনন নীতিমালা মাথায় রেখেই কাজ করা হচ্ছে। তবে সত্যি কথা বলতে কি অপরিকল্পিত নগরীতে নীতিমালা মানা বেশ কঠিন।

এনএম

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়