সড়ক নিরাপত্তা আইন দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ

আগের সংবাদ

This is test post

পরের সংবাদ

পয়ঃবর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনার চাবিকাঠি হচ্ছে জনসচেতনতা

প্রকাশিত: নভেম্বর ৫, ২০২০ , ২:০৯ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ৬, ২০২০ , ৩:০৫ অপরাহ্ণ

প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় দেশের ৩২৯টি পৌরসভায় পয়ঃবর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতের ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মেয়র ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। তারা বলেছেন, পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রথম চাবিকাঠি জনসচেতনতা তৈরি ও ব্যাপক প্রচারণা। আর অপরটি হচ্ছে গরিব ও হতদরিদ্রদের স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ল্যাট্রিনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। সেই সঙ্গে সব মহলের মানুষকে সম্পৃক্ত করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় মেয়রদের ভূমিকা নিতে হবে। তাহলে যেসব প্রভাবশালী দ্বারা পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে করা যাচ্ছে না, তাদের নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। প্রয়োজনে আইনের আওতায় আনারও পরামর্শ দেন বক্তারা।

বৃহস্পতিবার সকালে পৌরসভার মেয়রদের সঙ্গে অংশমূলক সংলাপ ‘পৌরসভায় পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচারাভিযান’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল সংলাপে অংশ নিয়ে বক্তারা এসব অভিমত তুলে ধরেন। সিডব্লিউআইএস-এফএসএম সাপোর্ট সেল, আইটিএন-বুয়েট ও মিউনিসিপ্যাল এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ম্যাব) যৌথভাবে এই অনলাইন সংলাপের আয়োজন করে। সংলাপের মিডিয়া পার্টনার দৈনিক ভোরের কাগজ।

আইটিএন-বুয়েটের পরিচালক ড. তানভির আহমেদের সভাপতিত্বে এবং ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত ও আইটিএন-বুয়েটের নলেজ ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট মাকফি ফারাহ’র সঞ্চালনায় সংলাপের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন প্রধান অতিথি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পরিকল্পনা) তুষার মোহন সাধু খাঁ। মো. খায়রুল হাসান পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনা জনসচেতনতা তৈরির ক্ষেত্রে প্রস্তুতকৃত প্রচারাভিযান ও এর অন্তর্ভুক্ত একটি হ্যান্ডবুক উপস্থাপনা করেন। আলোচনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন নীলফামারী পৌরসভার মেয়র ও ম্যাবের সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ, শরীয়তপুর পৌরসভার মেয়র ও ম্যাবের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম কোতোয়াল, বিল এন্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের ডেপুটি ডিরেক্টর (গ্লোবাল গ্রোথ এন্ড অপরচুনিটি ডিভিশন) ড. রোশান রাজ শ্রেষ্ঠা। আলোচনায় অংশ নেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক ও সিডব্লিউআইএস-এফএসএম সাপোর্ট সেলের সহসভাপতি মো. শফিকুল হাসান, স্যানিটেশন এক্সপার্ট ড. মুজিবুর রহমান, রাজবাড়ী পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, জামালপুর পৌরসভার মেয়র মির্জা শাখাওয়াতুল আলম মনি, লালমনিরহাট পৌরসভার মেয়র রিয়াজুল ইসলাম রিন্টু, ঝিনাইদহ পৌরসভার মেয়র সাইদুল করিম মিন্টু, মানিকগঞ্জ পৌরসভার মেয়র গাজী কামরুল হুদা সেলিম, সখিপুর পৌরসভার মেয়র মো. আবু হানিফ আজাদ, কানাইঘাট পৌরসভার মেয়র নিজাম উদ্দিন, উলিপুর পৌরসভার মেয়র তারিক আবুল আলা, ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র শেখ মাহতাব আলী মেথু, লাকসাম পৌরসভার মেয়রের পক্ষে সাইফুল ইসলাম।

তুষার মোহন সাধু খাঁ বলেন, এসডিজি ৬ দশমিক ২ অর্জন করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এর জন্য পৌরসভা মেয়রদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, সঠিক লক্ষ্য নিয়ে এগোলে সফলতা আসবেই। তবে জনসচেনতা না বাড়ালে অবকাঠামোগত কাজ ফলপ্রসূ হবে না। এ জন্য সামাজিক সচেনতা বাড়াতে অধিদপ্তর আরো কাজ করবে। এক্ষেত্রে হ্যান্ডবুকটি পয়ঃবর্জ্য নিষ্কাশন ও পরিষেবা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ওয়েবিনারে বক্তারা।

ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, আজকের বাংলাদেশ সারা বিশ্বের কাছে বিস্ময়। বর্তমান সময়ে হাইজিন ও স্যানিটাইজেশনও গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আশা করি, এ বিষয়ে সফল হয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে আরো একটি মাত্রা যোগ করবে। স্যানিটেশন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যম, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য মুরব্বিদের যুক্ত করে ব্যাপক পরিসরে প্রচার চালাতে হবে। একই সঙ্গে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পৌরসভার আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। মেয়রদের এই স্বদিচ্ছা থাকতে হবে যে আমি আমার এলাকাটিকে পয়ঃবর্জ্যমুক্ত রাখব। সেই সঙ্গে হরিজন জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলাসহ সব মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

দেওয়ান কামাল আহমেদ বলেন, আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, শহরের বর্জ্য কোথায় ফেলা হবে তার সুব্যবস্থা এখনো নেই। নিজ এলাকার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ১৯৮৯ সালে নীলফামারী পৌরসভায় প্রথম নির্বাচিত হওয়ার পর ২০০টি পিট টয়লেট পেয়েছিলাম। কিন্তু মাত্র ১০০ টাকা মূল্যের এই টয়লেট নেয়ার মতো মানুষ ছিল না। এখনো এই পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনা জনগণের মধ্যে বিশেষ প্রচার পায়নি। এমনকি শহরের বর্জ্য মাটিতে গর্ত করে ফেলতে হচ্ছে।

রফিকুল ইসলাম কোতোয়াল বলেন, ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ করতে হলে জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজির দিকে আগাতে হবে। এর জন্য পয়ঃবর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, ৩২৯টি পৌরসভার বেশির ভাগ পৌরসভাতেই বিভিন্ন ডোবা ও হাইওয়ের পাশে বর্জ্য ফেলতে হচ্ছে। এ জন্য প্রতিটি পৌরসভায় ডাম্পিং স্টেশন নিশ্চিতের পাশাপাশি পর্যাপ্ত লজিস্টিক সাপোর্টের ব্যবস্থা করতে হবে।

সেমিনারে বক্তারা

সব পৌরসভার আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে তিনি বলেন, একদিকে আমাদের আয় করতে বলা হবে আর অন্যদিকে আয়ের পথ রুদ্ধ করে দেয়া হবে। সেটাতো হতে পারে না। আমাদের রাজস্ব আয়ের বড় একটি অংশ সরকার নিয়ে যায়। জেলা-উপজেলা পরিষদও পৌরসভায় কোনো কাজ করে না। কিন্তু আয়ের একটি অংশ ঠিকই নিয়ে যায়।
ড. তানভির আহমেদ বলেন, পয়ঃবর্জ্য নিষ্কাশনের মূল চালক হচ্ছেন পৌরসভার মেয়ররা। এর জন্য ৩ বছরের কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা আছে। সবার মতামতের ভিত্তিতে পরিকল্পনাগুলো প্রয়োজনে সংশোধন করা হবে।

ড. রোশান রাজ শ্রেষ্ঠা বলেন, করোনা ভাইরাসের মতো ভবিষ্যতেও আরো অনেক ভাইরাস আসতে পারে। যা পরিকল্পিত স্যানিটাইজেশনের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব। এ জন্য সবাইকে সমন্বিতভাবে টেকসই স্যানিটেশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

মো. খায়রুল হাসান বলেন, ৩ বছর মেয়াদি পরিকল্পনার প্রথম বছর মল নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা, ২য় বছর পানি দূষণ রোধ ও ৩য় বছরে সামগ্রিক দূষণ প্রতিরোধের বিষয়ে বলা হয়েছে।

ড. মুজিবুর রহমান বলেন, আগে ৪২ ভাগ মানুষ খোলা জায়গায় মল ত্যাগ করত। ২০১৭ সালে সেটি শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। এ সাফল্যের পেছনে দুটি চাবি কাজ করেছে। একটি হচ্ছে জনসচেতনতা। আরেকটি হচ্ছে সহায়তা করা, তাদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সমাপনী বক্তব্যে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল হাসান বলেন, পরিকল্পনার গাইডলাইনটি গোল্ডেন সার্কেল অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে। কেন, কিভাবে, কি করব এই ৩ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এতে। সেপটিক ট্যাংক ঠিক আছে কিনা, ঠিকমতো পরিষ্কার করা হচ্ছে কিনা এসব বিষয় খেয়াল রাখলে জনগণ সচেতন হয়ে উঠবে। মেয়রদের জন্য সাপোর্ট সেলের ব্যবস্থা রাখা হবে। যেখান থেকে সব ধরনের সহযোগিতা নেয়া যাবে।

পিআর/এমএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়