কে জয়ী হবেন জানতে রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষায় বিশ্ব

আগের সংবাদ

সালথায় ধর্ষণের অভিযোগে দুই কিশোর আটক

পরের সংবাদ

কেমন আছেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা?

প্রকাশিত: নভেম্বর ৫, ২০২০ , ৫:১৭ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ৫, ২০২০ , ৫:১৭ অপরাহ্ণ

অতীতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সরকারি সাতটি কলেজকে ২০১৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়লের (ঢাবি) অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মূলত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর চাপ কমাতে এবং ওই কলেজগুলোর শিক্ষার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে শিক্ষাবিদদের পরামর্শের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। তবে ঢাবি অধিভুক্ত হওয়ার পর ওই কলেজগুলোর শিক্ষার্থীদের বিড়ম্বনা দিন দিন যেন বেড়েই চলছে। বর্তমান করোনা মহামারির ভয়াবহ পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম যখন স্থগিত ঠিক সেই মুহূর্তে ৭ কলেজের শিক্ষার্থীদের মনে ফের সেশনজটের আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়ার পর থেকেই নানা রকম সমস্যায় জর্জরিত হয়ে এবং বঞ্চনার শিকার হয়ে আন্দোলনে নামেন ওই কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাদের উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে ছিল সেশনজট নিরসনে শিক্ষাপঞ্জি দ্রুত চালু করা, পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ, ৭ কলেজ পরিচালনায় স্বতন্ত্র প্রশাসনিক ভবন স্থাপন ও সিলেবাস অনুযায়ী প্রশ্নপত্র প্রণয়নসহ ৭ কলেজের শিক্ষকদের দিয়েই উত্তরপত্র মূল্যায়ন। এ নিয়ে শিক্ষার্থীরা একাধিকবার আন্দোলনে নামলেও দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও ওই সমস্যার স্থায়ী সমাধান দিতে সক্ষম হয়নি ঢাবি প্রশাসন।

২০১৪-১৫ সেশনের চতুর্থ বর্ষের লিখিত পরীক্ষা ২০১৮ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা শেষ হয় চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি। ওই সেশনের চলমান ২৫টি বিভাগের মধ্যে এখনো ফলাফল পাননি ৭ বিভাগের শিক্ষার্থীরা। যার ফলে একই সেশনের অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা চাকরির জন্য আবেদন করতে পারলেও বঞ্চিত হচ্ছেন এই ৭ বিভাগের শিক্ষার্থীরা। ২০১৫-১৬ সেশনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনার্স শেষ হলেও ৭ কলেজের শিক্ষার্থীদের এখনো পরীক্ষাই হয়নি। পরবর্তী সেশনের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা এবং ফলাফল নিয়ে একই জটিলতা বিদ্যমান। দীর্ঘ ৯ মাস পার হয়ে গেলেও ২০১৮-১৯ সেশনের অধিকাংশ বিভাগের ফলাফল এখনো প্রকাশ করেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৩ মাসের মধ্যে ফল প্রকাশের প্রতিশ্রুতি থাকলেও এমন প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সাত কলেজের প্রতি ঢাবি কর্তৃপক্ষ কতটা বেখেয়াল তা ফুটে আসে ২০১৭-১৮ সেশনের আরবি বিভাগের শিক্ষার্থীদের ফলাফল বিড়ম্বনার চিত্র দেখে। অধিভুক্ত ৭ কলেজের মধ্যে শুধু কবি নজরুল সরকারি কলেজেই আরবি বিভাগ রয়েছে। ওই সেশনে এই বিভাগের শিক্ষার্থী সংখ্যাও মাত্র চারজন। স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের আরবি বিভাগের সেই চার শিক্ষার্থী গত বছরের নভেম্বর মাসে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও দীর্ঘসময় পার হওয়ার পর তারা ফলাফল পান চলতি বছরের অক্টোবর মাসে। মাত্র চারজন শিক্ষার্থীর ফলাফল প্রকাশেই এত সময় নিচ্ছে ঢাবি কর্তৃপক্ষ।

করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে ঢাবি কর্তৃপক্ষ থেকে অনলাইন ক্লাস সম্পর্কিত কোনো নির্দেশনা না পেলেও নিজেদের উদ্যোগে ৭ কলেজের কিছু কিছু বিভাগের অনলাইন ক্লাস শুরু করেছিল কলেজ কর্তৃপক্ষ। তবে তা হলেও সত্যি এই উদ্যোগে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী সুফল ভোগ করতে পারছে না। সর্বোপরি ঐতিহ্যবাহী সরকারি ৭ কলেজের ঐতিহ্য বহাল রক্ষার্থে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সব সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা একান্ত কাম্য।

শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ।
[email protected]

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়