সালথায় ধর্ষণের অভিযোগে দুই কিশোর আটক

আগের সংবাদ

মরিশাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ বাংলাদেশি নিহত

পরের সংবাদ

অনৈতিহাসিক নূরের ছদ্মবেশ উন্মোচিত হচ্ছে

প্রকাশিত: নভেম্বর ৫, ২০২০ , ৫:৪২ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ৫, ২০২০ , ৬:১৮ অপরাহ্ণ

ভিপি (সাবেক) নূর যে সাধারণ ছাত্রদের প্রতিনিধি নন বরং কোনো একটি প্রতিক্রিয়াশীল ষড়যন্ত্রকারী শক্তির এজেন্ট তা এত দ্রুত সামনে চলে আসবে এতটা কেউই আশা করেনি। নিজেরাই তাদের কুৎসিত চেহারা জনসমক্ষে প্রকাশ করে দিলেন। নূর ও সাঙ্গরা এখন ধর্ষণ মামলার আসামি। ধর্ষিতাও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। অতিসম্প্রতি ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের কয়েকজন কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় নেতা জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সংগঠনের ওপর তিন প্রধান নেতা সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নূর, রাশেদ খান ও ফারুক হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন এবং সংগঠনের ২২ সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণা করেন। নূর, রাশেদ খান ও ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে ‘সহকর্মী নারীদের ধর্ষণ, ত্রাণের টাকা লুটপাট, ফায়দা লোটার রাজনীতি এবং স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ’ উত্থাপন করা হয়। নতুন কমিটি সংগঠনের মূল নাম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ ব্যবহার করছে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন নূর-রাশেদদের সঙ্গের অন্যতম নেতা এপিএম সোহেল। তাকেই নতুন কমিটির আহ্বায়ক এবং নূর-রাশেদদের অপর নেতা সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইসমাইল সম্রাট হয়েছেন সদস্য সচিব। এর প্রতিক্রিয়ায় নূর-রাশেদরা বিএনপি-জামায়াতের চিরাচরিত স্বভাব অনুযায়ী এই ঘটনাকে ‘সরকারের ষড়যন্ত্র’ বলে চালানোর চেষ্টা করছেন।

মূলত বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের দ্বিধা-বিভক্তি অপ্রকাশ্যে আগে থেকেই ছিল। সংগঠনের একজন ছাত্রীকে ধর্ষণ এবং সেই ছাত্রীর নূরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে অনশন ধর্মঘট তাদের ভাঙনকে ত্বরান্বিত করে। নূর যতই বলুন সরকারের ষড়যন্ত্র, তারপরও তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আগেই আনা হয়েছে সেগুলো যেমন গুরুতর তেমনি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এসব ধামাচাপা দেয়ার জন্য নূর মিডিয়ার বিরুদ্ধে যেমন বিষোদগার করেছেন তেমনি অনশনরত ছাত্রীকে ‘দুশ্চরিত্রা’ বলায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়। শুধু তাই নয়, ৭১ টেলিভিশন এই ইস্যুতে নূরকে ডেকেছিল তার বক্তব্য নেয়ার জন্য। নূর তো যানইনি, বরং একাত্তরের যে সাংবাদিক তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন তার সেল ফোন নম্বর ভাইরাল করে দেন। এরপরই শুরু হয় সাংবাদিককে গালাগাল। যে কারণে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ডিইউজে নূরকে ৭১-এর বিরুদ্ধে তার বক্তব্য প্রত্যাহার এবং ক্ষমা চাইতে আহ্বান জানিয়েছে। ডিইউজে সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম তপু এক মিডিয়া বিবৃতিতে বলেছেন, অন্যথায় ইউনিয়ন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

নূর সাধারণ ছাত্র ব্যানারে যে নির্বাচন করে ডাকসুর ভিপি হয়েছেন তার আগে কোটাবিরোধী আন্দোলন। সেই আন্দোলনের পেছনে ছিল ছদ্মবেশী শিবির-ছাত্রদল। পাশে আরেকটি, তা হলো ছাত্র ইউনিয়নের চরম সরকারবিরোধী অংশ। নূর নিজেও ছদ্মবেশী শিবির। নইলে কোটাবিরোধী আন্দোলন করবে কেন? তাদের কোটাবিরোধী আন্দোলন মূলত মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান তথা গোটা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ছিল। তখনই আমরা বলেছি এটি কোটাবিরোধী আন্দোলনের নামে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী আন্দোলন। কেননা স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর এবং শহীদদের সন্তানদের শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে ভারসাম্য সৃষ্টি এবং মূলধারায় নিয়ে আসার জন্য কোটা প্রথা চালু করেন। এতে পাহাড়ি আদিবাসী মঙ্গাপ্রবণ এলাকার জন্য যেমনটা ছিল তেমনি মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৩০ শতাংশ কোটা, ওই ৩০ শতাংশ তাদের গাত্রদাহ। মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের শত্রু জামায়াত-শিবির, রাজাকার, আলবদর এটি সহজ সমীকরণ। সবচেয়ে বড় কথা হলো মিলিটারি জিয়া-এরশাদ-খালেদার ২১ বছরের শাসনামলে একচেটিয়া রাজাকার সন্তান তথা বিএনপিসহ অন্যান্য স্বাধীনতাবিরোধীর সন্তানদের চাকরি দেয়া হয় সরকারের বড় বড় পদ ও বিভাগে। অর্থাৎ প্রশাসনকে রাজাকারীকরণ করা হয়। ইউনিভার্সিটি, মেডিকেল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটিতে জামায়াত-শিবির ও ছাত্রদলকে ভর্তি করানোর জন্য কোচিং সেন্টারের আড়ালে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা আজ আর কারো অজানা নয়। একটা সময় ছিল ফার্মগেট, ফার্মগেটের আশপাশে জাহানারা গার্ডেন, মনিপুরিপাড়া, কাজী নজরুল ইসলাম রোডের দুই পাশে কোচিং সেন্টারে ভর্তি ছিল। একেকবার প্রশ্ন পাস করতে গিয়ে তারা কেউ কেউ ধরাও পড়েছে। এসব কোচিং সেন্টারের সঙ্গে বিভিন্ন ইউনিভার্সিটি, মেডিকেল কলেজের কিছু জামায়াতি শিক্ষকের গোপন আঁতাত ও যোগাযোগ ছিল। তাদের মাধ্যমেই সব অপকর্ম করা হতো।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের সব আন্দোলন-সংগ্রামের প্রাণকেন্দ্র। এখানে ছাত্রদল-শিবির প্রকাশ্য ছাত্ররাজনীতি করতে পারছিল না। তাই নূরের মতো এক অখ্যাত অঞ্চলের ছদ্মবেশী শিবিরকে সামনে দিয়ে সাধারণ ছাত্রের ব্যানারে আন্দোলন করে। এটি জামায়াত-শিবিরের কৌশল। তারা বিভিন্ন সময়ে আধুনিক নাম দিয়ে সংগঠন করে এবং সেই সংগঠনের ব্যানারে ক্যাম্পাসে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। কোটাপ্রথাবিরোধী বা সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদও তেমনি কৌশলেরই অংশ। একটু গভীরভাবে লক্ষ করলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। সম্প্রতি নূর তার কিছু সহযোগী নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন এবং ধর্ষণের উল্লেখ করে বলেছেন জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে সংগঠিত এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হবে। মানববন্ধনে তার দুই পাশে দুই ওয়ানম্যান পার্টির নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না ও সাইফুল হক। হঠাৎ করে কেন ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে গেল তা বুঝতে কারো বাকি নেই। যে কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকার ডে-ওয়ান থেকেই কঠোর হস্তে দমন করে চলেছেন। এবং ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড নির্ধারণ করেছেন। এই মুহূর্তে সংসদ অধিবেশনে না থাকায় অধ্যাদেশের মাধ্যমে আইনটি করেন এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তাতে সঙ্গে সঙ্গে স্বাক্ষর করে আইন কার্যকর করার সুযোগ করে দেন। এই আইনে প্রথমে টাঙ্গাইলে ২০১২ সালে সংঘটিত এক মাদ্রাসাছাত্রীকে গ্যাং রেপ করায় ৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় দেয়া হয়েছে। এরপরও সরকারকে সরে দাঁড়ানোর নূরের বক্তব্যের পেছনে যে ষড়যন্ত্রের রাজনীতি আছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ এরপরও কিশোর রেপিস্টরা ভয়ঙ্কর রকম বেপরোয়া। অনশনরত ছাত্রীর মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অনেক কিছুই পরিষ্কার হয়ে যাবে। এখন তো নূরের বিরুদ্ধে সংগঠনের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

সর্বশেষ তথ্য হলো মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পরও ধর্ষণ থেমে নেই। ধর্ষকরা মনে হয় আরো বেপরোয়া। গত সোমবারের প্রথম আলোর প্রথম পৃষ্ঠার একটি সংবাদের শিরোনাম- চাকরির কথা বলে ডেকে নিয়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে ধর্ষণ, দৈনিক জনকণ্ঠের খবরÑ ঝাড়ফুঁকের নাম করে দুই বোনকে ধর্ষণের চেষ্টা, নারায়ণগঞ্জে এক পাষণ্ড ঝালমুড়ি খাওয়ানোর কথা বলে ৫ বছরের শিশু ধর্ষণ, ধর্ষকও ১৩ বছরের কিশোর এবং তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। জনকণ্ঠের ওই শিরোনামে দেশের বিভিন্ন স্থানে আরো অনেক ধর্ষণের ঘটনার উল্লেখ রয়েছে।

এখন যে কাজটি করা দরকার তা হলো স্পট বিচার, স্পট রায় এবং সঙ্গে সঙ্গে রায় কার্যকর। আমি এর আগের একটা লেখায় এই কথাটি উল্লেখ করেছিলাম। যে বাড়িতে ধর্ষণের ঘটনা ঘটবে সঙ্গে সঙ্গে সে বাড়িতে বিচার বসাবে স্থানীয় ডিসি তার সঙ্গে থাকবেন এসপি, জেলা জজ ও ম্যাজিস্ট্রেট, স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান, ওসি, তদন্ত ওসি, ইউপি চেয়ারম্যান, ওয়ার্ড মেম্বার। তারা ধর্ষিতার বাড়িতে বসবেন এবং বিচারকার্য শেষ করে তবেই উঠবেন। এই প্রক্রিয়া এজন্য প্রয়োজন যে, দেখা গেছে ভিক্টিম কেস না করলে থানা পুলিশ কেস রেকর্ড করে না, তদন্ত শুরু করে না। আইন প্রয়োগকারী তদন্তকারী যদি ঘুষখোর হয় তবে তো কোনো কথাই নেই। যতক্ষণ পর্যন্ত তার পকেটে টু-পাইস পড়বে না ততক্ষণ তিনি ধানাই-পানাই করবেন, তদন্ত শুরু করবেন না, তাছাড়া কে না জানে যারা ঘুষখোর তারা নিজের বাপ-মার কাছ থেকেও ঘুষ খেতে বাধে না। তদুপরি রয়েছে পিবিআই বা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন, এসবি, ডিবি কত কী? যে কারণে কালক্ষেপণ স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া ধর্ষক যদি হয় প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য তাহলে তো কোনো কথাই নেই। যেন ধর্ষিতাই ওই ধর্ষককে ধর্ষণ করেছে।

সর্বশেষ যে কথাটি বলা দরকার তা হলো প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা এই কোভিডের মধ্যে যেভাবে সাফল্যের সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন, কোভিড মোকাবিলায় সরকার আধুনিক পদ্ধতি অবলম্বনে ১৭ কোটি মানুষকে প্রতিনিয়ত সতর্ক করেছেন, সাহায্য করছেন, আমাদের সাত পুরুষের ভাগ্য যে এমন একজন বিশ্বমাপের রাষ্ট্রনায়ক আমাদের প্রধানমন্ত্রী। এজন্য সবার আল্লাহ পাকের শুকরিয়া আদায় করা উচিত এবং প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করা দরকার।

মুহম্মদ শফিকুর রহমান: সংসদ সদস্য, সাবেক সভাপতি ও সা. সম্পাদক; জাতীয় প্রেস ক্লাব।

[email protected]

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়